ভারতের উপহার কোভিশিল্ড না কোভ্যাক্সিন, প্রশ্ন রিজভীর

নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে উপহারের ২০ লাখ ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তার প্রশ্ন, ভারত কোনটি পাঠিয়েছে কোভিশিল্ড’ নাকি ‘কোভ্যাক্সিন’।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন।

রিজভী বলেন, ‘কোভিশিল্ড’ ও ‘কোভ্যাক্সিন’— এই দুটিই উৎপাদন করছে ভারতের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশে কোনটি পাঠিয়েছে? ‘কোভিশিল্ড’ নাকি ‘কোভ্যাক্সিন’? ভারতে ভ্যাকসিন গ্রহণের পর চার দিনে মারা গেছে তিন জন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ছয়শ মানুষ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিতর্কিত কোভ্যাক্সিন নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকদের বড় অংশ। তারা বলেছেন, ’কোভ্যাক্সিন নিয়ে আমরা সন্দিহান ও সংশয়ী।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স তার প্রতিবেদনে বলেছে— ভারত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ভারত যদি দেখে এটা নিরাপদ, তখন তারা ভারতের জনগণকে এই ভ্যাকসিন দেবে।’

ভারত নিজেরা এর পরীক্ষা শুরু করবে আগামী মার্চ থেকে। ওই ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকারের ছাড়পত্র পাওয়ায় বহু বিশেষজ্ঞ বিস্মিত। সুতরাং আমরা কি বিপজ্জনক গিনিপিগে পরিণত হয়েছি ভারতের টিকা পরীক্ষার?,’— প্রশ্ন রুহুল কবির রিজভীর।

রিজভী বলেন, ‘এই সরকার শুরু থেকেই কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলেছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আতঙ্ক ও ভীতির সুযোগে ত্রাণ বিতরণের নামে সারাদেশে দুর্নীতি ও লুটপাট, ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সহযোগিতায় কোভিড-টেস্টের ভুয়া সনদপত্র কেলেঙ্কারি, করোনা চিকিৎসার নামে ভুয়া হাসপাতাল চালু, মাস্ক, পিপিই সরঞ্জাম, সেনিটাইজার খরিদ-টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির মচ্ছব— এতসব অপকর্মের জনগণের কাছে এই সরকারের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’