জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসি

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসি

নিউজ ডেস্ক:   ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ প্রণয়ন করে এবং আইনটিকে আরো বেশী কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার পুনরায় ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন ও ২০১৫ সালে বিধি প্রণয়ন করেন। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সকল পাবলিক প্লেস ও পরিবহণ ধূমপানমুক্ত এবং আইন অমান্যে রয়েছে জেল ও জরিমানার বিধান। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পীকার সামিট ২০১৬ তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে অঙ্গিকার প্রদান করেন “২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করা হবে”।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাকের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং এটি করোনা সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপান শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং শ্বাসজনিত রোগের তীব্রতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে।

দেশের বিশাল অংঙ্কের এক জনসংখ্যা যোগাযোগ ক্ষেত্রে পাবলিক পরিবহনের উপর নির্ভরশীল। দেশের অধূমপায়ী জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় জরুরী পাবলিক পরিবহনে তামাকমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এর উদ্যোগে সিটিএফকের সহায়তায় গত ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে রাজধানীর ২২টি রুটে এবং ৪১৭টি ননএসি বাসে ক্রসসেকশোনাল জড়িপ কার্যটি পরিচালিত হয়। জড়িপ পরিচালনা কল্পে দৃশ্যমান হয় যে ৯১.৩% চালক ও হেলপারগণ সরাসরি বাসে ধূমপান করে থাকে।এবং ১০০% পাবলিক পরিবহন (বাস) এ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে ধূমপানমুক্ত সাইনেজ পাওয়া যায়নি। সর্বপোরি ১০টি বাসের মধ্যে প্রায় ৯টি বাসেই ধূমপানের নির্দশণ পাওয়া যায়।এ জরিপ ফলাফল থেকে প্রতিয়মান হয় যে ঢাকা শহরের ১০০% পাবলিক পরিবহন (বাস) এ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না।যদিও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে সকল পাবলিক পরিবহন ১০০% ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে।অপরদিকে গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ অনুসারে এদেশে ১৫ বছরের উর্ধ্বে ৩৫.৩% প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য (ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন) ব্যবহার করে।

বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান না করেও পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হচ্ছে বহু মানুষ; পাবলিক পরিবহনে ৪৪% মানুষ পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হয়। পাবলিক পরিবহনের ড্রাইভার, হেলপার বা কন্ডাক্টরের ধূমপানের ফলে বাসে উপস্থিত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে প্রতিবার। এভাবে প্রতিদিন অগণিত মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে পাবলিক পরিবহনে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আইন সম্পর্কে সচেতনতা কম, তামাকজাত প্যণ্যের ব্যাপক প্রচারণা, তামাকজাত দ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং সর্বোপরি আইনের সঠিক ও যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব।

জনস্বাস্থ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে অঙ্গিকার এর বাস্তবায়ন ও কোভিড-১৯ এর সার্বিক বিষয়টি বিবেচনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শরীফ আহমেদ, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহনের জন্য বিআরটিসি, বিআইডাব্লিউটিএ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ঢাকা পরিবহণ মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষকে অবগত করে একটি অনুরোধমূলক চিঠি প্রদান করেন। উক্ত চিঠিতে জনসমাগমপূর্ণ স্থান ও গনপরিবহণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিষটিতে গুরত্বারোপ করা হয়। উল্লেখ্য যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশন কর্র্তৃক পরিচালিত তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সকল কাজের অংশিদার হিসেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন একত্রে আইনের সঠিক বাস্তবায়নে কাজ করে চলছে।