রয়েল টিউলিপ হোটেল ও ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে ডিসকাউন্ট নিয়ে সমঝোতা

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :  কক্সবাজারের সবচেয়ে বিলাসবহুল রাজকীয় সমুদ্রবিলাসের জন্য আন্তর্জাতিক মানের হোটেল রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর মধ্যে ডিসকাউন্ট অফার সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে স্বাক্ষরিত হয়।

ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা-এর উপস্থিতিতে ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ মোশাররফ হোসাইন এবং রয়েল টিউলিপের সিইও কাজী এ.এস.এম আনিসুল কবির নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় রয়েল টিউলিপের রুম এবং অন্যান্য সেবাসমূহে ইসলামী ব্যাংকের খিদমাহ (ক্রেডিট) কার্ডধারীগণ ৫০% ও ডেবিট কার্ডধারীগণ ৪৫% ডিসকাউন্ট সুবিধা পাবেন।

ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ কায়সার আলী ও মোঃ ওমর ফারুক খান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আলী, জে. কিউ এম হাবিবুল্লাহ, এফসিএস, তাহের আহমেদ চৌধুরী, এ এ এম হাবিবুর রহমান ও মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ শাব্বির, মুহাম্মদ সাঈদ উল্যাহ ও জি এম মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন কাদের, বিজনেস প্রমোশন অ্যান্ড মার্কেটিং ডিভিশন প্রধান মোঃ মিজানুর রহমান ভুঁইয়া এবং রয়েল টিউলিপের সেলস্ ডিরেক্টর মাহমুদ রাসেল সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

রাজকীয় সমুদ্রবিলাসের জন্য রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড :

কক্সবাজারের সবচেয়ে বিলাসবহুল রাজকীয় সমুদ্রবিলাসের জন্য টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রবাল পাথর আর সাগরের সুনীল জলের ছোঁয়ায় এক অনুপম সৌন্দর্যের হাতছানি দিয়ে ডেকে নিচ্ছে ইনানী বিচ। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণে এই বিচ। মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশেই ইনানী বিচ ছুঁয়ে প্রায় ৫০ বিঘা বিস্তৃত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ‘রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড’। দৃষ্টিনন্দন এই রিসোর্টের ঠিক কাছেই রয়েছে হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়ানগর ও বার্মিজ মার্কেট। পাহাড় আর সমুদ্রের মিশ্রণ ও প্রকৃতিনিঃসৃত যূথবদ্ধ সৌন্দর্য আপনার মননে সৃষ্টি করবে এক অপার মুগ্ধতা।

রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্টের লবিতে বসে চোখের সামনেই পাওয়া যায় পুরো সমুদ্র। সাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিলাসবহুল এই হোটেল আপনাকে দিচ্ছে এক রাজকীয় সমুদ্রবিলাসের সুযোগ। শুধু কি তাই, এখানে এসে ঘোরাঘুরির মাধ্যমে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্টে রয়েছে ওয়াটার পার্ক, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট, শিশুদের জন্য থ্রিডি ভিডিও গেমস কর্নার, বিলিয়ার্ড, ব্যায়ামাগার ও স্পা। রয়েছে প্যারাসেইলিং, স্নোরকেলিং, ডিপ সি ফিশিং ও স্পিডবোট রাইড সুবিধা। দুটি সুইমিংপুল ও জ্যাকুজি রয়েছে, যার একটি শুধু নারীদের জন্য।

রিসোর্টের অতিথিদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘রেডিয়ান্স স্পা’। খাওয়া ও পানাহারের জন্য চারটি বিশেষায়িত রেস্টুরেন্ট, একটি মাল্টি কুজিন ডাইনিং, আইসক্রিম পার্লার ও জুস বার। যেকোনো ধরনের উৎসব আয়োজন বা সম্মেলনের জন্য রয়েছে এক হাজার মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১০ হাজার বর্গফুট বিস্তৃত জায়গা।

পাঁচতারা মানের অসাধারণ রিসোর্ট স্পেনীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। এই নির্মাণশৈলী রিসোর্টটিকে আরো নান্দনিক করে তুলেছে। এর মাঝে রয়েছে সবুজের মোহনীয় ছোঁয়া। পরিবেশবান্ধবভাবে নির্মিত হওয়ায় রিসোর্টটির জাঁকজমক ও জৌলুসের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলা যায়।

অভিজাত কক্ষ রয়েছে রয়েল টিউলিপে। ফ্যামিলি স্যুট, নবদম্পতিদের জন্য লাক্সারি হানিমুন স্যুট। ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে হিল ভিউ ও সি ভিউয়ের সমন্বয়ে সুপিরিয়র কক্ষ। প্যানারমিক সি ভিউ স্টুডিও স্যুটে মিলবে কিচেন, ডাইনিং ও লিভিং এরিয়া।

টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের ম্যানেজার ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস এ কে এম আসাদুর রহমান জানান, বিশ্ববিখ্যাত লোভার গ্রæপ অব হোটেলসের গোল্ডেন টিউলিপ হসপিটালিটি ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘রয়েল গোল্ডেন টিউলিপ’-এর চেইনে এই রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েল গোল্ডেন টিউলিপ বিশ্বের ৪০টি দেশে এক হাজারের বেশি হোটেল পরিচালনা করছে। সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডও আন্তর্জাতিক মানেই পরিচালিত হচ্ছে।

কক্সবাজারের ইনানী বিচের জালিয়াপালং এলাকায় সমুদ্রের কোল ঘেঁষে নির্মিত বিলাসবহুল এই হোটেলটির ৪৯৩টি কক্ষে একসঙ্গে থাকতে পারবে ৬০০ জন। রয়েছে চারটি রেস্টুরেন্ট। ইন্টারন্যাশনাল টাইম শেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে হোটেলটি সবচেয়ে বড় হোটেল, যার প্রতিটি কক্ষের ন্যূনতম ভাড়া প্রতি রাত ৯ হাজার টাকা। সেখানে থাকা যাবে চারজন। একই খরচে সকালের নাশতাও মিলবে। এ ধরনের কক্ষে রয়েছে দুটি টয়লেট, খাবার প্লেট, গøাস, চামচ, রান্নার চুলা থেকে শুরু করে কিচেনের সব সরঞ্জাম।

হোটেলটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিটি কক্ষ থেকেই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ দেখা যায়। আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের সব সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই হোটেলটিতে দুটি কৃত্রিম ‘প্রাইভেট বিচ’ রয়েছে, যার একটি বিদেশি পর্যটকদের জন্য, অন্যটি দেশি পর্যটকদের জন্য।

হোটেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ডেস্টিনেশন স্পা ও বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা।

ঐতিহ্যবাহী থাই স্পা ও নানা ধরনের অ্যারোমা থেরাপি, আইসক্রিম স্টল, পার্লার, কন্টিনেন্টাল, প্যান এশিয়ান, ইটালিয়ান ও বাঙালিসহ হরেক স্বাদের খাবারের সুবিধা রয়েছে এখানে। আরো আছে বড় দুটি সুইমিংপুল, থাই স্পা, নিজস্ব ব্যবস্থাপনার সমুদ্রসৈকত, ফিটনেস সেন্টার, শিশুদের জন্য থ্রিডি ভিডিও গেমস কর্নার, দেশের সানকিন বার, ইন্টারন্যাশনাল বার, লবি জুস বার ও ক্যাফে।

এ ছাড়া রয়েছে ১০ হাজার বর্গফুটের মিলনায়তন, যেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ধারণক্ষমতা এক হাজার জন।

হোটেলে এসে আপনি ঘোরাঘুরির পরিপূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। কারণ এর ঠিক কাছেই রয়েছে হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়া নগর ও বার্মিজ মার্কেট।