আফগানিস্তান মওসুমী – তনয় মোফাজ্জল

আফগানিস্তান
মওসুমী
তনয় মোফাজ্জল
(১)
এব্রো থেব্রো ধূসর পার্বত্য এলাকায় ওরা
রক্তাক্ত হৃদয়ের রাইফেল তাক করে, খোঁজে ফেরে
পাহাড়ের গুহায় গুহায় লুকিয়ে থাকা
ধূর্ত শেয়ালের ভ্রæড় হাসির শয়তানি।
এতদিন কার শোষনের ভিত গেছে ওপড়ে,
বহুদূর বিস্তৃত, শেকড়শুদ্ধ আগাছার মূল
উপুর হয়ে পড়ে,
হাতরে ফেরে নরম মাটিতে শোষনের
শেকর ছড়িয়ে
অক্টোপাশ-মুখ দিয়ে
জীবন-রস শুষবে বলে।
মাথায় পাগরি, মুখে সফেদ দাঁড়ি,
হাতে তসবিহ,
মুখে মহা শক্তিধরের নাম
শক্তি মদমত হায় অনেক নারীর ইজ্জত
দু টুকরো রুটির দামে
ক্রয় করেছে,
বাঘিনী আফগানিকে বন্দিনী করেছে
সাতাশ সুতি কাপড়ের
কোঁচকানো শিকল
আর কুয়াশা ওরনার
অন্ধকার দিয়ে।

অনেক মানুষের যুগ যুগ যৌবন ব্যর্থ হয়ে গেছে,
অনেক উষার আলো পাহাড়ের আড়ালে
কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আড়ালেই থেকে গেছে,
উদ্ভীন্ন, উন্মুখ সবুজের যৌবনের মুখ আর দেখেনি,
অনেক পাহাড়ী ঝরনার কলকল ধ্বনি,
প্রাসাদের অলিন্দে করে গেছে গোলাপের সুবাতাস
তবু শিরীনের দিন
দেয়ালের সীমানায় বন্দিনী।
অগ্নিময় ছুটন্ত ধাতবের আঘাতে আমৃত পাখী
উড়ে চলে উন্মাদ
আর্ত চিৎকারে বলে
ফরহাদ, ফরহাদ, ফরহাদ
আগাানিস্তানের ধূসর রুক্ষ পার্বত্য আকাশে আর
বাতাসে
প্রতিধ্বনি আর প্রতিধ্বনি।

পর্বতের পাদদেশে
কঠিন কংকর উপত্যকার হৃদয়ে
সবুজ প্রাণ হাসে কলকল
আপনিই একাকীত্বে বিহবল।
বন্দিনী শিরীন এর মতো
যুগ যুগ ধরে অন্ধত্বের –
প্রাচীনাত্ব, আপন আবর্তে উচ্ছল।
আফগানিস্তানে জাতিভেদ প্রথা ছিলনা?
ছিলনা পরশের মলিনতা?
ছিল ইসলামের মানবতা?
তবে কেন চারিদিকে পানির এতো তীব্র অভাব!
কন্ঠ-তালু পাকিয়ে তাকিয়ে পীপাশার্ত প্রাণী
চারদিকে ঘুরে ফিওে,
জমিদারের আঙিনয়
পানির উৎসমূখ
সহ¯্র বৎসরের বন্দিনী কূপ।
তবু হায়- পীপাসার্ত চাতক পাখী পানির আশায়
ঘুরে ফিরে,
কন্দর থেকে কন্দরে,
পর্বতের পাদ দেশে আর উপত্যকায়।
উপত্যকার উর্বর ভূমি
তুমি কার ?
কে তোমার ?
এক হাতে তলোয়ার
চাবুক আর হাতে
দর্পিত অত্যাচার ক্ষত বিক্ষত করেছে পার্বতী পৃথিবীর যৌবন
হাজার বছর হতে।
তবু চাষী কেটেছে, পাথুরে মাটি,
বুনেছে সোনালী গমের বীজ
রক্ত আর ঘামের বিনিময় এনেছে ফসলের ঘ্রান,
হাতুরির আঘাতে আঘাতে জেগেছে পাথরের প্রান।
কাাফেলার ঘন্টার ধ্বনিতে মন্ত্রিত হয়েছে পাহাড়ী পথ
অনুরনিত হয়েছে বেদনার গান।
বেদনার গান আর
মজলুমের আর্তনাদ
মিলে মিশে হয়েছে একাকার।
কেঁদে ফেরে ফরহাদ!
পাহারী নারীর চোখের পানি
মিশেছে ঝরনার জলধারায়
সয়লাব হয়েছে উপত্যকায় ভূমী।
কেঁদে ফেরে ফরহাদ
কন্দর থেকে কন্দরে
শিরীন! শিরীন।
ভেঙ্গে ফেল অর্গল,
বেরিয়ে এসো, কাস্তে হাতে
সোনালী গমের শীষ ঘরে তুলে নিতে।
কেঁদে ফেরে ফরহাদ
শিরীন ! শিরীন!
শিরীনেরা আজ মৃত ?
জওয়াব নেই কোনো ?
জওয়াব দাও ………
কেঁদে ফেরে ফরহাদ,
কন্দর থেকে কন্দরে
শিরীন! শিরীন!
ইসলামী আলখাল্লার নিচে দর্পিত জমিদার
তুমি আর কত দিন ?


