সত্যিই কি Facebook আপনার সব WhatsApp মেসেজ পড়বে?

নিউজ ডেস্ক: WhatsApp-এর নতুন প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে বিতর্ক চলছেই। সেই চাপের মাঝেই মঙ্গলবার একপ্রকার বাধ্য হয়েই ট্যুইট করে WhatsApp। এই ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম জানায়, পলিসি পরিবর্তনের এই নতুন নীতি বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কাউকে মেসেজ করার ক্ষেত্রে নয়। বরং এটি তাঁদের জন্য, যাঁরা Business অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন বা কোনও বিজনেস অ্যাকাউন্টে মেসেজ পাঠান, খোলসা করেই জানায় WhatsApp।

এই বিজনেস হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদেরই মেসেজ বা কোনও ইউজার যদি কোনও বিজনেস অ্যাকাউন্টে মেসেজ পাঠান, এবার থেকে সেগুলিই পড়তে পারবে Facebook এবং মার্কেটিংয়ের জন্য সেই সব মেসেজও ব্যবহার করা হতে পারে বলে WhatsApp-এর তরফে জানানো হয়েছে। আর WhatsApp-এর এই বার্তার জন্যই বহু গ্রাহকের মধ্যে একপ্রকার ধন্দ্বের অবকাশ দেখা গিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন যে, ‘পরিবার বা বন্ধুবান্ধবকে মেসেজ’ এবং ‘বিজনেসে মেসেজ’ পাঠানোর মধ্যে আলাদা কোথায়?

সচরাচর কাছের মানুষ-বন্ধুবান্ধবের কাছে WhatsApp-এর মাধ্যমে যে বার্তা পাঠান, তার অর্থ কী –

* WhatsApp বা Facebook-এর কেউই আপনার গোপনীয় মেসেজ দেখতে বা আপনার কোনও WhatsApp কল শুনতে পায় না। ব্যক্তিগত সব তথ্যই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন দ্বারা সুরক্ষিত এবং নয়া প্রাইভেসি পলিসিতেও তাই হতে চলেছে।

* আপনার WhatsApp-এ কে মেসেজ করছেন বা কে কল করছেন, তার কোনও ট্র্যাক এই ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম রাখে না। কারণ এই জাতীয় ডেটা ডাম্পকে ‘গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা ঝুঁকি’ হিসাবে বিবেচনা করে WhatsApp।

* আপনার কোনও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে লোকেশন শেয়ার করলে, তা-ও দেখতে পায় না WhatsApp। কারণ সেটিও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন দ্বারা সুরক্ষিত।

* WhatsApp কোনও ইউজারের কন্ট্যাক্ট Facebook তো বটেই, এমনকী অন্য কোনও অ্যাপের সঙ্গে শেয়ার করবে না।

* কোনও WhatsApp গ্রুপ থেকে কোনও ডেটা Facebook-এর বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনও কার্যসিদ্ধির জন্য শেয়ার করা হবে না, কারণ এই সব কমিউনিকেশন আদতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। সুতরাং, আপনি যদি এখনও কোনও স্কুলের গ্রুপ বা অফিসের গ্রুপ বা বন্ধুবান্ধবের কোনও গ্রুপে WhatsApp-এ যুক্ত থাকেন, তাহলে চিন্তার কোনও কারণ নেই। কোনও মেসেজই Facebook-এর কাছে পাঠাবে না WhatsApp।

এখন এই Business মেসেজের অর্থ ঠিক কী –

* WhatsApp এবং Facebook-এর প্যারেন্ট কোম্পানি একই – Facebook। এই দুই অ্যাপই তখন খুব বেশি পরিমাণে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যখন কোনও মেসেজ বিজনেস অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। আর এখানেই লাগু হবে WhatsApp-এর নতুন প্রাইভেসি পলিসি।

