বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক আন্দোলন, ১ম পর্ব – মুস্তাফা হুসেন

বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক আন্দোলন, ১ম পর্ব – মুস্তাফা হুসেন
বিগত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আন্দোলনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংগনে নূতন রাজনৈতিক শক্তির সমাবেশ যেমন লক্ষ্য করা যায়, তেমনি আন্দোলনের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কেও প্রশ্ন দেখা দেয়। আন্দোলনের অভীষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কেও শুভন দিক উন্মোচিত হয়।
অনুঘটক শ্রেণী ও সামাজিক গোষ্ঠী ঃ
এবারকার আন্দোলন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। থানা ও জিলা পর্য্যায়ের সকল সরকারী ও বেসকারী অফিস বন্ধ ছিল। ডেপুটি কমিশনারের কক্ষ ব্যতিত তার নিজের অফিস ও অন্য সকল অফিস আদালত সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। প্রথম দিকে কিছু কিছু কাজ চললেও পরবর্তীতে সকল সংস্থাই প্রকৃত পক্ষে কার্যাত বন্ধ হয়ে যায়। এই বন্ধকরনের পিছনে কতিপয় তরুনের পিকেটিং অথবা ধমক, হুমকি, বল প্রয়োগ ও সন্ত্রাস অথবা ইংরাজিতে যাকে বলা হয় কো-এরশনই কেবল মাত্র দায়ী ছিলনা। তরুনদের নেতৃত্বদানকারী শক্তিও বহুলাংশে এই ঘটনা ঘটানোর জন্য অলক্ষ্যে কাজ করেছিল। এই অলক্ষ্য শক্তিটি কারা? মফঃস্বল ও গ্রাম পর্য্যায়ে এরা হলো ক্ষুদে সামন্ততন্ত্রী তথা জোতদার, বর্গামালিক, ধনী কৃষক ও ব্যবসায়ী মহাজনদের লোকজন। এদের বৈশিষ্ঠ্য হলো বিগত অর্ধ শতাব্দী কাল এবং তারপর থেকে নতুন প্রজন্মের সময়কার অর্থাৎ গত বিশ বছর পর্যন্ত যাবৎ এরা নিজেদের অধিকার আদায় এবং ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছিল। শ্রেণী হিসাবে এর পাতি-সামন্ততন্ত্রী-শ্রেণীর নিচেকার স্তর এবং পাতি বুজোয়া হওয়ার পক্ষে অথবা বুজোয়া হওয়ার প্রবল আকাংখী সামাজিক গোষ্ঠী। গ্রামে এর মাতব্বরী করে, বিচার শালিশ করে, সময় বিশেনষ ধাওরানী, মাস্তানিও করে, ভালো সামাজিক কাজকর্মও করে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার হয়। গ্রামাঞ্চলে অথাব মফঃস্বলে অসহযোগকে কার্যকরী করার প্রক্রিয়ায় এরাই পেছন দিক থেকে মদদ যোগায়। গ্রামের শিক্ষিতদের অধিকাংশই এদের পক্ষে। মাঝারি কৃষক ও ধনী কৃষকদের একাংশ এদের পক্ষে এবং এদের পক্ষের পাতি সামন্ততন্ত্রী ও ধনী কৃষকদের একাংশের জোর (শক্তি) যে এলাকায় বেশী, সে এলাকায় অসহযোগকারী এবং আন্দোলনকারীদের প্রভাবও বেশী। তদনুপাতে ক্ষেত-মজুর ও গরীব কৃষকও প্রভাবশালী লোকদের পক্ষে সমর্থন যোগায়। এ সমর্থনটা অনেকটাই বাইরের প্রভাব সঞজাত এবং উৎপাদন সম্পর্কের বন্ধনের সাথে সম্পর্কীত। ক্ষেতমজুর ও গরীব কৃষক অথবা প্রান্তিক চাষী নিজেদের ভিতরে বা পরিমন্ডলে নিরপেক্ষ থাকে। তার তত্ত¡াবধায়ক সরকার আন্দোলনের ব্যাপারে যৌক্তিকতার প্রশ্নে সমর্থন জানালেও কার্য্যক্ষেত্রে তাকে সমর্থন জানায়নি অর্থাৎ তারা চাষবাস ঠিকই চালিয়ে গেছে, উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য গ্রাম্য হাটগুলোতে গেছে। তাদের স্ত্রী-কন্যাসহ রিকশায় চেপে বা হেঁটে হেঁটে তাদের গন্তব্য স্থলে গেছে।

সকল আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও গ্রাম্যঞ্চলে অসহযোগকে কার্য্যকরী করার প্রক্রিয়ার অন্য কেউ প্রতিপক্ষ হয়ে এদেরকে প্রতিরোধ করেনি। সরকারী অফিসের সম্পদ সুরক্ষা অথবা সরকারী কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ অথবা সামরিক বাহিনীর কেউ এগিয়ে আসেনি।
নদীপথে জল পরিবহন মাঝে মাঝে চালু ছিল। কিন্তু তা ছিল অত্যন্ত বিপদসংকূল। সরকারী যানবাহন ছিল সম্পূর্ণ বন্ধ। যখন এম্বুলেন্সও গোপন অস্ত্র স্থানান্তরে ব্যবহার হতে লাগলো লে অনুমিত হলো, তখন কোন কোন সড়ক পথে এম্বুলেন্সও বন্ধ করে দেওয়া হলো। এটা ছিল চরম ব্যবস্থা। পুলিশ প্রশাসন চিল সম্পূর্ণ নিস্ক্রির, সামরিক বাহিনী ছিল সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। গ্রাম্যঞ্চলে সমান্তরাল প্রশাসন কারেম না হলেও, নিরব অথচ সমান্তরাল শক্তির আচ অনুভূত হচ্ছিল। বগামালিক, ধনী কৃষক, ব্যবসায়ী, মহাজনদের একাংশের নেতৃত্বে পাল্টা প্রশাসন অথবা কতৃত্ব কায়েম হলে, অসহযোগ আন্দোলন জাত সংঘাতটা সহজেই গৃহ যুদ্ধের রূপ নিতে পারতো। গ্রাম্য মোকামগুলোর ব্যবসায়ী মহাজনদের একটা অংশ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি ক্ষুদ্ধ। আবার অন্য অংশ ছিল বিরোধি দলের প্রতি সহানূভুতিশীল। ছিন্নমূল সর্বহারাদের মধ্যে রিকশাওয়ালা অসুবিধার পড়েনি। কিন্তু শহরে বন্দরে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক ও নি¤œ-কর্মচারী গ্রামের বাড়ীতে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে দারুন অসুবিধার সম্মুখিন হয়েছে। নি¤œবিত্ত দোকানদারগন অভাব ও অনটনের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। তারা দোকান খোলা রেখেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে গম কাটার ও ধান বীজ বোনার পুরা মওসুম।জমিতে সার দেওয়ার জন্য মাঝারি ও ধনী কৃষক হনৌ হয়ে ঘুরেছে, হাহুতাশ করেছে, সারের অত্যধিক দামের দরুন জমিতে সার দিতে পারেনি। ধনী কৃষিক অত্যধিক দামে সার কিনে যে জমি চাষ না করলেই নয়, সেই জমিতেই সার দিয়েছৈ। জোতদার ঝুকি নেয়ীন, তেলের দাম বাড়ার ারনে পানি সেচের অসুবিধা হয়েছে। পরিবহনে অচলতারকারনে তেলের দাম ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি হলেও পাতি সামন্ততন্ত্রীদের মধ্যে জোতদার, বগামালিক ও অনুপস্থিত ভূস্বাীর তেমন গরজ ছিলনা বর্গাচাষী কর্তৃক জমি চাষের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার। সুতরাং তেলের দাম, সারের দাম বাড়ল কি কমল, তাতে তার খুব একটা কিছু যায় আসেনি। রাজধানী ও বড় নগরের আমলা ও ব্যবসায়ী, যারা আবার অনুপস্থিত ভূস্বামীও বটে তার জমি পতিত থাকলো অথাব বর্গাচাষী জমি চাষ করলো কিনা সেই খবরে ভয়ানত বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি। তবে অনেক বুদ্ধিজীবি- বিশেষজ্ঞই চিন্তা করেছেন, অসহযোগ আন্দোলনের কারনে, শাসক গোষ্ঠীর আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ডিলার ব্যবসায়ীগণ কতৃক দাম বৃদ্ধির কারনে সার ও তেলের অভাবে কি পরিমাণ ফসল কম জন্মাবে- তার উপর গবেষনার জন্য বিদেশী সাহায্য দাতাগন আশংকা প্রকাশ করেছেন যে অসহযোগের কারনে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার বিঘন্ সৃষ্টির ফলশ্রæতিতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। তাতে ক্ষেতমজুর গরীব কৃষক ও মাঝারি কৃষক ছাড়া আর কারো শংকিত হওয়ার কোন কারন নেই। পাতি সামন্ততন্ত্রী, আমলা মুৎসুদ্দী বুজোয়াদের পতিত শাসক গোষ্ঠরি জন্য এই শংকাটা একটা আশীবাদ।অসহযোগের কারনে উৎপাদনে বিঘœ ঘটার বিষয়টি রাঝনৈতিক প্রচারনার একটি মোক্ষম অস্ত্র হয়ে তাদের স্বপক্ষে কাজে লাগতে পারে। এটাকে কেউ কাজে লাগাবে, সার এর মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে, আবার কেউ কাজে লাগাবে হরতাল অসহযোগের রাজনৈতিক ঘটনার কারনে অর্থনৈতিক ক্ষতির দৃষ্ঠান্ত উল্লেখ করে।
শ্রামবীবিদের সচেতন কর্মপ্রয়াসের বৈশিষ্ট্যঃ প্রধান দ্বন্ধের প্রকাশ-
ক্ষেতমজুর গরীব চাষী এবং মাঝারি কৃষকের কোন বক্তব্য সংগঠিত আকারে প্রকাশিত হয়নি। সার কালো বাজারির ফরে সারের মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গরীব, মাঝারি ও ধনী কৃষকের বিক্ষ্যেভ ও অসন্তোষের আগুন শাসক গোষ্ঠীর উর্দি পড়া ঠ্যাগারে বাহিনীর সন্ত্রাসের ফলে ঠান্ডা হয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক বত্তৃতায় যতো কুম্ভীরাশ্রæই বর্ষন করুকনা কেন, কৃষি উৎপাদনের প্রতি বিন্দ্রমাত্র সহানুভুতি বা মাথা ব্যথা তাদের ছিলনা এবং উৎপাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষক যাতে সংগ্রামই করুক না কেন (সার, তেল ক্রয়ের আকাংখা তো নির্ভেজাল উৎপাদন আকাংখা ছাড়া আর কিছু নয়) শাসক গোষ্ঠী তাদের সশস্ত্র সংরক্ষিত বাহিনী দিয়ে, কৃষকের উৎপাদন আকাংখাকে স্তদ্ধ করে দিতে কুন্ঠিত হয়নি। গুদাম অথবা ট্রাক থেকে সারের বস্তা যখন লুট হয় তখন বিক্ষুদ্ধ সমবেত জনতার মধ্যে কৃষকরা যেমন থাকে, সন্ত্রাসী মাস্তানরাও তেমনি থাকে। কিছু কৃষকই গুলি কেয়ে মরে, সন্ত্রাসী মস্তানরা নয়।বিগত দু’দুটি সার সংকটে তাই-ই পরিলক্ষিত হয়। পাতি সামন্ততন্ত্রী, আমলা-ম্যুসুদ্দী-বুজোরা শাসক-গোষ্ঠী, সার কালোবাজারীকেও শাস্তি দেয়টি। কুষক হত্যার জন্য দায়ী উর্দি পড়া ট্যাগারেবাহিনীর ব্যক্তিকেও শাস্তি দেয়নি। এবং তারপরও সারের দাম কমেনি, গুলি খেয়ে মরে, অঅর পাতি সামন্ত্রতন্ত্রী, আমলা-ম্যুসুদ্দী-বুজোয়া সরকার কৃষকের উৎপাদন আকাংখার বিক্ষোভকে দমানোর জন্য তার ঠ্যাগারে বাহিনী দিরে কৃষকের উৎপাদন আকাংখাকে প্রতিরোধ করে, কৃষকের সাথে পাতি সামন্ত্রতন্ত্রী, আমলা-ম্যুসুদ্দী বুজোয়া শাসক গোষ্ঠীর সংঘাত ও দ্বন্ধ সার সংকটের মধ্য দিয়েই প্রকটিত হয়। এই দ্বন্ধে পাতি সামন্ত্রতন্ত্রী পরিপূর্ণ ও আন্তরিকভাবে অংশ গ্রহন করেনিদের নিচেকার স্তরের লোকজন।
আন্দোলকদের শ্রেণী চরিত্রের দূর্বলতাঃ
পাতি সামন্ততন্ত্রী আমলা ম্যুসুদ্দী বুজোয়া শাসক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পাতি সামন্ততন্ত্রীদের নিচের স্তর অথাৎ জোতদার, বগামালিক, মহাজন, ব্যবসায়ী এবং আমলা, পাতি বুজোয়া শক্তি বাংলার শাসন ক্ষমতা লাভের জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকারী কাজকর্মে অবরোধ সৃষ্টি করে, কিন্তু সার এর জন্য কৃষক বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসে না। সম্ভাবনাময় কৃষক বিদ্রোহকে কৃষক মুক্তিরলক্ষ্যে এগিয়ে নিতে সাহস পায়না এবং অনিচ্ছুক থাকে। কারন শাসক গোষ্ঠীও জানে যে, পাতি সামন্ততন্ত্রীদের নীচেকার স্তর এমন কোন কাজ করবে না- যাতে তাদের ক্ষুদে মালিক হারাতে হয়। হয়তো বা এজন্যই রাস্তাঘাট, যানবাহন, অফিস-আদালত বন্ধ করন প্রক্রিয়ায় যখন তারা সংগঠিত ভূমিকা গ্রহন করে ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠীর লোকজন তাদেরকে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসে না। অতএব, পাতি-সামন্ততন্ত্রী, পাতি বুজোয়ারা ও ক্ষুদে স্বত্ব ভোগীরা তাদের তত্ত¡াধায়ক সরকারের আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে হিংসার রুপান্তরিত করেনি। আরো এক পা বাড়িয়ে সার-তেলের জন্য কৃষক আন্দোলনের জোরদার ভূমিকা পালন করেনি, তাকে হিংসাতœক আন্দোলনে রুপান্তরিত করনে নেতৃত্বে দেয়নি। কোন কোন স্থানে রিপেক্ষেই থেকেছে। কারণ তারা আশান্তি চায়নি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কারো কারো বক্তব্য ছিল- আন্দোলন হিংসাতœাক পথে ধাবিত হলে তৃতীয় শক্তি অর্থাৎ অসাংবিধানিক শক্তির হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করে দেয়া হবে- যা নাকি ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠী প্রতিপক্ষকে দমন করারশেষ অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আন্দোলনের সময়ে এবং তার পরেও বলে আসছে যে অসহযোগ আন্দোলনের উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংশ করে ফেলা। অশান্তিপূর্ণ পথে অগ্রসর হলে বলা হতো বাংলাদেশ ধ্বংশস্তুপের উপরই দাড়িয়ে আছে। বাংলাদেশেল রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার লোন গ্রহনকারী এবং খেলাপী ঋণ এফবিসিআই এর অন্তভুক্ত দনিকগন দেশের উন্নয়নের স্বার্থে হয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অবস্থানের উন্মত্ত জন্য সারা দেশে পনের মিনিটের মানব বন্ধের ডাক দেন।
আওয়ামী লীগ, ধনী কৃষক, জোতদার, কোন কোন ক্ষেত্রে মাঝারি কৃষকদের স্বার্থের সংশ্লিষ্ট লোকজন হয়েও গরীব কৃষক ও মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক চাষী অর্থাৎ প্রকৃত চাষীর স্বার্থের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়নি, দাড়াতে পারেনি। কেবল সেইটুকুই করেছে, সমাজকে সেই ঝাঁকানিটুকুই দিয়েছৈ তার ক্ষমতা লাভের স্বার্থে যে অঅন্দোলনটুকু (ঝাঁকানিটুকু) তাৎক্ষনিকভাবে প্রয়োজন, তার বেশী নয়। অতএব, তারও আন্তরিকভাবে উৎপাদনাকাংখী কৃষকের পক্ষে নয়। উৎপাদনের পক্ষে নয়। কৃষি বিপ্লবের পক্ষে তো নরই। যদিও কৃষি বিপ্লবই হলো গণতান্ত্রীক আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
গ্রাম্যঞ্চলের প্রশাসন নিয়ন্ত্রনে পাতি সামন্ততন্ত্রী, পাতি বুজোয়অ ব্যবসায়ী, মহাজনদের নিরব অথবা সমান্তরালরাজনৈতিক শক্তিরযে আঁচ এবারকার আন্দোলনে অনুভূত হয়েছে। তা চুড়ান্ত পরিমানে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার বিকাশ ও কৃষকের কিছুটা অনুকূলে গেলেও কৃষি বিপ্লবের পক্ষে যাবেনা বলে অনুমান/ যথার্থ করা যায়।

নেতৃ ভূমিকাহীন শ্রমজীবিদের দুর্বলতাঃ
শ্রমিক, কর্মচারী, ক্ষেতমজুর, গরীব কৃষক, মাঝারি কৃষক ও প্রান্তিক চাষী অথাৎ প্রকৃত কৃষক অসহায়, কারন তাদের আপাততঃ কোন রাজনৈতিক সংগঠিত শক্তি নেই। রাজনৈতিক শক্তিটা সব সমরই বল প্রয়োগের সামর্থ্যকে অনুসঙ্গ করে। বাংলাদেশের পাতি সামন্ততন্ত্রী আমলা-বুজোয়া শোষক গোষ্ঠীর বড় রাজনৈতিক ৎদলসমূহের সশস্ত্র রিজার্ভ ক্যাডার রয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে একটি বড় বাঁধা। ক্ষেতমজুর, গরীব ও মাঝারি চাষী এবং প্রান্তিক কৃষকের সংগঠিত রাজনৈতিক দলও নেই, সংগঠিত সশস্ত্র বিশেষ বাহিনীও নেই। তারা নিরস্ত্র, অতএব, তাদের রাজনীতিও নেই।
ভূমিহীন চাষী, ক্ষেতমজুর, গরীব ও মাঝারি চাষী এবং প্রান্তিক চাষীর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও তার আনুসঙ্গিক বল প্রয়োগের সামথ্য নেই বলেই সে উৎপাদন সহায়ক পেতে গিয়ে গুলি খেয়ে মরে। কিন্তু উৎপাদন সহায়িকা (ইন পুটস) অর্জন করতে পারেনা।
আন্দোলনের প্রক্রিয়ার শ্রেণীভিত্তিক শক্তি সমাবেশঃ
পাতি- সামন্ততন্ত্রীদের নীচেকার স্তর অথ্যাৎ ক্ষুদে সামন্ততন্ত্রীরা পাতি-বুজোরারা গ্রাম্যঞ্চলের স্বাভাবিক প্রশাসনের চলমানতার প্রতিরোধ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘ এক সপ্তাহে সার দেশের মফঃস্বল প্রশাসন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়লেও জনসাধারনের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বিক্ষোভে বিক্ষোভে ধূমায়িত হয়ে অসহ্য আবেগে তেতে উঠলেও এবং পাতি সামন্ততন্ত্রী আমলা-মুৎসুদ্দী বুজোয়াদের তৈরী পার্লামেন্টে, বিরোধ দলের দাবীর কারনে তত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে আইন প্রনীত হওয়ার প্রচেষ্টা নেয়ার ভান করে টালবাহানা করে করে সময় ক্ষেপন করলেও ক্ষুদে সামন্ততন্ত্রীরা, পাতি-সামন্ততন্ত্রী ও পাতি বুজোয়দের দল আওয়ামীলীগ (আন্দোলনের মুল নেতৃত্ব তাদের হাতেই) বিক্ষোভের আগুনে তেতে উঠা হাজার হাজার গ্রামীন কৃষি অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত সমর্থকদেরকে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নকে প্রভাবীত ও ত্বরান্বীত করার জন্য রাজধানীতে সমবেত হওয়ার আহব্বান জানায়নি। তার পরপই ঢাকা মহানগরীতে সীমাবদ্ধভাবে আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামেরও তাই। এই জনসমাবেশই শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে নির্ধারক ভূমিকা পালন করে।
ক্ষেতমজুর, প্রান্তিক চাষী তো দূরের কথা, তাদের (আন্দোলকদের) সমর্থক ধনী কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মহাজনের একাংশকে তারা রাজধানীতে সমবেত হওয়ার আহবান জানাতে সাহস পায়নি। শ্রমিকদের সম্পর্কে তারা কোন কথাই বলেনি। স্কুল অথ্যাৎ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার সাথে শ্রমিক কর্মচারীদের দাবী-দাওয়া নিয়ে আলোচনার জন্য দেখা করতে গেলে, তিনি শ্রমিকদেরকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে খুব উৎসাহ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে শ্রমিকদের দাবী-দাওয়া যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে বলে আশ^াস প্রদান করেছেন। অসহযোগের সময় টঙ্গি, পাহাড়তলী, নারায়নগঞ্জের কোন কোন সুতা, বস্ত্র ও পাট কলে শ্রমিকরা মিল চালু রেখেছিল।
বস্তুতঃ শ্রমিক কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থাসমূহের নেতৃবৃন্দ তাদের স্ব-শ্রেণীর অর্থ্যাৎ সামন্ততন্ত্রী ও পাতি বুজোয়া নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে দাঁড়াতে সক্ষম হননি। ক্ষেতমজুর কৃষক সংগঠন সমূহের একটি কমিটি কৃষকদের সার এর আন্দোলনও ব্যর্থতার পর্য্যবসিত হয়ে যায়।
শ্রমিক ও কৃষককে পাতি সামন্ততন্ত্রী ও পাতি বুজোয়ারা আন্দোলনে ডাকেনি। ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নে শ্রমিক কৃষককে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ হয়নি। শ্রমিক ও কৃষককে নিরাপদ দূরত্বে রেখে ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন গড়ে তোলার একটা প্রচেষ্টা সমগ্র শাসক সমাজের লোকজন দেখায়। এবারকার তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে স্বার্থ-সংঘাত গ্রামাঞ্চলের প্রধানতঃ শ্রমজীবি কৃষকের অসহায়ত্ব আর জোতদার বর্গামালিক, ব্যবসায়ী- মহাজন ও ধনী কৃষক এর আন্দোলন সম্পকীত ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নে তাদের সুবিধাগত অবস্থান এর প্রেক্ষিতে তাদের উদ্যত ক্ষমতাকে সামনে এনে প্রকাশিত করেছে- যা ভবিষ্যতের অশনি সংকেত বহন করে। পাতি সামন্ততন্ত্রীদের আর একটি দল জামায়তে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সাথে যুক্ত হলে কৃষকের জমির লড়াই অথবা কৃষি বিপ্লবের লড়াই কিংবা রাজনৈতিক ভাষায় বলতে গেলে গণতান্ত্রীক বিপ্লবের লড়াই (হিংশাতœক অথবা শান্তিপূর্ণ) যে নব্য ফ্যাসিবাদী জুলমতের মোকাবিলা করবে- এমত ধারনা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মৌলবাদী ধমান্ধ, সাম্প্রদায়িক সংগঠনটির ক্যাডার কর্মীরা তাদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তী নিয়ে জনসাধারন বিশেষ করেকৃষকদের ভেতরে আশ্রয়ে মসজিদের অবস্থান নিয়েছে। তাদের রাজনীতি প্রচার করছে। ১৯৯০ সালের মতো নয়, এবারকার আন্দোলনে, আর একটু সক্রিয়ভাবে অসহযোগ, অবরোধ ও হরতালে অংশ নিয়েছে।
তারা কৃষি সংস্কারের পক্ষে বক্তব্য রাখছে, যা আওয়ামী লীগের কৃষি সংক্রান্ত কর্মসূচীরই অনুরূপ। বস্তুতঃ জামায়াতে ইসলামী, পাতি সামন্ততন্ত্রীকদের স্বার্থের বাহক এবং পাতি সামন্ততন্ত্রী সংস্কৃতিরই প্রতিনিধিত্বকারী। গ্রামীন বগামালিক ধনী কৃষক জোতদার মহাজন তথা পাতি সামন্ততন্ত্রী ও পাতি বুজোয়াদের দল আওয়ামী লীগ এর সাথে পাতি সামন্ত সংস্কৃতির যোগ্য উত্তরসূরী জামায়াত ইসলামীর উপরোক্ত সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করার বিষয়ে মিল রয়েছে। যদিও ১৯৭১ সনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে উভয় দল-ই পরস্পর মুখোমুখি হয়ে শত্রæ অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন। ছিয়ানব্বই এর আন্দোলনের প্রধানতম রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামীলীগ আর এখন আন্দোলন …………নব্বই এর গন-আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বা দল ছিল বিএনপি। বলা হয়ে থাকে, আন্দোলনটা ছিল শহর ভিত্তিক। তখন শহরের মুৎসুদ্দী বুজোয়ারা এই আন্দোলনের পিছনে সমবেত হয়েছিল। আপাতঃ সুবিধা বঞ্চিত পাতি সামন্ততন্ত্রী মুৎসুদ্দী বুজোয়ারা পর্দার অন্তরালে থেকে ঐ আন্দোলনকে নৈতিক ও বাস্তব সমর্থন যুগিয়েছিল বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে সাহয্যে করেছিল। তৎকালীন সামন্ততন্ত্রী বৃহৎ মুৎসুদ্দী বুজোয়াদের প্রতিনিধিত্বকারীরা এই বার সরাসরি রাজনৈতিক অংগনে এসে দাঁড়ায়। তাদের বক্তব্য দ্বারা তত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। উপরোক্ত লুটেরা ধনিকদের রাজনৈতিক অংগনে সরাসরি পদাপন এবারকার আন্দোলনে রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক। মুৎসুদ্দী বুজোয়া, লুটেরা ধনিকদের অপরাংশ তৎকালীন ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠীর প্রতি সমথন অব্যাহত রাখে।

আন্দোলক শ্রেণীর ক্ষমতা দখলের লড়াইঃ
হাজার বছরের কম বেশী স্থিতাবস্থায় থাকা গ্রামাঞ্চলে উৎপাদক, অনুৎপাদক, মধ্যস্বত্বভোগী তথা সকল প্রকার পাতি সামন্ততন্ত্রী ও শ্রম ভারসাম্য বুঝাবার পক্ষে এবারের আন্দোলন আলোক বতিকা হিসাবে কাজ করবে।
১৯২১ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যে ফজলুল হক, কবি নজরুল ইসলাম, হেমন্ত সরকার এবং সাম্যবাদীদের নেতৃত্বে কৃষকদের সাময়িক মুক্তির জন্য কৃষক আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৩৮-৪০ সালে ফ্লউড কমিশন এর সুপারিশে জমিদারী প্রথাসহ মধ্যস্বত্ব ও মধ্য উপ-স্বত্বসহ সকল খাজন্য, লন্ঠন প্রথা উচ্ছেদ করার কথা বলা হয়। ১৯৫০-৫১ সনে সরকার জমি অধিগ্রহন করলেও মধ্য উপ-স্বত্বসূত্রে খাজনা আট এর দশকে রাষ্ট্রীয় প্রনোদনায় (আইয়ুব আমলে) তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়। তার আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্বাশনের জন্য উদ্দাস ভোগীরা কেবল টিকেই থাকেনি, বরং আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে। কিন্তু তা সত্বেও তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারেনি। গিয়ে থাকলেও টিকতে পারেনি। অপর দিকেপাতি সামন্ততান্ত্রিদের পক্ষের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতক শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোতে ক্ষুদ্র স্বত্ব ভোগী, ব্যবসায়ী মহাজান, জোতদারদের প্রবেশের পথ যেন খোলা না থাকে, তার প্রচেষ্ট চালায়। অদৃশ্য রাজার (পাতি সামন্ততান্ত্রিীক দর্শন) অলিখিত সংবিধান বলবৎ রাখে।

ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ারয় বল প্রয়োগ ও সশস্ত্র শক্তির কারণ ঃ
পাতি সামন্ততান্ত্রীদের নজর তরফেরা অথৎাৎ জোতদার মহাজন, ফড়িয়া ব্যবসায়রা ক্ষমতায় যাওয়রর এব ধরে রাখার উপযুক্ত নায়-পাতি সামন্ততান্ত্রিীদের এমন মন্তব্য শ্রমজীবি ও ধনিক নির্বশেষে সকল মহলে হিংসা ও ঘৃনার সাথে প্রচার করে দোয় হয়। ইদানিং কালে আমী কখনোই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় যেতে দেবেনা- জাতীয় কমেন্ট পাতি সামন্তততন্ত্রীদের উপরোক্ত ধারনাই বহিঃপ্রকাশ। যেস. শাসক গোষ্ঠীর অন্যতম শক্তিস্তম্ভ আমীর গঠন কাঠমোর পরিধি কেবলমাত্র পাতি সামান্তন্তীদের গঠন বিন্যাস ও লোকজন দ্বারাই সংরক্ষিত এবং তাদের দ্বারাই পূর্ণ করা হবে এমন ধারনা স্বতঃসিদ্ধ বলে প্রকাশ করা হয়। মুঘল আমল থেকে বৃটিশ আমল, বৃটিশ থেকে পাকিস্তান আমল, সকল সময়েই পাতি সামন্ততন্ত্রীদের জন্য সেনা বাহিনীর নেতৃত্বে সংরক্ষিত এই ধরনের অপ প্রচার অব্যাহত রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেেশর স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাতি সামন্ততন্ত্রীদের উপরোক্ত “মিথ” ভেঙ্গে চুড়মার হয়ে যায়। মধ্য উপ স্বত্ব ভোগী এবং কৃষকেরাও যখন অশত্র হাতে তুলে নেয়, তখন এতোদিনকার প্রচলিত মিথ এর মিথ্যার আবরন খোলে যায়। আওয়ামীলীগ বিষয়টা বুঝতে পারে এবং সামরিক বাহিনীর সাথে পাতি সামন্তন্ত্রীদের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করে। পাতি সামন্তন্ত্রী স্বেচ্ছাতন্ত্রীদের দ্বারা সেনাবাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদেরকে চাকুরী থেকে ব্যাপকভাবে অপসারন, পানি সামন্তন্ত্রী, লুটেরা ধনিক শ্রেণীর ইচ্ছায় প্রতিফলন। অবশর প্রাপ্ত জেনারেল শফিউল্লা, তাইস মাশাল একে খন্দকার ও লেঃ জেঃ নূর উদ্দীনসহ অনেককে নিজেদের রাজনীতিতে টেনে আনার প্রয়াস উপরোক্ত ধারনাকেই সত্য প্রমানিত করে। রাষ্ট্রের সশস্ত্র শক্তি বর্গের সাথে বিচ্ছিন্নতা যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের সহায়ক নয়, এটা তরা বুঝতে পারেন।

শ্রমজীবিদের সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিও যেমন ছিলনা, সশস্ত্র শক্তিও তেমনি ছিলনা। কৃষক ও চাষীদের যে লোকজন নিয়ে আনসার বাহিনী গঠিত সেই আনসারদের মধ্যে ঐপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক বেতন ও মজুরী পদ্ধতির কারনে কেবলমাত্র চাকুরীগত কারনে বিক্ষোভ করলে নির্মমভাবে তা দমন করা হয়। কোন রাজনৈতিক দল তাদের দাবীর সমর্থনে এগিয়ে আসেনি।
সর্বশেষ, বাংলাদেশর দক্ষিনাঞ্চনের সর্বহারা পাটির নেতা মেজন (অবঃ) জিয়াউদ্দিন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। শ্রমজীবী জনগনের স্বাথোদ্ধার কারীর মুখোশ পরে যে পাতি সামন্ত্রন্ত্রী ও ক্ষুদে স্বত্বসূত্রে খাজনা ভোগীরা, শ্রমজীবিদেরকে বিভ্রন্ত করে, তাদেরই এক প্রতিনিধি মেজন (অবঃ) জিরাউদ্দিন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। শ্রমজীবী জনগণের স্বাথেদ্ধার কারীর মুখোশ পরে যে পাতি সামন্ততন্ত্রী ও ক্ষুদে স্বত্বসূত্রে খাজনা ভোগীরা, শ্রমজীবিদেরকে বিভ্রন্ত করে , তাদেরই এক প্রতিনিধি মেজর (অবঃ) জিয়াউদ্দিন ভাবী শাসকগোষ্ঠীর সাথে হাত মিলানোর মাধ্যমে শ্রমজীবিদের রাজণৈতিক ক্শতায়নের প্রয়াসেকেই প্রকৃত পক্ষে দুর্বল করার চেষ্ট করে।
শোষক শ্রেণীর মধ্যেকার দ্বন্ধ তীব্র সংঘাত রূপ নেয়নি কেন ?
আগেই বলা হয়েছে শহরে পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবি, ছাত্র, ব্যবসায়ী, মহাজনদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের লোকজন অফিস ্দাালত ও রাস্তা ঘাট যানবাহন এবং কিছু কিছু দোকান পাট অচল করে দিলে কেউ তাদের কাজে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেনি। তার কারন কি?
আমার ধারনা (১) শাসক গোষ্ঠীর যে রাজনৈতিক দল অর্থাৎ বি এন পি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) পালটা রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এগিয়ে আসতে পারতো, সেই রাজনৈতিক দল এর নেতৃত্বই ছিল নৈতিক দিক দিয়ে দূর্বল অর্থাৎ তাদের রাজ কায়েম করেছিল ঠিকই কিন্তু তাদের নৈতিকতা দৃড়তা কায়েম করতে পারেনি। ১৯৯০ এর উত্তাল আন্দোলনের পর নির্বাচনের পূর্বে তারা যে যে প্রতিশ্রিæতি দিয়েছিল সেই অনুযায়ী তারা কাজ করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে উৎপাদন ক্ষেত্রে উদ্যোগী কাজ হয়েছে খুবই কমই, সরকারী খাজাঞ্চীরখানার মাধ্যমে ছড়ানো অর্থতো বটেই বিদেশী উৎসেরও যে সকল অর্থ নির্মাণ কাজে ব্যয়িত হয়েছে, সেই সেই ক্ষেত্রের কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণটা ছিল প্রধানতঃ ঠিকাদারি প্রথার ভিত্তিতে। বস্তুতঃ বিগত বিশ বছরে সারা দেশেই অবকাঠামো নির্মাণে ঠিকাদারী প্রথার প্রবল আর্বিভাবের ফলে অর্থনীতিতে এটা ঠিকাদারি সংস্কৃতির পরিমন্ডল সৃষ্টি হয়। দালান কোঠা ও রাস্তাঘাট নির্মানকেই উন্নয়ন এর মূল খাত বলে ধরা হয়। লুটেরা বুর্জোয়া, মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া হওয়ার পথে ঠিকাদারী সংস্কৃতিটাই পাতি সামন্ততন্ত্রীদের পক্ষে প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই ঠিকাদারি সংস্কৃতি এবং মূলতঃ উৎপাদন উপকরন ও ভোগ্যদ্রব্য সামগ্রী নয়, প্রধানতঃ অবকাঠামো নির্মাণ, সুস্থ জাতীয় অর্থনীতি গড়ে উঠার সহায়ক নয়। পাতি সামন্ততন্ত্রীদের দ্বারা অবকাঠামো নির্মাণ সা¤্রাজ্যবাদী বাজার ব্যবস্থার সহায়ক। পাতি সামন্ততান্ত্রীদের দ্বারা সহজতম উপায়ে সরকার তথা জনগনের অর্থ আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে লুন্ঠন করার এটাই সবচাইতে ভালো উপায়। বি এন পির রাজনীতিতে এটাই একটি অর্থনৈতিক অবলম্বন। দূর্নীতি এই কর্মকান্ডের নিতান্তই স্বাভাবিক ও আনুসাঙ্গীক প্রক্রিয়া এবং এই দুর্নীতিগ্রস্ততার কারনেই তাদের মধ্যে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে ছিল বলে বি এন পি ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল।
(২) গ্রামাঞ্চালে বর্তমান প্রজন্মের বংশগত ও পারিবারিক পূর্বসূরীদের অধিকতর অংশই পাকিস্তানী মনা ও মুসলীম লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, একাত্তুর সনে বাংলাদেশ ধারনার বিরোধীতা করেছিল। (পাকিস্তান ধারনার পিঠনে এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা কাজ করেছিল মুসলীম লীগ সংঘঠন ছিল তারই পক্ষে। পূর্ব বাংলা ও পাকিস্তান এর সামন্তবাদীরা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সংস্কারকে হাতিয়ার করে গরীব মানুষকেও বিভ্রান্তীর বেড়াজালে আবদধ করে তাদের সাথে সমবেত করতে সক্ষম হয়। ধর্মী অতীতাশ্রয়ী ধর্মীয়রা একধরনের মোহবদ্ধতার দ্বারা এখনও গরীব মানুষেরা প্রতিক্রিয়ার অচলায়তনে বন্দী)। সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এসে তাদেরকে অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলের জমিদার ও তালুকদার তথা পাতি সামন্ততান্ত্রীদেরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালেন ঠিকই কিন্তু নৈতিক দিক দিয়ে উজ্জীবিত করতে পারেননি, যা তার পক্ষে সম্ভবও ছিলনা। এদের কাছে জিয়াউর রহমান ছিল জিবরাইল ফেরেশতার মতোই, কিন্তু জিবরাই ফেরেশতার ডানার মতো এদের ডানা এতো শক্ত ছিলনা বলে গ্রামাঞ্চলে প্রবল হৃদপিন্ডের শক্তি নিয়ে যথেচ্ছ উড়ে বেড়বার শক্তি ও সাহস পায়নি। কারন গ্রামাঞ্চলে অতীত ও বর্তমানের পরিচয় গোপন রাখার প্রচেষ্টা এখনো সহজে ফলপ্রসু হয়না।
(৩) তাছাড়া,সবখানে নয় অনেক অঞ্চলে বড় সামন্ততন্ত্রীদের বংশধরদের হুমকি, ধমকি, মস্তানি, সন্ত্রাসী কার্য্যকলাপে তাদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন করে ফেেেলছিল। এই বিচ্ছিনতা অসহযোগ আন্দোলনকারীদের তেমন ছিল।
(৪) তবে গ্রামাঞ্চলের জরপ্রতিনিধি অর্থাৎ সংসদদের সাথে মাঝারি কৃষক ও গরীব জনসাধারনদের সামাজিক স্তরে অবস্থানগত পার্থক্যের কারনে, একটা দূরত্ব বিচ্ছিনতার থাকার জন্য ও তারা জনসাধারনকে হরতাল ও অবরোধকে প্রতিরোধ করার জন্য ডাক দেওয়ার পরিবেশ হারিয়েছিল।
(৫) পাকিস্তান আন্দোলনে এদেশীয় মুসলমান বড় পাতি সামন্তাতন্ত্রী জমিদার তালুকদার নেতৃত্ব দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে সমবেত করাতে সক্ষম হয়েছিল ধনী কৃষক, মাঝারী ও কৃষকসহ সকলকেই। ১৯৪৯ এর পর ছোট জোতদার ও ধনী কৃষকদের নেতৃত্ব উপর থেকে নীচ পর্য্যন্ত একটা অংশ মুসলিম লীগ থেকে আলাদা হয়ে আওয়ামী লীগ অর্থাৎ জনতার মুসলিম লীগ নামসহ পৃথক সংগঠনিক অস্তিস্ত নিয়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু তারপরও বড় জোতদার ও ধনী কৃষকদের একটা অংশ মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান এর প্রতি অনুগত থেকে যায়। এদের সকলেই ১৯৭১ সনে প্রত্যেক্ষভাবে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেনি, কিন্তু পাকিস্তন ভেঙ্গেযাওয়াতে এরা ভয়ানক ভাবে মর্মাত হয়েছিল। তারই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাকেই মনে রেখে এরা মেজর জেঃ জিয়াউর রহমান এর পাকিস্তানী দালাল ও আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়ো সুযোগ সন্ধানীদের নিয়ে গড়ে তোলা রাজনৈতিক পূণবাসন প্রচেষ্টয় শামিল হয়। এটা নির্দিধায় উপস্থাপিত করা যায় যে,বাংলাদেশের বিভিন্ন বৃহত গ্রামাঞ্চলের ভিত্তিতে বিচারিত,সকল না হলেও শতকরা নব্বইটি পূর্বতন সামন্তবাদী ও পাতি সামান্ততন্ত্রী পরিবারই বৃটিশ রাজভক্ত অথবা মুসলিম লীগ কিংবা বি এন পি বা জাতীয় পার্টি নামক রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। (জোতদার, হাওলাদার, মন্ডল ভ‚ইয়াসহ সকল পাতি (ক্ষুদে) স্বত্বসূত্রে খাজনা ভোগীরা সংখ্যায় মুষ্ঠিমেয় জমিদারদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত)। সুতরাং পাকিস্তান এর প্রতি এবং বর্তমানে বাংলাদেশের স্থিতাবসয় থাকা শোষক গোষ্ঠী ও তার ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের অবিচলতা প্রশ্নাতীত হইয়াও স্বাভাবিক। ১৯৭১ সনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ধারনার দৃশ্যতঃ পরাজয় ঘটে। জনগনের অবচেতনেও রাজকাররা ধিকৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান সত্বেও। অসহযোগের উত্তাল আন্দোলনের সময়ে পরাজয় বোধ জনিত অসহায়ত্ব তাদেরকে প্রতিরোধে সাহস যোগায়নি। বিগত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে মাঝখানে সাড়ে তিন বছর বাদ দিলে শেষের বিশ একুশ বছরে এরা মানসিকতায় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক, চলনে বলনে আধুনিক, ক্রিয়া কর্মে অত্যন্ত চৌকস, ভোগ স্পৃহায় পাশ্চাত্য ধারার অনুসারী হয়েও প্রয়োজনে ধর্মাদ্ধতার তরবারি নিয়ে নিজের শোষন ব্যবস্থার দর্শন ও স্বতন্ত্র্যকে বজায় রাখতে ও অন্যের অধিকারকে খন্ডিত করতে এরা পিছপা হয়না- তেমনি একটি প্রজন্ম গড়ে তুলেছে বাংলা, ভারত, পাকিস্তান অঞ্চলে রাজনৈতিক ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থানের উৎসভ‚মি এই শ্রেণী অবস্থানেই বিরাজিত। এরা নারীকে যেমন চাবকাতে পারে, তেমনি নারীর রুপের আগুনে মুগ্ধ হয়ে পাগলপাড়া হতে পারে। পাতি সামন্ততন্ত্রী ও পাতি বুর্জোয়াদের সংস্কৃতির সংমিশ্রিত মূল্যবোধের একটা ককটেল হয়ে এরা জনগনের অনাকাংখিত বিষস্কুটন হয়ে বিরাজ করে। এরা সন্ত্রাসের জন্ম দেয়, ফ্যসিবাদের সৈনিকদের লালন করে, এরা পুরোপুরি বুর্জোয়া হয়নি, তাই বুর্জোয়া মূল্যবোধের ইতিবাচক দিক অর্থাৎ নিজ শ্রেণী বুর্জোয়পাদের প্রতি সহনশীলতার মনোভাব অভ্যন্ত হয়ে উঠেনি। তবে বলা যায়, তবু কেন, গ্রামাঞ্চলে এরা প্রতিরোধ করেনি, তার কারনে ক্ষমতাসীন সুবিধা ভোগীরা অর্থাৎ বড় পাতি সামন্ততন্ত্রীদের অবস্থান থেকে উঠে আসা পাতি বুর্জোয়া মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া লুটেরা বুর্জোয়ারা, তাদের গ্রামস্থ প্রতিনিধিরা তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আন্দোলনে তাদের এতোদিনকার অর্জিত সম্পদ এবং ক্ষমতা বলয়ের সীমান পরিবর্তন এর ব্যাপারে খুবই সতর্ক ও শংকিত ছিল বলেই পরিনামে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমন্ডলে তারা যথাসম্ভব সংঘাত এড়িয়ে চলে। স্ব-শ্রেনলি লোকজনের সাথে অহেতুক বিবাদে মেতে উঠেনি। গ্রামাঞ্চলের পাতি সামন্ততন্ত্রী ও পাতি ধনিক শ্রেনী স্বত্ত¡ ভোগীদের সাথে ব্যাপক সংঘাতের পথে যায়নি।
নাতিশীতষ্ণ সংঘাতের পরিনতি
সংঘাত বেধে গিয়েছিল শহরে ও নগরে – রাজধানীতে। গ্রামাঞ্চলের গরীব, মাঝারি এবং ধনী কৃষকের একাংশ যে সারের আন্দোলন গড়ে তুলেছিল সেই সারের আন্দোলনে প্রধানতঃ গরীব ও মাঝারী কৃষকের অনেক লোক প্রাণ দেয়, কিন্তু তত্ত¡বধায়ক সরকারের আন্দোলনে এগিয়ে আসেনি। ধনী কৃষক স্ব-শ্রেনীর অভ্যন্তরে সংঘাতে যায়নি। এতে একটা তথ্য বেরিয়ে আসে যে বর্তমান শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠত শাসক গোষ্ঠীর প্রতি কৃষক সমাজের প্রবল অসন্তোষ থাকলেও, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আন্দোলনে তা।
বিস্ফোরনেররুপ নেয়নি। তার কারন শহরে নগরাঞ্চলে আবন্হনরত পাতি বুর্জোয়া শ্রেনী নির্বশেশে সকল মানুষেরই একটা প্রচ্ছন্ন নিরব ও চাপা বিক্ষোভ ও বিরাজমান ছিল। দ্বিতীয়ত: গ্রামাঞ্চলের শোষক গোষ্ঠী,শোধীতদের সাথে নিয়ে এসে আন্দোলনে নতুনতর গতিবেগ সঞ্চারের জন্য সচেষ্ট হয়নি-এই জন্য যে তাতে করে শোষীত ক্ষেতমজুর প্রান্তিক চাষী, বর্গা চাষী,গরীব চাষী ও মাঝারি কৃষক ঐক্যবন্ধ হয়ে তাদের বর্তমান আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান বদলের জন্য এবং উৎপাদন সম্পর্কের বর্তমান ধারা বদলের জন্য অনুপ্রান্তিক সোচ্চার বিক্ষুদ্ধ ও সংগ্রামী হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ এর জন্য ছিল একটা মাইনাস পয়েন্ট।
অতএব কেবলমাত্র শহর বন্দর নগর ব্যাপকভাবে অচল হয়ে পড়ে,সেখানে সংঘাত তীব্রতর হয়ে উঠে। একটা কথাই প্রবল হয়ে প্রচারিত হয় যে,নিরংকুশ ক্ষমতার শীর্ষে আসীন ব্যক্তির বংশধরেরা আক¯িœকভাবে ঐতিহ্য বিহীনভাবে অপরিমেয় ধন সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি মুৎনুদ্দী বুর্জোয়াদের রাষ্ট্র ও সরকারের স্বাভাবিক গতিধারায়ও নিতান্ত অনভিপ্রেত। পুরনো লুটেরা, উঠতি লুটেরা ও লুম্পেন বুর্জোয়াদের রাগ একটু কমে আসে। কসকলেই ধরে নেয়-রাজরানীর পুত্র কন্যাদের চুরিধরি বেলেল্লাপনা ও ঔদ্দত্যের এক আধটুকু অধিকার তো থাকাবেই। কৃষক,শ্রমিক, নি¤œ আয়ের চাকুরীজীবি ও অন্যান্য গরীব মানুষদের বলার কিছু নেই।
অতএব,তারপর শহরে ছোট, বড় মাঝারি, সকল ধনিকই শান্তিপূর্ন সহাবস্থান করেই ক্ষমতালাভের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গুতাগুতি মাথা ঘাটাঘাটি না করে কি করে ক্ষমতা লাভের সিড়িতে পা রাখা যায়। তারই জন্য তৎপর হয়। অনেক বুদ্ধিজীবি রাজনীতি ও অর্থনীতিকে পৃথক রাখার পক্ষে ওকালতি করেছেন। অর্থাৎ ক্ষমতারন লড়াইয়ে যত সংঘাত এবং যত অশান্তিই দেখা দিকনা কেন,অর্থ ব্যবস্থার পরিমন্ডলে যেন কোন গন্ডগোল না হয়, শোষন প্রক্রিয়া যেন ঠিকমতোই অব্যাহত থাকে। এখানে যেন মালিকের সাথে মালিকের বিরোধ না ঘটে। এর অন্য অনেক অর্থের মধো এই অর্থও করা যায়-কলকারখানায় শ্রমজীবিদের পাওনা কম পরিশোধ করে অবিশ্বস্য পরিমানে মুনাঠা লুন্ঠন করে শ্রমিককে ঠকিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থা সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাকা যুক্তিসঙ্গত। (তাতে পুজির সঞ্চয় হয়,দেশের প্রবৃদ্ধি ঘটে)কিন্তু রাজনীতির নামে শোষনের চিরত কালীন ব্যবস্থাকে বিপদে ফেলা যুক্তিসঙ্গত নয়। মহাজন,জোতদার,হাওলাদার, জমিদার মন্ডল তথা পূর্বতন জমিদারী অর্থাৎ সামন্ত ব্যবস্থার মধ্য স্বত্ত¡ভোগীর দল আওয়ামী লীগ ও শাসক গোষ্ঠী বি এন পি র মধ্যে সংঘাত বাঞ্চনীয় নয়।এর বিরুদেধ প্রতিবাদ করলেই হয় রাজনীতি তাই রাজনীতিকে তিন অর্থনীতি থেকে পৃথক রাখতে বলেছেন।