বিতারীত শৃগাল
বিস্তারে ষড়যন্ত্রের জাল
লুকিয়ে লুকিয়ে খোঁজে
হায়েনার চাল।
দূরাগত হাসির রেশ ধরে
খোঁজে ফেরে কায়েসী স্বার্থ
আজাদীর আরকান পারে, ধূর্ত শৃগাল।
আলখাল্লার আড়ালে নেকড়ের ও কন্ঠে
ধ্বনিতে হয় আজ
শান্তি আর আজাদীরে আওয়াজ।
ছিন্ন ভিন্ন ক্যারাভান,
দস্যুরা তৎপর
উপত্যকায় চাষীরা দিশেহারা
আঙ্গুর লতার ফাঁকে
কর্ন বিদীর্ন করে ঝাঁ ঝাঁ নেকড়ে দানবেরা।
রকেট ল্যানসার ,
ছোঁ মেরে নিয়ে যায়, শান্তি
পাহাড়ী জনতার ।
পাক-মার্কীন কাজ।
হতভম্ব পার্বতীরা
পর্যদুস্ত আজ ।
হায়েনার হাসির মায়ায় হারিয়ে যায়-
মায়াবী হাজার বছর;
ছিন্ন ভিন্ন তাঁবুর দড়ি;
আজ বিচ্ছিন্ন কাফেলা বহর।
কদরক্ত বৈদেশি পেশী,
অবৈধ মেদ,
তৈল সিক্ত মস্তক একত্রিত করে
কায়েমী শোষনের ক্লেদ
চিরন্তন করিবারে।
দিগন্ত বিস্তৃত প্রাসাদের প্রাচীরের অভ্যন্তরে
মদ, মাংস আর নারী
শোষনের হানাহানি আর কানাকানিতে
মেতে উঠে রহস্যময় কুঠিবাড়ী
রাওল পিষ্টির
তৈরী হয় সুরা;
আবারো হাজার বছর;
জমির ফসল, পশুপালের পশু
করে নিতে লুট
আবারো চাবুক ।
শপাং শপাং হেনে আবারো চাবুক
মাতাল হয়ে যেতে উঠে ক্ষিপ্ত মালীকেরা
আবারো রক্তাক্ত হবে রিক্ত কিষানেরা।
কৃষকের ঘামের ফসল,
ক্ষেতের বেদানা আঙ্গুর।
আবারো নিংরে নিয়ে খাবে
রক্ত, মদ, সুর ।
জীবন রস শোষে নেবে, বিস্তৃত করার জাল
চিরকালের কায়েমী স্বার্থীরা।
আবারো রক্তাক্ত হয় ব্যাঘ্র সিপাহীরা ?

গালে ডালিমের লালিমা,
গায়ে টসটসে আঙ্গুঁরের সবুজিমা
শক্ত কঠিন প্রস্তর ভেদ করে উঠে।
নয় বছর বয়স হলেই
শিশু মানুষ আর শিশু থাকে না;
সমর্থ হয়,
প্রতিক’ল প্রকৃতির দিকে তির্য্যক দৃষ্টি দিয়ে
তাকাতে শেখে
হাতে নেয় ডাংঙ্গুলি
কাঁধে নেয় রাইফেল।
প্রতিকূল প্রকৃতির দিকে তাক করে
গুলি ছুঁড়ে দেয়
ওঁত পেতে থাকা দুশমনকে
জানিয়ে দেয়
মাটি ভেদ করে উঠা উদ্যত অংকুর
সূর্য্যকে দেখতে করেনা ভূল।
জীবনের উৎস ওখানেই
বাঁচতে হলে মানুষ বাঁচার মস্ত্র সন্ধান করবেই।
ধূলি ধূসরিত বৃক্ষরাজি রোদের পোড়ায়
হয় তামাটে ।
মত্ত ঘোড়ার মতো, তেজিয়ান ব্যাঘ্রের মতো বেপরোয়া হয়,
ভালোবাসা, আদরের সুডৌল আঙ্গুলের
পরশের ছোঁয়া
না পেয়ে যেমন কঠিন হয় যেমন
মানুষের মন

চোখ আজ অন্ধ,
কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে
সামনে যে গভীর খাদ
আর একটু এগোলেই পড়ে যাবে অতল তলে
হারিয় যাবে চিরকালের জন্য;
হয়ে যাবে অতীতের ইতিহাস
হাজার বছরের প্রান্ত সীমায়
হাজারো কংকাল কথা কয়ে উঠবে
পাখের শিকল নয়, মূল পড়া বেরী
শোষনের শক্তিকে পারেনি।
বন্দিনী শিরীনের কারাগার
প্রসাদের প্রোফার
চুরমার করে ধুলায় লুটিয়ে দিতে পারেনি,
ফরহাদের হাতিয়ার।
ভালোবাসার নজর বইয়ে
দিতে পারেনি।
শিরীনের দরোজায়
কিন্তু, না-
শাসনের আর শোষনের মাড়াইকলে
গমঝাড়া নয়,
সনাতন কালো অক্ষরের কালো নিকাব নয়,
সামনে আর এগোনো নয়।
দূর দিগন্তে সূর্য উঠেছে
চোখের কালো নেকাব
আর সত-পয়তা কালো ওরনার অন্ধকার
বাঁ হাত দিয়ে হ্যাঁচকা টান মেরে
খোলে তাকিয়েছে
সূর্য্যরে ঝলমঅ উজ্জ্বল আলোর দিকে
শিরীন, ফরহাদের দিকে
কি সুন্দরে এর পৃথিবী
ফি খুব সূরত এই দুনইয়া ?
কে আসবে আগলে রেখেছিল এতদিন ?
ইসলামী আলখাল্লার নিতে দর্পিত জমিদার
তুমি আর কতদিন ?
পাহাড় কেটে ঝরনা বহানো
ভাস্কর ফরহাদ
শ্রমিক ফরহাদে: প্রেমিকা শিরীন
আকাশ বাতাস উন্মাতাল করে উরে বেড়ানো
ডালিম ফুলের আলীমা শিরীন ?
জওয়াব দাও-
মোনাফেকী আর ভন্ডামীর আরালে
ভোমরার প্রান
দর্পিত জমিদার তুমি আর কতদিন?
নরোমা আঙ্গুঁল গুলো টুস করে ভেঙ্গেঁ যায়।
সেই হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
উজ্জ্বল আলোর অক্ষরগুলো
দৃষ্টি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠে।
খেলা করে দুই আঙ্গুঁলের প্রান্তসীমায় কলম আর তুলি
মুখের নেকাব খোলে ফেলে
আঙ্গুঁর লতার আঙ্গুঁলে শোভা পায়।
চকচকে কালো ধাতব বাঁশি,
বাঁশির ফুঁ- য়ে বের হয় আগুনের সুর ।
শত্রæর বুক ঝাঝরা সোনালী গুলি।

যে মেয়েকে উদোম গতরে,
চাবুক মেরে
শেখানো হয়েছে ইসলামী তাহ্যীব
শতদ্্রুর তীরে,
ফনিনীর মতো ফুঁসো উঠেছে
সেই সে মেয়ে, কাবুলের প্রান্তরে।
সেই সে মেয়েই দীর্ঘ রজনী
পাড়ি দেয় আফ্রিকায়
লোহার খাচায় বন্দীনীপাখী,
কাতরায় আর কাতরায়।
তার দীর্ঘ শ^াস
মথিত করে তোলে
কালো আফ্রিকার কালো আকাশ ।
কালো দয়িতার বিষন্ননীল ভালোবাসা
নীল সাগরের উতল হাওয়ায় মিশে
হাহাকার হয়ে ছড়িয়ে পড়ে
আফ্রিকা থেকে এশিয়ায়
আফগানিস্তানের গিরি সংকট প্রান্তরে ।
পার্বতী মেয়ের ধাতব বাঁশীর সুরে
পৃথিবী নারীর করুন বিলাপ
বিক্ষোভ বিদ্রোহে
গর্জন হয়ে
ফেটে পড়ে।
ঈগল পাখীর আত্মা হয়ে
কন্দরে থেকে কন্দরে
ফরহাদ কেঁদে ফেরে,
তীক্ষè নিটুর বজ্রের আওয়াজে।
শিরীন! শিরীন ! শিরীন !
ইসলামী আলখাল্লার নিচে
দর্পিত জমিদার তুমি আর কতদিন ?

 

আমার আত্মার মুক্তি

আমি- ব্যক্তির মাঝে বন্দী আর এক আত্মা
যেমন ডিমের মাঝে লুকিযে থাকে আর একটি অনাগত প্রাণ
চারদিকে সাদা খোলস, তার ভেতরে চটচট আঠার মতো
পিচ্ছল স্বচ্ছ পদার্থ ।
সুন্দর মায়াবী বেড়ী দিয়ে তৈরী
এ বন্দীশালা
এর থেকে আত্মার মুক্তি ঘটবে কখন ?
যখন ভালোবাসর উষ্ণতা দিয়ে
তাতিয়ে তুলবে,
খোলস আস্তে আস্তে আপনিতেই পতিলা হবে।
বাকি থাকাবে কেবল একটি ঠোকর
ভালোবাসার আঘাত দিরে ভাংবে জঠর ।
চিঁ চিঁ চিৎকারের ভাষায়
কথা কয়ে উঠবে প্রাণ
কিন্তু যতো সহজে
কবিতা কওয়া যায়
ততো সহজে তো নয়,
ভেঙ্গেঁ ফেলা প্রাসাদের শৃংঙ্খল ।
সহজ তো নয় চারদিকের লোহার গরাদগুলো
হারকিউলিসের মতো শক্তির মদমওতায়
দুমরে মুচরে ফেলা ।
সহজ তো নয় লোহার গরাদের
শক্ত লৌহ শশাকাগুলো
ষাটলাখী বাহু দিয়ে দুই ফাঁক করে
মাথা গালিয়ে বেরিয়ে আসা।
খুঁটির দড়ি ছিঁড়ে গেলে নির্ঘাত উপবাস
তাই নেই আশা।
রেল-লাইনের পাশে পরে থাকা ভাসমান
কুকুর- মানুষগুলোর মতো চেয়ে চিন্তে ভিক্ষে করে
ছিনতাই করে , দেহকে, আত্মাকে বিক্রী করে
পরমানন্দে দিন যাপন।
আকাংখার সাথে বাস্তবতার দ্বন্দে
হেরে যায় মন।
আসলে কখন ও কি কেউ হেরে যায়
আমলে হারজিত বলে কিছু নেই
অন্তর্লীন অস্তিত্বের মতো।
রং বেরং এর মতো, সন্তর্পনে
জীবন সারাক্ষান
চলতোই থাকে।
ক্ষুদ্র পিপীলিকার ক্ষুদ্র অতি বিষদাঁদ
বিধতেই থাকে ।

