হারলেও জনপ্রিয়তা বেড়েছে ট্রাম্পের!

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হারলেও বেড়েছে তার জনপ্রিয়তা। ২০১৬ সালের চেয়ে এ বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। গত চার বছরে বর্ণবাদী এবং ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। যদিও তার দাবি, ডেমোক্র্যাটরা তাকে এসব তকমা দিয়েছেন আফ্রিকান আমেরিকানদের একচেটিয়া ভোট পেতে।

বাস্তবতা হলো, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২০ সালের নির্বাচনে সব মিলিয়ে এক কোটি ভোট বেশি পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুধু বিদেশে নয়, নিজ দেশেও তুমুল সমালোচিত এই প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা না কমে বরং বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে। তবে চার বছরে ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপই বাড়িয়েছে তার জনপ্রিয়তা।

নয়া উদারনৈতিক অর্থনীতির বিপরীতে রক্ষণশীল নীতি দিয়ে শ্বেতাঙ্গদের পাশাপাশি অনেক অশ্বেতাঙ্গকে আকৃষ্ট করেছেন ট্রাম্প। অনেকে এমনও মনে করেন, ট্রাম্পের চেয়ে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট খ্রিষ্টান ক্যাথলিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠন করতে পারবেন না। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বামপন্থিদের একাকার করে নানা মন্তব্য করেছেন তিনি। এর ফলে কিউবা, বলিভিয়া কিংবা ভেনেজুয়েলা থেকে যারা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন, তারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন দেদার।

এডিসন রিসার্চ-এনইপির জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প একচেটিয়াভাবে শ্বেতাঙ্গদের ভোট পেয়েছেন। অন্যদিক একচেটিয়াভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট পেয়েছেন নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও গত নির্বাচনের তুলনায় এবার ট্রাম্প তাদের ভোট বেশি পেয়েছেন। কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের ১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ভোট পেয়েছেন ৫ শতাংশ। অথচ গত নির্বাচনে এই গোষ্ঠীর একচেটিয়া ভোট পেয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। গতবারের তুলনায় হিস্পানিক বা লাতিনো পুরুষদের ৪ শতাংশ এবং নারীদের ৫ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছেন ট্রাম্প। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এশীয় এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প, যা গতবারের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।

কৃষ্ণাঙ্গদের ছাড়িয়ে চলতি বছর লাতিনোরা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সংখ্যালঘু ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে উঠে আসে। অভিবাসন ইস্যুতে সব সময়ই রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করে আসা ট্রাম্পের পক্ষে তাদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে সম্প্রতি। ২০১৭ সালে গ্যালাপের জরিপ অনুযায়ী, ৬৭ শতাংশ লাতিনো অবৈধ অভিবাসী নিয়ে চিন্তিত। এ সংখ্যা লাতিনো নন এমন শ্বেতাঙ্গদের (৫৯ শতাংশ) তুলনায় বেশি। ২০১৮ সালে পরিচালিত হাওয়ার্ড-হ্যারিস জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সংখ্যা কমানো উচিত। ৫৪ শতাংশ কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে।

এসব জরিপ থেকে একটি বিষয় পরিস্কার তা হলো, অনেক কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো ট্রাম্পের রক্ষণশীলতা পছন্দ করছেন নিজেদের রুটি-রুজি নিশ্চিত করতে, যাতে সেখানে কেউ ভাগ বসাতে না পারে। অন্যদিকে, যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হয়ে আসা ডেমোক্র্যাটদের উদারনীতি নিয়ে সন্দিহান অনেক কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো। বরং গত চার বছরে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ভালো অবস্থানে নিতে পারায় তার প্রতি এসব সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সমর্থন বেড়েছে। এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থি হিসেবে প্রচার চালিয়েও সফলতা পেয়েছেন ট্রাম্প। সূত্র: বিবিসি।