আনুশকা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চায় পরিবার

সুমন দত্ত: কলাবাগানের স্কুলছাত্রী আনুশকা হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে তার পরিবার। হত্যাকারীরা সমাজের প্রভাবশালী হওয়ায় ও পুলিশের সন্দেহজনক আচরণে এই হত্যা মামলার বিচার সুষ্ঠু নাও হতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনুশকাকে নিয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে। যা সাইবার অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে আনুশকাকে যারা হত্যা করেছে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। এটি একটি দুর্ঘটনা বলে মামলা ধামাচাপা দেয়া হবে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন থেকে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এদিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনুশকার বাবা আল আমিন ও মা শাহনূর আমিন। আরো উপস্থিত ছিল অনুশকার বান্ধবী নেহা জামান ও আসামি দিহানের সহপাঠী শ্রাবণ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদ পক্ষ থেকে বলা হয় ধর্ষণের শিকার আনুশকারা মা বাবা তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচারের জন্য আবেদন করেছে। এজন্য তাদের একটি তদন্ত দল আনুশকাকে দেখতে গিয়েছিল। তিন সদস্যের ওই তদন্ত দল ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণে এমন কিছু লক্ষ্য করেছে যা তাদের মনে এই সন্দেহ দানা বেধেছে যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সুষ্ঠু হবে না।

তদন্তের আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে ইচ্ছুক নয়। মামলার বাদী আনুশকার পরিবার যেভাবে এজাহার দায়ের করতে চেয়েছিল পুলিশ সেভাবে সেটা করতে দেয়নি। ঘটনাস্থলে যারা ছিল তাদেরকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। শুধু একজনের নামে অভিযোগ গঠন করে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দিহানের সঙ্গে তার তিন বন্ধু ছিল এদেরকে হাসপাতালে দেখেছে আনুশকার মা। তাদেরকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। যে বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে সেই বাড়ির দারোয়ান দুলাল পালিয়ে গিয়েছিল প্রথমে, পরে তাকে গ্রেফতার করলেও তার কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি। অথচ সেই দারোয়ান সবকিছুই জানতো।

আসামি দিহানের বাবা আবদুর রইফ একজন সাবেক সাব রেজিস্টার। পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। এজন্য এই তদন্ত ঠিক মতো অগ্রসর হচ্ছে না। মহিলা পরিষদের দাবি এই হত্যা মামলার তদন্ত স্বচ্ছভাবে হোক। প্রকৃত আসামিরা ধরা পড়ুক।

আনুশকার মা শাহনুর আমিন বলেন, আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়েআসমিরা। পরে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। আর সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে সে স্বেচ্ছায় সেখানে গিয়েছিল। আমার মেয়ে সে রকম ছিল না। আসামি দিহান আমাকে মিথ্যা বলে সেদিন হাসপাতালে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। আমাকে ফোনে বলা হয়েছিল আমার মেয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আছে। অথচ আমি গিয়ে দেখি আমার মেয়ে বেঁচে নেই। আমার যাবার আগেই সে মারা গিয়েছিল। পরে আমার বুঝতে বাকী নেই কীভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি মোবাইল ফোনে আমার মেয়ের মৃত দেহের ছবি তুলি। যেখানে আমারে মেয়ের লাশের পিঠে আঘাতের চিহৃ দেখতে পাই। এদিকে তদন্তকারী ডাক্তার বলছে, আমার মেয়ের দেহে কোনো আঘাতের চিহৃ নেই। সংবাদ সম্মেলনে মোবাইলে তোলা সেই ছবি দেখান তিনি।

আনুশকার বাবা আল আমিন বলে, আমার মেয়ে আমার কাছে ছিল মায়ের মতো। আমি আমার মাকে হারিয়েছি। কোথাও গেলে আমার মেয়ে আমাকে বলে যেত। সেদিনও সে বলে গিয়েছিল। এমনকি যখন তাকে আটকে ফেলা হয় সেদিনও সে ফোন দিয়ে আমাকে জানিয়েছিল। আমি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় সেই ফোন ধরতে পারিনি। সেদিন ফোন ধরতে পারলে আজ এমনটা হতো না। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।

আনুশকার বান্ধবী নেহা জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনুশকাকে নিয়ে যেসব ভিডিও ছবি প্রচার হচ্ছে তা মিথ্যা। আনুশকা তেমন মেয়ে ছিল না। তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। আমরা আমাদের সহপাঠী হত্যার বিচার চাই।

দিহানের বন্ধু শ্রাবণ চৌধুরী বলেন, নিজেকে দিহানের সহপাঠী পরিচয় দিতে আজ লজ্জা লাগছে। একজন ধর্ষক সে। তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমরা আনুশকার হত্যার ন্যায় বিচার চাই।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম