বাংলাদেশের হিন্দুরা কি বেনাপোলের রেললাইনে আশ্রয় নিবে: মনোরঞ্জন ঘোষাল

সুমন দত্ত: বাংলাদেশের হিন্দুরা কি বেনাপোলের রেল লাইনে আশ্রয় নিবে? এদেশে অসাম্প্রদায়িক সরকার থাকতে পুলিশ প্রশাসনকে আইন অনুসারে কাজ করাতে সংবাদ সম্মেলন করতে হয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় কে। এসব দেখার জন্য বেঁচে আছি এখনো।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে অসহায় এক হিন্দু পরিবার কে মুসলিম প্রতিবেশী অবরুদ্ধ করে ফেললে ও তাদেরকে মৃত্যুর হুমকি দিলে শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাবের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠ সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন ঘোষাল। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরামের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন বক্তব্য রাখেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানিক চন্দ্র সরকার ও সভাপতি মনোরঞ্জন ঘোষাল, চিত্ত রঞ্জন কর প্রমুখ। এদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী রিপন সাহার পরিবারের বাকী সদস্যরা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর বাড়ি জায়গা জমি জোর করে দখল হয়, পুলিশ না দেখার ভান করে। এমনকি হিন্দু পুলিশ তদন্তে পাঠিয়েও কোনো কাজ করে না থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের নগর জোয়ারে সংখ্যালঘু রিপন সাহার পরিবারের ওপর এ ঘটনা ঘটে।

আদালতের জারি করা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা অমান্য করে প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা রিপন সাহার বাড়িঘর দখল , ভাংচুর ও জোর করে দেয়াল নির্মাণ করে। তাদের আসা যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এজন্য থানায় অভিযোগ দিতে চাইলে। অভিযোগ নেয় না পুলিশ।

মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় জমি হারানো পরিবার।

মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, এদেশে আমরা হিন্দু মুসলমান খ্রিস্টান বৌদ্ধ সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করেছি। আজ আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে নেমেছে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি। এদেরকে মদদ দিচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। রিপন সাহার বাড়ি ঘরে হামলা করেছে। তাদের জমিতে দেয়াল তুলেছে। সেখানে আদালতের ১৪৫ ধারা জারি ছিল। সেই ধারা ভেঙ্গে নাজিম উদ্দিন গং অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। অথচ পুলিশ এসব ঘটনা না দেখার ভান করছে।

নাজিম উদ্দিন গং এর লোকজন রিপন সাহার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাদের লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সেই সব হুমকির অডিও তাদের কাছে রয়েছে। এসব থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু এই পরিবারটিকে সেখানে শান্তিতে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছে নাজিম উদ্দিন গং।

তারা বাসা থেকে বের হতে পারছে না। এমন অবস্থায় পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়ে কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। পুলিশ সুপারের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। ডিসিদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। দেখছি দেখবো বলে সময়ক্ষেপণ করছে। কোথায় যাবে এই সংখ্যালঘু পরিবার?

মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, আমরা হিন্দুরা একজন আরেকজনের সমস্যা দেখে চুপ থাকি। ভাবি এটাতো আমার কোনো সমস্যা না। একদিন সেই সমস্যা যখন এই চুপ থাকাদের ঘাড়ে এসে পড়বে তখন সঙ্গে কেউ থাকবে না। আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ না হলে আমাদের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলো। তারপরও কেন আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হয়। আমরা কি এভাবে উচ্ছেদ হয়ে বেনাপোলের রেললাইনের পাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিব। সেই পরিস্থিতি কি এখনো আছে? সোনারগাঁওয়ের ওই ডিসি এসপিই বাংলাদেশ নয়। স্থানীয় এমপি আছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছে, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী আছেন। তারা থাকতে নিরাশ হই না। একটি হিন্দু পরিবারকে বাইর থেকে আটকে ফেলা। তাদের আসা যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া একটি অপরাধ। বাংলাদেশের সংবিধান সেই অনুমতি দেয় না। আমরা এই ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাবো। তিনি অবশ্যই এর বিচার করবেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যদি আমাদের সামনের গেট দিয়ে যেতে না দেয়, পিছনের গেট একটা আছে। সেখান দিয়ে তার কাছে যাওয়া যায়। তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

রিপন সাহা বলেন, আমরা কি এই দেশে থাকতে পারবো না। আমরা এই বিরোধের সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা আমাদের ভূমিতে থাকতে চাই। এদিন রিপন সাহার পরিবারের নারী সদস্যরা কান্না জড়িত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন। তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বাড়ি ঘর থেকে চলে যাবার।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম