জঙ্গিবাদের বিপক্ষে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন

নিউজ ডেস্ক:    বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না, এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সংঘ। বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও ২৬ নভেম্বরের মুম্বাই হামলার কথা উল্লেখ করে বক্তারা এর পেছনে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পরে জঙ্গিবাদ বিরোধী র‍্যালি বের করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদ কখনোই মেনে নেয়া হবে না। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জঙ্গিবাদের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না।

মুম্বাই হামলার পেছনে লস্কর-ই-তৈয়বা বা জামাত-উত-দাওয়া-র মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজের জড়িত থাকার সমস্ত প্রমাণ থাকা স্বত্বেও মাত্র ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের সন্ত্রাস বিরোধী আদালত ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীকে এই সাজা দেয়। গোটা দুনিয়ার কাছেই হাফিজের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সবরকম তথ্য প্রমাণ থাকলেও এই রায়ের মাধ্যমে হাফিজকে রক্ষায় ও জঙ্গিবাদের পক্ষে নিজেদের অবস্থান খোলসা করে দিয়েছে পাকিস্তান।

অবশ্য মুম্বাইয়ে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ হত্যার পরও যে হাফিজের কড়া শাস্তি হবেনা সেটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। বিষয়টি এ বছরের ৯ জুন আরো পরিষ্কার হয়। মুহাম্মদ হাফিজ সৈয়দের সঙ্গী হাফিজ আবদুল রহমান মাক্কি, মালিক জাফর ইকবাল, ওয়াইয়া আজিজ আর আবদুল সালামদের শাস্তি ঘোষণার সময়ই তা উঠে আসে সাধারণ জনগণের কাছে। মুম্বাই হামলায় জড়িত ইকবাল আর আজিজের মাত্র ৫ বছর কারাদণ্ড হয়। আর মাক্কি ও সালামকে এক বছরের জন্য জেলে পাঠায় পাক-আদালত। হাফিজ ও তার দলবলকে ঘরোয়া রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসীদের অর্থায়নের অভিযোগে শাস্তি দিচ্ছে পাক-সরকার।

এমন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা মানব সভ্যতার পক্ষে বিপজ্জনক। আর পাকিস্তান সরাসরি মদত দিয়েছে এই হামলায়। মুম্বাই বিস্ফোরণের তদন্তে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই-এর সঙ্গে লস্করের যোগাযোগের নতুন নতুন প্রমাণ উঠে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই গ্রেপ্তার করে ভারতে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া ডেভিড কোলেম্যান হ্যাডলিকে। লস্কর আর আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগসূত্রের ভূমিকায় ছিল হ্যাডলি। সে নিজেই বলেছে, মার্কিন, জিউস ও ভারতীয় নাগরিকদের খতম করার জন্য আইএসআই ও লস্কর যৌথভাবে ষড়যন্ত্রে সামিল ছিল। অর্থায়ন থেকে শুরু করে সব বিষয়েই আইএসআই জড়িত ছিল মুম্বাই হামলায়।

আইএসআই অফিসার মেজর ইকবাল হ্যাডলিকে হামলার বিষয়ে যাবতীয় গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করতেন। আক্রমণের লক্ষ্য নির্বাচন থেকে কৌশল সবই হয়েছিল মেজর ইকবালের নির্দেশনায়। বর্ষীয়ান লস্কর জঙ্গি মাজিদ মীর ছিলেন ২৬/১১ হামলার সমন্বয়কারীর ভূমিকায়। করাচীর হাই-টেক সেনা কমান্ড অফিস থেকে মীরের ফোনালাপও ধরা পড়েছে। স্পষ্ট শোনা গিয়েছে, সেখানে মীর চবদ হাউজে এক বন্দী নারীর মাথায় গুলি করার নির্দেশ দিচ্ছেন।

পাকিস্তান মুম্বাই হামলার ষড়যন্ত্রকারীদের রক্ষা করে চলেছে। এর পিছনে রয়েছে নিজেদের স্বার্থ। ভারত ও আফগানিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ জারি রাখার পাশাপাশি মুম্বাই ষড়যন্ত্রে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা যাতে ফাঁস না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রয়েছে ইসলামাবাদের।