আন্দেলনের প্রক্রিয়া:
অতএব কোন পথে চলবে আন্দোলন এতোকাল যাবৎ আন্দোলনে ব্যবহৃত সকল সাধারন শান্তিপূর্ন প্রক্রিয়া নিঃশেষিত। হরতাল,অবরোধ, ধর্মঘট, অসহযোগ সবই অবলম্বিত হয়েছে,গন অনশন বাকি ছিল। কিন্তু গন অনশন কোন স্বয়ং সম্পূর্ন প্রক্রিয়া নয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বক্তব্যানুসারে বাকি থাকে শুধু আইন অমান্য আন্দোলন, অবশ্য কিই বা প্রয়োজন ছিল-যদি বর্তমান তত্ত¡াবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়া হত। দীর্ঘ দুই বৎসর এই দাবি মানা হয়নি। জনাব রেজাউল করিম, জনাব রেদোয়ান আহম্মদ সহ অনেকেই বলেছেন অসহযোগের কারনে অপূনীয় অথনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
আন্দোলন পরিচালনের প্রক্রিয়া হিসাবে সাপও মরবে লাঠিও ভাংবেনা এমন কোন প্রক্রিয়া যদি গ্রহন করা যায়-তবে তো অসহরেয়াগ নয় -পাল্টা সরকারই কয়েম করতে হয়। যেখানে সব কিছু চলবে,থেমে থাকবেনা-ব্যাংক, গাড়ী,যানবাহন দোকান পাট সবকিছুই আন্দোলনকারী কথামত চলবে। আবার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী অবনত হলেই আন্দোলন ও শেষ হবে। বিকল্প প্রক্রিয়া কেবল এই হতে পারে ক্ষমতাসনি সরকার এর আওতামুক্ত কমিউনিষ্টদেরন তথাকথিত মুত্ক এলাকা গড়ে তোলা-যা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহীতার পর্য্যয়ে পড়ে। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃ প্রাক্তন প্রাধন মন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া ওযমন বলেন,(একাত্তর সনেও যখন বাংলীরা স্বাধীনতার লড়াই করতে গিয়ে বাংলার গ্রামাঞ্চল মুক্ত করতে না পারলেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জন্য অশান্তিপূর্ন ও অনিরাপদ করে তুলেছিল ক্তিু চট্রগ্রাম বন্দর পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যন্দ্র প্রহরায়)সচল ছিল’- তেমনি একটা অবস্থা সৃষ্টি করা আন্দোলনের মাধ্যমে। না সে পথে যাওয়া যাবেন। তাহেল বৈধ দাবিটা আদায় হবে কোন বৈধ উপায়ে? রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা অথবা রাষ্ট্র ক্ষমতাকাংখীরা এর জবাব দেবেন।
গনতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি পর্য্যায় হল শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের তত্ত¡াবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠন। ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠী নির্বাচনের পূর্বেই ক্ষমতাকাংখীদের সাথে নতুনতর দ্বন্দে লিপ্ত হয়ে সামরিক বাহিনীর কাধেঁ ভর করে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র বৃহত সকল ধরনের স্বত্ব সূত্রে খাজনা ভোগীরা অর্থাৎ প্রকৃত অর্থেই বস্তুগতভাবে পাতি সামন্ততন্ত্রীরা, মুক্ত বাজার ব্যবস্থার মধ্যে স্তরের বনিক ব্যবসায়ীরা, পাতি ধনিকরা, এখন লুটেরা ধনিক ও মৃৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের সাথে সংঘাতে টিকতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর সমর্থনের জন্য হাত বাড়ায়।
তবে কি জোতদার, মহাজন, হাওলাদার, মন্ডল, ভ‚ইয়া, বর্গামালিক তথা পূর্বতন মধ্য স্বত্ব ভোগী (পাতি সামন্ততন্ত্রেরই আর একটি রূপ এবং পাতি সমন্ততন্ত্রীই, যাদের জীবনচারন ও সংস্কৃতি পাতি সামন্ততান্ত্রীদের থেকৈ ভিন্ন নয়) ভ‚স্বামী ও পাতি ধনিক এবং লুটোরা ধনিকদের সাথে দ্বন্ধে সশস্ত্র সংঘাত অথবা সশস্ত্র সমর্থন ও যোগাযোগ ছাড়া ক্ষমতায় যেতে সক্ষম হবেনা? ভ‚মিহীন চাষী, ছোট দোকানদার এবং অন্যান্য শ্রমজীবি গোষ্ঠী এখানে অনুপস্থিত ও নিশ্চুপ।
রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইঃ সম্পদ দখলের লড়াই
অনেক বুদ্ধিজীবিই জাতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে না দিয়ে, ক্ষমতার দখলের রাজনীতি বর্জন করে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করার কথা বলেছেন ক্ষমতা দখলের রাজনীতি পরিহার করার কথা বলেছেন অর্থাৎ ক্ষমতা দখলের কোন প্রয়োজন নেই, যেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল ছাড়াই সমাজ ও দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়ার যথাযথ নেতৃত্ব প্রদান করা যায়। তাই যারা ক্ষামতায় আছে, তারাই থাকুক, তাদের সাথে সহযোগীতা করে, উৎপাদন ও উন্নয়ন বাড়িয়ে যেতে হবে। (এ ব্যাপারে সবচাইতে উত্তম পদ্ধতি অমৃত্যু ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক শক্তি অর্থাৎ রাজতন্ত্রের কথাই বলা যায়- যাদের অবিচ্ছিন আশ্রয়ে এবং প্রশ্রয়ে থাইল্যান্ডের সামন্ত ও বুর্জোয়ারা রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।) নির্মান তথা উন্নয়ন কাজের টেন্ডার দখলের জন্য যে সশস্ত্র যুদ্ধ হয় তা কোন ক্ষমতা দখলের রাজনীতি নয়। তা সম্পদ দখলের রাজনীতি (ক্ষমতা দূর্নীতিগ্রস্থ করে নিরকুংশ ক্ষমতা নিরংকুশভােেবই দূর্নীতিগ্রস্থ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপকেরা এমন বানীই বর্ষন করেন।) ক্ষমতাসীন দলভ‚ক্তরা সম্পদ দখলের (অশলীন ভাষয়- যাকে বলে লুটপাট) এর জন্য নিজেদের মধ্যেই সংঘাত লিপ্ত হওয়াতে আর রাজনীতি নয়, তা হল মারামারি আর খুনসুট, যা মানব প্রজন্মের শেশবের স্বভাব। ক্ষমতা দখলের রাজনীতি হল, ক্ষমতাসীনদের সাথে অসহযোগিতা, অসহযোগ ও অবরোধ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিছিল। কিংবা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেত্রীর পুত্র যখন মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও পাতি সামন্ততন্ত্রী রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তি স্তম্ভ সংরক্ষিত সশস্ত্র বাহিনীর সেনাপতিকে বিশ্রামাগারে ডেকে পাঠান। তখন তা রাজনীকি নয়, তা হল (নির্দিষ্ট শ্রেনীর কোন ব্যক্তির ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে যে সকল অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটে, সম্পদ দখলের প্রয়াসে সে সকল অভিব্যক্তিই প্রকাশিত হয়) নির্দিষ্ট শ্রেনীর ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পদ দখলের প্রয়াসেরই অনেক অভিব্রক্তির একটি অভিব্যক্তি। এভাবেই ভাঙ্গা সূটকেসের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে অপরিমেয় সম্পদের কোটি কোটি টাকার মূল্যমান। পাতি সামন্ত সংস্কৃতিতে লালিত মধ্যস্বত্বভোগীদের অংশীদারের এবং পাতি সামন্ততন্ত্রীদের বংশধরেরা সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের পরিমন্ডলে রাজনৈতিক ক্ষমতাজাত স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে এবং পাতি সামন্ততন্ত্রী ও পাতি বুর্জোয়া এবং মুৎসদ্দি বুর্জোয়া ও (লুম্পন) বুর্জোয়াদের লুন্ঠন প্রক্রিয়ারা ঈর্ষাম্বিত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা রাজনৈতিক শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাবে- এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। শাসকগোষ্ঠী উপরোক্ত দুই সামাজিক স্তরের দ্বন্ধটাকে তাই মুঘল, বৃটিশ, পাকিস্তানি আমলে সৃষ্ট ও অনুস্মৃত আমলাতন্ত্রের পবিত্র বিধি-বিধানের সীমারেখাকে অলংঘনীয় মনে করেনি বলেই নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতির সমসার্থে তার এলাকার ভোট প্রার্থনা করা হয় যখন, ঠিক তখনই নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি অনিরপেক্ষতা ও ঔদ্ধত্যের দায়ে সেনাপতিদের অপসারন করেন। অন্যদিকে নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবীকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সার্বিক সংগ্রােেমর অংশস্বরুপ সামরিক বাহিনীর অপসারিত মুক্তিযোদ্ধা সেনাপতিদের স্বপক্ষে নৈতিক সমর্থন দান করেন। আসলে সন্ত্রস সৃষ্টি অন্যকে দাবানো যায়। কিন্তু সন্ত্রসবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দাঁড়ালেই তা হয়ে উঠে রাজনীতি। কারন তখন তা আর সন্ত্রাস নয়, সন্ত্রাস করার মতো বস্তুগত অবস্থার অধিকারী একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট শ্রেনীর দর্শন।
আবার পূর্ব কথায় ফিরে আসি। টেন্ডার দখলের জন্য যে সশস্ত্র যুদ্ধ হয়, তা কোন ক্ষমতা দখলের রাজনীতি নয়। ক্ষমতাসীন দলভুক্ত লোকদের মধ্যেই লুন্ঠনের বখরা নিয়ে ভাগাভাগি এবং বন্ধুক যুদ্ধ। বরং সন্ত্রাশের বিরুদ্ধে সৎমানুষেরা যখন রুখে দাঁড়ায়, তখন তারা গুলি খেয়ে মরে। কিন্তু সৎমানুষদের পক্ষে সমাজে সামন্ততন্ত্রকতার উত্তরাধিকার বাহনকারী মধ্য স্বত্বভোগী ও ভ‚ইফোরড় পাতি বুর্জোয়া শ্রেনীর তথাকথিত শিক্ষিত মানুষদের দুর্বলতা। কেন দাঁড়ায়না? কারন পূর্বেকার সৎমানুষদের রাজনীতির সঙ্গে পকোর সৎ মানুষদের (সততার প্রতি সেচ্চার) রাজনীতির পার্থক্য বিরাজমান। আর রাজনীতি হল নির্ভেজাল ক্ষমতা দখলেরই সংগ্রাম। আর ক্ষমতা দখলের সংগ্রামেরই নামান্তর।
(১) রাজনৈতিক আন্দোলনের বর্তমান কাকৌশলের নেতিবাচকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে এবং ণূথণ খৈান দিক নির্দেশনা প্রদান না করার মধ্য দিয়ে সাধারন শিক্ষিত নাগরিকদেরকে অরাজনৈতিক করে, তাদেরকে বর্তমান চলমান রাজনৈতিক চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার একটা প্রয়াস বর্তমানে আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধাভোগী বেনিফিসিয়ারী উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। সা¤্রাজ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত তথ্য মাধ্যমগুলিতেও তথ্যের মর্মমূল অনুসন্ধানে ব্রতী না হয়ে, সূক্ষ ইঙ্গীত বহতার বদলে আবেগ উচ্ছাসের তথ্য দিয়ে মানুষকে তার সমস্য অনুধাবনে চেষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। আমাদের দেশের অনেক বুদ্ধিজীবি এই ধরনের বিচ্ছিন্ন তা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত।
তথ্যর মাধ্যমে উপলব্ধ সত্য
তত্ত¡াবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষন শ্রেনী ও সমাজ বিশ্লেষনের গভীরে যেতে অনীহ নিস্পৃহ হলে শোষকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরিন দ্বন্দের হাদিস কখনোই পওয়া যাবে বলে মনে হয়না। অথচ আমরা সকলেই জানি (২) ১৯৩৬-৪০ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত সময়কালে ও মধ্যস্বত্বভোগী পরবর্তীকালে ক্ষুদ্র সামন্ততন্ত্রী জোতদার, মহাজন, বর্গামলিক ব্যবসায়ী, পাতি ধনিকগনের একাংশ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারেনি, গেলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি।
(৩) শ্রমজীবি বর্গা চাষী, ক্ষেতমজুর কখনোই রাজনৈতিক আন্দোলনে সংঘঠিত শক্তি হিসাবে দাঁড়াতে পারেনি। (৪) ক্ষুদে পাতি সামন্ততন্ত্রীরা, ব্যবসা বানিজ্য মধ্যস্বত্ত¡ভোগীরা তাদের স্বার্থ আদায়ের সংগ্রামে শ্রমজীবি জনগনকে সব সময়ই ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে ফায়দা লটতে চেয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা করায়ও করতে পারেনি। শ্রমজীবিদের মুক্তি ও ঘটাতে পারেনি। (৫) তথাকথিত মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত নামে পরিচিত, যার বামপন্থী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, তারাও সকলেই ক্ষুদে সামন্ততন্ত্রী বলে এবং পতি বুর্জোয়া সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবন্বিত বরে অধিকাংশ সময়ই নিজ শ্রেনীর স্বার্থের ধারাবাহিকতা চলতে গিয়ে শ্রমজীবি শ্রেনীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। (৬) পূবর্তন পাতি সামন্ততন্ত্রী অর্থাৎ বর্তমান সামন্ততন্ত্রী ও ক্ষুদে বুর্জোয়ারা উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পর্কহীন ও বিচ্ছিন বলে রাজনৈতিক আন্দোলনে এমনসব পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করে, যা উৎপাদ প্রক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক নং বরং অনেকটা নেতিবাচক এবং যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালিত হয়, তারা পাতি সমন্ততন্ত্রী, মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেনীভুক্ত এবং তাদের সাথে উৎপাদন পরিচালন প্রক্রিয়ার সরাসরি কোন সম্পর্ক না থাকার কারনে অথবা বিচ্ছিনতার কারনে তারাও নিস্পৃহ হয় এবং সরকার পক্ষীয় ও সরকার বিরোধী উভয় শ্রেনীই উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতি হৃদয়হীন রকমে নিরব থাকে।
(৭) আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের, জনগনকে রাজনীতি সচেতন করার বিষয়ে, কোন চিন্তামূলক কাজকর্ম এবং প্রয়াস অনেকটা অনুপস্থিত। জনগনের মধ্যে হতাশা, বিভ্রান্তি তথা বিচ্ছিন্নতা ছড়ানোর বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশহগ্রহণকারী রাজনীতিকদের চিন্তামূলক প্রয়াসের অনুপস্থিত ও বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক আন্দোলনেরই একটি দূর্বলতা। বাংলাদেশের তথ্র মাধ্যমে প্রকাশিত প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার বেনিফিশিয়ারি বুদ্ধিজীবিদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সমাজ সচেতন কর্মীদের চিন্তাধারার সুষ্পষ্ট অনুপস্থিতিও রাজনীতিতে ক্ষতির কারন হয়েছে।
(৮) এলাকার আন্দোলনের ফসল অর্থাৎ তত্ত¡াবধায়ক সরকার এক ধারনা ও ব্সতবতাকে চিন্তা-চেতনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখবার একটা সচেতন প্রয়াস লক্ষ্যনীয়। সাথে সাথে তত্ত¡াবধায়ক সরকার এর দাবী অর্জন এবঙ এর প্রতিষ্ঠার পেছনের আন্দোলনের প্রক্রিয়াকে দেশ ও জাতির জন্য ধ্বংশাত্মক বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও লক্ষ্যনীয় এবং সাথে সাথে সাধারন মানুষকে রাজনীতি বিমুখী করার প্রচেষ্টাও লক্ষ্যনীয়।
(৯) বস্তুতঃ মূল উৎপাদক শ্রেনীর ( যারা ধ্বংশও করতে জানে, যারা গড়তেও জানে না খেয়ে থেকেও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে- তিনশত টাকা বেতনে দশ ঘন্টা কাজ করে উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রেখে, যানবাহন, হাটবাজার অচলতার মধ্যে না খেয়ে অথবা আধাপেটা খেয়ে জমির চাষ ঠিকমত চালিয়ে গিয়ে) রাজনৈতিক অংগঠনে সরব উপস্থিতির অভাবই বর্তমান রাজনৈতিক আন্দোলনে বড় ধরনের অসংগতির কারন।
(১০) নগরের বস্তি এবং শহর ও শহরগুলির গরীব মানুষদের সাথে, দৈনন্দিন যে সব চলাফেরা সত্বেও আওয়ামী লীগ কমীর্দের তো বটেই বমপন্থী কমীর্দেরও প্রানের সংযোগ না হওয়ার কারনে উপরোক্ত উঠবস মাঝে জীবন যাপনে দুর্ভোগ ও নিপীড়ন সত্বেও কোন সামাজিক রাজনৈতিক চেতনার সৃষ্টি হয়নি। যদিও সংখ্যায় এরা বিশাল, ক্ষুদে সামন্ততন্ত্রী ও ক্ষুদে ধনিকেরা উৎপাদনের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন এবং নগর ও শহরের সর্বহারারাও উৎপাদনের সাথে ছিন্নমূল বলে উভয় শ্রেনীর মাঝে শোসক-শোষিত অথবা শোষিত-শোষিত কোন সম্পর্কই গড়ে উঠেনি। না পারে তারা পরস্পরকে বন্ধু ভাবতে না পারে তারা পরষ্পরকে শত্রæ ভাবতো।
(১১) সম্পত্তিবিহীন বুদ্ধিজীবি, ভ‚মিহীন চাষী, বস্তিবাসী সর্বহারা শ্রমিক, গরীব কৃষক, ফেরিওয়ালা, গরিব দোকানদার, নি¤œ ও নির্দিষ্ট আয়ের সরকারী ও বেসরকারী কর্মচারী প্রভৃতি জনগোষ্ঠী একত্রে জনসংখ্যার শতকরা ষাট ভাগ। কিন্তু তাদের কোন রাজনৈতিক সংগঠন নেই। নেই বলেই তারা রাজপথের আন্দোলনে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নিয়ে ব্যাপক সংখ্যায় সমবেত হয়না, কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের অর্থাৎ শ্রমজীবিদের স্বতন্ত্র সমস্য ও প্রয়োজনকে ঘোষনা ও প্রচারকারী রাজনৈতিক দলকে প্রবলভাবে সমর্থন করেনা। সমর্থন করতে সাহস পায়না, ভয় পায়, ব্যক্তিহীনতায় ভোগে। সম্পদহীন তা অর্থাৎ সম্পদের অভাব এক ধরনের অসহায়ত্বের জন্ম দেয়, এক ধরনের জীবন বিমুখ পলায়নী মনোবৃত্তির জন্ম দেয়, বিচ্ছিন্নতা বোধের জন্ম দেয়। পরনির্ভরশীলতার জন্ম দেয়। সকল সম্পদ অর্থাৎ শতকরা আশি ভাগ সম্পদহীন মানুষ, সম্পদহীনতার হীনমান্যতয় ভোগে। পাতি সামন্ততন্ত্রীকতার অবশেষ যুক্ত উৎপাদন পদ্ধতির সমাজে, নয় ঐপনিবেশিকতার শোষনের কারনে ধানতান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতি বিকাশিত হয়না উৎপাদনের উন্নয়ন তথা প্রবৃদ্ধি স্থবির থাকে অথবা প্রয়োজনানুযায়ী প্রবৃদ্ধি হয়না। সেখঅনে শ্রমজীবি মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়, জীবনবিমুখ হয়, ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন হয়, জীবন বিচ্ছিন্ন হয়। তারা যুক্তিকে গ্রহণ করতে ভালোবাসেনা। অন্ধ আবেগকে সম্বল করে বেঁচে থাকতে ভালোবাসে, জীবনের চলার গতিতে বেগ আনতে আকাংখা করেনা। তারা কুসংস্কারকে আকড়ে ধরে থাকে। অনড় হয়ে থাকে। আমাদের মতো পাতি সামন্ততান্ত্রিকতার অবশেষ যুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা পাতি- বুর্জোয়া ও সংগতিহীন বুর্জোয়া ব্যবস্থার সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবন্বিত দেশ ও সমাজে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের আর্বিভাব একারনেই ঘটে। বি এন পি, জাতীয় পার্টি এবং (কিছুটা পরিমানে আওয়ামী লীগ) এর মতো সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংগঠন সমূহের আবির্ভাব ঘটে এ কারনেই। বিগত আন্দোলন এবং নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়কালে ধনিক শ্রেনীর রাজনৈতিক সংগঠন সমূহের র্কাযকলাপে এটা ধরা পড়ে।
সম্পদের মালীকানা না থাকা সম্পদশালীদের উপর নির্ভরশীলতার জন্ম দেয়, গন আন্দোলন যখন তুঙ্গে উঠে, তখন এই পরশ্রায়ী মনোভাবকে পরিহার করার একটা চেতন আকাংখা শ্রমজীবি ও গরীব জনতার মধ্যে লক্ষ্যে করা যায়, কিন্তু নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য ও শত্রæ-¯œায়ু সংগঠনের অবর্তমান আয় পরাশ্রয়ী বোধ বিসর্জন দেয়ার চেতনা ও আকাংখা টিকে থাকেনা। সার বিক্ষোভের সময়ও এটা সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। এটা অনুন্নত বিকাশরুদ্ধ সমাজের শ্রমজীবিদের বৈশিষ্ট্য। অবশ্য এই উপলব্ধিটা, শ্রমজীবি শ্রেনী যত দ্রæত অর্জন করবে তত দ্রæতই তারা বিষয়ীগতভঅবে দৃড়, তৎপর ও সংগ্রামী হয়ে উঠবে।
(১২) ১৯৪৭ সালের পর আমাদের বাংলা অঞ্চলের শাসক গোষ্ঠী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য লড়াই করে। সেই লড়াই এ গরীব জনতা ও শ্রমজীবি গোষ্ঠী বারে বারে ভ‚ল করে শত্রæ পক্ষের গোষ্ঠীরই লোকজন তাদের এ্যাশোসিয়েশন খুজতে গিয়ে শ্রমজীবি জনতাকে ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু কাল বিভ্রান্ত করার পর নিজেদের উপযুক্ত সামাজিক অবস্থান তৈরী করে কেটে পরে।
(১৩) ১২ই জুনের নির্বাচনের জন্য রচিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী মেনিফেস্টো বিশ্লেষন করলে দেখা যায়,সমস্ত তথ্য মাধ্যমে বি এন পি ও আওয়ামী লীগ অথাৎ দুটি বড় দলকেই শ্রেণী নির্বিশেষে জনসাধারনের সকল অংশের চোখে প্রধান করে তোলা হয়। যদিও সকল পত্রিকাই ধনিক শ্রেণী কর্তৃক পরিচালিত এবং ধনিক শ্রেনীর স্বার্থই তারা সংরক্ষন করে। ধনিক শ্রেণীর দলগুলির মেনিফেস্টো ফলাও করে প্রচার করে। বামপন্থী দলগুলোর মেনিফেস্টা তারা প্রচার করলেও কর্মসূচীর সেই সকল অংশই এমন ভাবে তুলে ধরে যে অংশ ধনিক শ্রেণীর স্বার্থের হানিকর বক্তব্য বহন করেনা। ধনী গরীব নির্বিশেষে সকলের স্বার্থকে ভাষাভাষা ভাবে প্রকাশ করে। গরীব শ্রেনীর মুক্তির সকল দাবীনামাকে চাপা দিয়ে রাখে। শ্রমজীবি শ্রেণীর সংগ্রামের তথ্যকে বø্যাক আউট করে।
(১৪) নির্বাচনে সশস্ত্র পেশি শক্তি চব্যবহারের মাধ্যমে ধনিক শ্রেণীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক ভোট কেন্দ্র দখলের ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। এতে একটা সত্য বেরিয়ে আসে যে, শ্রমজীবি শ্রেণীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের স্বার্থে শোষক শ্রেণীর সাথে প্রতিদ্বন্ধিতায় নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য সকল সম্ভাব্য পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য প্রস্তুত হওয়া বাঞ্চনীয়।পাতি সামন্ততন্ত্রী,পাতি বুর্জোয়া, লুটেরা বুর্জোয়াদের বঞ্চিত এক গোষ্ঠী কর্তৃক, অর্ন গোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করে শাসন ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত বয়স্ক ভোট প্রথা একটি পদ্ধতি হিসাবে এতদ অঞ্চলে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠীত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোট প্রদান প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সুযোগমত অস্ত্রের ব্যবহার ও ওপেন সিক্রেট হিসাবে ভেতরে ভেতরে অর্থাৎ গোপনীয়ভাবে স্বীকৃত। কেবলমাত্র সম্পত্তিহীনের অসহায়ের মত নিশ্চুপ হয়ে সব কিছু দেখা যায়। নিজেদের শ্রম-পন্যের উপর নিজেদের অধিকার বজায় রাখার জন্য নিজেদের ক্ষমতায়ন জরুরী। উচ্ছংখল শোষক শ্রেণীর বিরুধে লড়াই কে টিকে থাকতে গিয়ে কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ সংগঠনের বিদ্যমানতাই যথেষ্ট নয়। শোষকদের পাল্টা পাল্টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে অস্ত্রের ব্যবহার আবশ্যকীয় কিনা তা বিবেচনার বিষয়। বস্তুতঃএকথা সর্বজন স্বীকৃত যে, শোষক শ্রেণী সমূহের সুযোগমত আস্ত্রের ব্যবহার করে থাকে। সে রকম পরিস্থিতিরে শ্রমজীবি শ্রেণী নিরস্ত্র অসহায় অবস্থায় দাড়িয়ে থাকবে কি করে? জনগনের গনতান্ত্রিক আন্দোলনের এটি একটি প্রশ্ন।
(১৫) জনগনের নিজেদের গনতন্ত্র কায়েমের জনর‌্য গ্রামের ক্ষেত খামারে শহরের কলকারখানায় শোক শ্রেণীর মাযে প্রতিদ্ব›িদ্বতদায় রাষ্ট্র ও সমাজ সংগঠনের ক্ষুদ্রতম এক গুলিতে শ্রমিক শ্রেণীর উদ্যোগে শ্রমিকদের দুর্গও অবস্থান গড়ে তোলা দরকার।

সাইফ শোভন, চিফ রিপোর্টার,ঢাকা নিউজ২৪.কম