থর থর কম্পনে মনে হয়
এ যেন বেদনা
থর থর কম্পনে মনে হয়
আনন্দ কল্পনা।

দুই হাতে বেড়ী, দুই পায়ে বেড়ী
খাঁচায়-পোড়া বাঘের আর্ত চিৎকার
কাঁপিয়ে তোলে প্রকৃতি।
যতই শৃংখল ভাঙ্গাঁর গান গাই,
শৃংখল ভাঙ্গাঁ যায়না।
স্বপ্নিল পারবতের মতো, মনে তাই
উড়ে যাই।

ছড়া-১
চক চকে রূপা নয়
আলী তার নাম
টাকা কড়ি মেলা তার
বলি তার দাম।
দামাদামি ভালো নয়
এক দাম হাঁকি
কিনুয়ারা কিন বেই
যদি পায় বাকি।
সরকারী আইন মতো
রূপা ভালো নয়
রূপালির আংটিতে
গ্যাসট্রিক হয়
তাই। তাড়াতাড়ি রূপা বেচা
বুদ্ধির কাজ
রূপা বেচে
ঢেঁকি কিনে
বুদ্ধির রাজ্জ।
একটি ধাঁধাঁ শুনুন
জওয়াব দিযে আপনারা, স্যার,
একটি ঢেঁকি কিনুন
একুশ লাখের শূন্য কটা
গুনে দেখুন স্যার
রাত্রি দিনে হিসাব মিলান ,
পুরান ক্যালকুলেটার।
ব্যাটারি ছিল নষ্ট
শূণ্য একটা বাদ পড়লো
অংক অস্পষ্ট
আবার তারে বেচে দিয়ে
লাভ হলো যে কি
যিকা জায়েজ কিনতে গিয়ে
কত টাকার কি
পানতা ভাতে ঘি।
ঝরাপাতার জীবন নিয়ে
কবিতা লেখা হয়না,
সবুজ পাতার যে সূ² কারুকাজ,
হলুদ বিবর্ণ হলেও নিশ্চিহ্ন হয়না,
রক্তহীন চর্ম ঢেকে রাখতে পারেনা
ঘুনে ধরা কড়ি কাঠের মতো
হলুদাভ অস্থি,
তেমন-জীবন নিয়ে জমেনা
বড়ো গল্পের আসর ।
যদি বলতে হয়
তবে লিখতে হয়
ছোট ছোট গল্প,
যা শেষ হয়েও নিঃশেষিত
হয়না কোন দিন।
হাজারো ঝরাপাতার জীবন
মৃত্যুর বিছানায় লুটিয়ে
গাদাগাদি শুয়ে থাকে চিরদিন।
সন্তর্পনে পথ চলি
তবু ফুটপায়ে, পায়ে দলি
মাতিয়ে যাই
গোলাপ নয়,
ক্ষুদ্র বিবর্ণ শুকনো পাতা।
বেদনার ধ্বনি
হাহাকার কান্নায়
মর্মরিয়া উঠে,
ভুলে যাই তাকে।
কালো ক্ষত পাতায় পাাতায়,
এক সময়ে মর্মমূলে
তার পচন ধরে
রক্তহীন হলুদ বোঁটা
প্রাণের হলুদ ঝোঁটা
প্রাণের সাথে সমস্ত
সম্ভাবনাকে ছিন্ন করে।

ধুলার বিছানায় এসে লুটিয়ে পড়ে
তেইশ বছরেই তেতাল্লিশে
এসে
জবু খবু কোঁকরানো চামরা
মাথার এলো মেলো ধূসর
জঞ্জাল জটা
উড়ন্ত বাতাসে তুলা
ঝড়া পাতার
মতো কাতারে কাতারে
পচে পচে নিঃশেষ হয়ে
মাটির সাথে মিশে যায়
মাটি হয়ে যায়।
আবারে কচি সবুজ
লক লকিয়ে বেড়ে উঠে।
কিন্তু মাকে মনে
রাখেনা কেউ।
হরিদাসী, ময়িয়ম হারিয়ে যায়
মরে মরে যায়
হাওয়ায় হারিয়ে
যায় ঝরা পাতারা।

সাইফ শোভন, চিফ রিপোর্টার,ঢাকা নিউজ২৪.কম