বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি থেকে মো. আবুল কাশেম বহিষ্কার

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান (আতিক)

সুমন দত্ত: আর্থিক দুর্নীতি জড়িত থাকায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হওয়ার কারণে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে মো. আবুল কাশেমকে। বহিস্কৃত আবুল কাশেম ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সংগঠনকে ভেঙ্গে বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান (আতিক)। এদিন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিপ্রা পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মু. রানা আসিফ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিপ্রা সরকার ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সেলিনা আক্তার।

সভাপতি আতিক বলেন, দেশে আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার রয়েছে। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে এই জাতি স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার সেই স্লোগানকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম শিক্ষকদের দিতে বারণ করেন। একে একটি রাজনৈতিক দলের স্লোগান উল্লেখ করে তা বয়কটের আহবান জানান। এ নিয়ে তিনি সংগঠনকে ভেঙে দুর্বল করার চক্রান্তে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০১৮ সালে তিনি প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মন্ত্রী, সচিব ও ডিজির নাম ভাঙ্গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। পরে টাকা নিয়ে কাজ না করায় প্যানেল শিক্ষকরা তাকে টাকা ফেরত চাপ দিয়ে তিনি ৩ কোটি টাকা ফেরত দেন বলে বিভিন্ন সূত্রে শোনা যায়। এখনো অনেকে টাকা ফেরত তিনি দেননি। ধারণা করা হয় তিনি প্যানেল শিক্ষকদের কাছ থেকে ৯ কোটি টাকা নিয়েছেন। এসব অভিযোগের তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে এগিয়ে আসার আহবান জানান বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ অন্যরা।

তিনি বলেন, আবুল কাশেম ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনকে ভেঙে বিভিন্ন দলে উপদলে ভাগ করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এভাবে শিক্ষকদের এই বৃহৎ সংগঠনকে দুর্বল করতে চাচ্ছেন তিনি। এসব শৃঙ্খলা বিরোধী কাজের জন্য তাকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসারে তাকে বহিষ্কার করা হলো। তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদ খারিজ করা হলো।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম