অক্সফোর্ডের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

করোনার নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ, বৈঠকে ডব্লিউএইচও

নিউজ ডেস্ক:    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিড টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সংশয় প্রকাশ করেছে। এমনকি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞও একই প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ডোজের ভুলের কারণে এ প্রশ্ন উঠেছে।

অক্সফোর্ডের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, এই টিকাটিই আন্তর্জাতিক টিকা জোটের মাধ্যমে কম দামে দরিদ্র দেশগুলোতে বিতরণের কথা। অক্সফোর্ডের টিকার গড় কার্যকারিতা ৭০ শতাংশ। বিপরীতে মডার্না ও ফাইজারের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর। তবে এ দুটি কোম্পানির টিকা সংরক্ষণ জটিল এবং দামও বেশি। ফলে অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।

বাংলাদেশও ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে অক্সফোর্ডের টিকা কিনতে চুক্তি করেছে। কিন্তু এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অনুমোদন পাওয়া বিলম্বিত হতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের অধ্যাপক স্যার জন বেল বলেছেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে টিকার কার্যকারিতা ঘোষণার সমস্যা হলো- এতে সব তথ্য-উপাত্ত থাকে না। এতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করার সুযোগ পান না বাইরের বিশেষজ্ঞরা। তিনি বলেন, করোনার টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে আরও তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক কেট ও’ব্রিয়েনও অধ্যাপক বেলের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিকার সাফল্যের কথা বললে তাতে ঘাটতি থেকেই যায়। টিকা কীভাবে ইমিউন সিস্টেমে সহায়ক হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকা দরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ডা. সৌম্য সোয়ামিনাথান বলেছেন, এত কম লোকের ওপর অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পরীক্ষা করা হয়েছে, তা নিয়ে উপসংহারে পৌঁছানো কঠিন। এ টিকার আরও পরীক্ষা দরকার বলে তিনি মত দেন। তবে যুক্তরাজ্যের গৃহায়নমন্ত্রী রবার্ট জেনরিক বলেছেন, অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে কারও দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। তারা টিকা সম্পর্কিত যে তথ্য দিয়েছে, তা স্বাধীন নিয়ন্ত্রকেরা পর্যালোচনা করে দেখবেন।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টিকার অগ্রগতি সরেজমিনে দেখতে শনিবার দেশটির তিনটি শহর পরিদর্শন করেছেন। তিনি প্রথমে আহমেদাবাদের জাইডাস ক্যাডিলার গবেষণাগারে যান। সেখান থেকে হায়দরাবাদের জিনোম ভ্যালিতে ‘ভারত বায়োটেক’-এর গবেষণাগারে এবং পরে যান পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটে।

ভারত বায়োটেক সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে কভিড টিকা ‘কোভ্যাপিন’ বানাচ্ছে। জাইডাস ক্যাডিলাও কভিড টিকা তৈরি করছে। অন্যদিকে, অক্সফোর্ডের উদ্ভাবিত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ভারতে তৈরির অনুমতি পেয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট। সূত্র : সিএনবিসি, রয়টার্স ও এনডিটিভি।