মোংলায় বিএনপির মেয়র ও ১২ কাউন্সিলরের ভোট বর্জন

মোংলায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও জামায়াত সমর্থিত ১২ কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোট বর্জন
মোংলায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও জামায়াত সমর্থিত ১২ কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোট বর্জন

নিউজ ডেস্ক:  মোংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচনে  সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, কেন্দ্র দখল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ এনে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. জুলফিকার আলী তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে জুলফিকার ছাড়াও বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ১২ জন কাউন্সিলর প্রার্থীও একযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী জুলফিকার আলী অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে নেয় আওয়ামী সমর্থকরা। তারা সাধারণ ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি পাননি। ভোটের আগের দিন রাতভর তার কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় ও মারধর করে। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে এই রকম পরিবেশ হতে পারে না, পুরোপুরি বাকশাল কায়েম করা হয়েছে। প্রতিপক্ষরা শুক্রবার রাতে ২৭ জনসহ শনিবার সকাল পর্যন্ত তার প্রায় অর্ধশত লোকজনকে মারধর করেছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হোসেন ও আলাউদ্দিন বলেন, ভোটারদের উপস্থিতি ভালো থাকলেও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। জোর করে তাদের ভোট নেওয়া হয়েছে। আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম বলেন, র‌্যাব-পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী এমরান হোসেন অভিযোগ করেন, ধানের শীষের কর্মীদের ওপর নৌকার কর্মীরা নানাভাবে হামলা চালাচ্ছে। এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে। অথচ প্রশাসন এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। তবে দুপুরের পর ভোটারদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে আসে।