জ্বর সর্দি কাশি থাকলে ভ্যাকসিন নয়

নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্যকর্মীরাই তথা প্রত্যক্ষ কোভিড যোদ্ধা হিসেবে ডাক পড়লেও জ্বর, সর্দি, কাশির সমস্যা চলতে থাকলে কোনওভাবেই ভ্যাকসিন নয়। শরীর সুস্থ হলে ফের তিনি করোনার টিকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ এবং কর্ণাটকের বেলারিতে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় সতর্ক হয়ে রাজ্যগুলিকে একথাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ৫৮০ জনের। এর মধ্যে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি।

মোরাদাবাদের ৫২ বছর বয়স্ক জেলা হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় এবং বেলারির ৪৩ বছরের স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর কারণ করোনার ভ্যাকসিন নয়। আগে থেকেই তাঁদের অন্য‌ সমস্যা ছিল। শেষে হার্ট অ্যাটাকেই মারা গিয়েছেন তাঁরা। তাই সাময়িক স্বস্তি হলেও করোনার টিকা ঘিরে মানুষের উদ্বেগ কমছে না। সেই মতো স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মনোহর আগনানি রাজ্যগুলিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘শরীর সুস্থ না থাকলে আপাতত কোনও ব্যক্তিকে করোনার টিকা নয়। ইঞ্জেকশন নিলে যাঁদের রক্তের প্লেটলেট সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়, টিকা দেওয়ার সময় তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’

করোনার টিকার কারণে মৃত্যু হয়েছে, কোনওভাবেই এমন অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে চায় না কেন্দ্র। বিশেষত, টিকা ছাড়াই যেখানে সাধারণভাবে ক্রমশ সুস্থ হয়ে করোনা আক্রান্তদের বাড়ি ফেরার সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ২ লক্ষ ১১ হাজার ৩৪২ জন। করোনাজনিত কারণে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও কমছে। ১৭ জানুয়ারিতে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১৪৫ জনের, যা গত ৮ মাসে সর্বনিম্ন। গত ২৪ ঘন্টায় ১৫টি রাজ্যে মৃত্যুর খবর নেই। এমতাবস্থায় টিকা ‌ইস্যুতে অতি সাবধানতা অবলম্বন করছে কেন্দ্র।

অন্যদিকে, ‘ও’ এবং ‘এ’ গ্রুপের রক্তের মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম ব঩লেই সমীক্ষায় উঠে এল। ধূমপায়ী এবং নিরামিষাশীদের মধ্যেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছেন বাঙালি গবেষক শান্তনু সেনগুপ্ত। কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অব সায়েন্টেফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (সিএসআইআর)র অধীন ইনস্টিটিউ অব জেনোমিক্স অ্যান্ড ইন্ট্রিগ্রেটিভ বায়োলজির এই বিজ্ঞানী জানান, কলকাতা সহ গোটা দেশের ৪০ টি জায়গায় ১০ হাজার ৪২৭ জনের ওপর সেরোলজিক্যাল সমীক্ষা হয়েছে। তার মধ্যে ১০.১৪ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির সন্ধান মিলেছে। সেখানেই দেখা গিয়েছে, ‘ও’ গ্রুপের রক্তের মানুষের ভাইরাস মোকাবিলা করার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। তারপরই ‘এ’ গ্রুপ। কিন্তু ‘বি’ এবং ‘এবি’ গ্রুপের রক্তের মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। একইভাবে যারা ধূমপান করেন না, তাদের চেয়ে ধূমপায়ীদের সংক্রমণের সম্ভাবনা কম। যদিও এর অর্থ এই নয় যে ধূমপানে করোনা আটকায়, স্পষ্ট করে দেন তিনি।
সূত্র. দৈনিক বর্তমান

ঢাকানিউজ২৪ডটকম