* WhatsApp-এর তরফে বলা হচ্ছে, বড়সড় কোনও ব্যবসাকে এবার থেকে ‘Facebook-এর সুরক্ষিত হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করতে হবে। তার কারণ হল, কাস্টোমারদের সঙ্গে WhatsApp চ্যাট ম্যানেজ করা, তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং সাহায্যকারী তথ্য যেমন কোনও কিছু কেনাকাটির রিসিপ্ট প্রদান করার জন্য।’

* WhatsApp আরও বলছে, ‘আপনি যদি কোনও বিজনেসের সঙ্গে ফোন, ইমেল বা WhatsApp-এর মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, তাহলে WhatsApp তার মার্কেটিং উদ্দেশ্যের জন্যই তার সবকিছু দেখতে পাবে, যার মধ্যে রয়েছে Facebook-এর বিজ্ঞাপনও।’ তবে WhatsApp নিশ্চিত বার্তা সাফ জানাচ্ছে, এবার থেকে Facebook হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করে কোনও বিজনেস বা বিজনেস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কথোপকথন লেবেল করে দেওয়া হবে।

* যখন আপনি কোনও বিজনেস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কমিউনিকেট করবেনষ এবার থেকে সেই লেবেল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আপনি নিজেই ঠিক করে নিতে পারবেন যে, আদৌ সেই কথোপকথনে আপনার থাকা উচিত কী না। কারণ, আপনার সেই চ্যাটের সমস্ত তথ্যই টার্গেটেড বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

* আপনি যদি কোনও বিজনেসের জন্য WhatsApp ব্যবহার করেন এবং আপনার অনেক ক্লাইন্ট থাকে, তাহলে অন্য দিকে সেই বিজনেসও কিন্তু আপনার সমস্ত কথোপকথন দেখতে পারবে এবং আপনার পছন্দ-অপছন্দ সবই তার জানা। Facebook প্ল্যাটফর্মে আপনাকে বিজ্ঞাপন দেখাতে সাহায্য করবে এই তথ্য। এখন আপনি যদি কোনও বিজনেসের মালিক হোন, তাহলে এই সব তথ্য বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য Facebook এবং অন্যান্য সার্ভিসে কাস্টোমারকে টার্গেট করতে সাহায্য করবে।

এখন WhatsApp-এর নতুন প্রাইভেসি পলিসির ফলে Facebook-এ কী হবে আর কী হবে না –

* আপনি যদি Facebook-এ থাকেন, তাহলে ব্যক্তিগত চ্যাটের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না। এখন যদি কোনও বিজনেস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আপনার কথাবার্তা হয়, তাহলে সেই ব্যবসা সম্পর্কিত কিছু বিজ্ঞাপন Facebook-এ দেখতে পাবেন। এমনকী Instagram-এও দেখতে পাবেন।

* আপনি যদি Facebook-এ না থাকেন, তাহলে তো কোনও প্রশ্নই নেই। Facebook থেকে কোনও বিজ্ঞাপন আপনার কাছে পৌঁছবে না।

* Facebook-এ যদি আপনার বিরাট ফলোয়ার্স থাকে, তাহলেও WhatsApp আপনার সব ব্যক্তিগত তথ্য, গ্রুপ চ্যাট বা নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সবকিছুই অত্যন্ত সুরক্ষিত ভাবেই রাখবে। তবে বিজনেস ফিচার্স ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একটু বেশি পরিমাণেই সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ আপনার পছন্দ বহু মানুষেরই নখদর্পণে।
ছেড়ে বিকল্প কোনও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার দরকার আছে? উত্তরটা হল না। কারণ WhatsApp আপনার ব্যক্তিগত কোনও মেসেজই বুঝতে পারে না, কারণ সেগুলি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। আর তা অন্য মিডিয়াম অর্থাৎ Facebook বা Instagram-এ তো পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং, নির্ভয়ে ব্যবহার করতে পারেন WhatsApp। আর একান্তই যদিWhatsApp-এর এই প্রাইভেসি পলিসি আপনাদের খটমট লাগে এবং বিকল্প অন্য কোনও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের খোঁজ করেন, সে ক্ষেত্রে Telegram বা Signal-এর মতো দ্বিতীয় কোনও অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র এই সময়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম