বাড়ছে ট্রাম্প সমর্থকদের সহিংস বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৪

নিউজ ডেস্ক:    যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার থেকে ভোট পরবর্তী সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অনেক রাজ্যেই। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অন্যান্য প্রান্তে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পর্যন্ত ২৪ জনেরও বেশি ‘সহিংস বিক্ষোভকারী’কে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ বাহিনী।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পতাকা বহনকারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ‘প্রাউড বয়েস’সহ দেশটির উগ্র ডানপন্থি দলের সদস্যদের দেখা গেছে, যাদের অনেকে হেলমেট ও বুলেট প্রুপ আচ্ছাদন পরিহিত ছিলেন।

২০১৬ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য’ ও ‘বর্ণবিদ্বেষ’ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দেশটিতে। করোনাকালে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার পর আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

এদিকে প্রেসিডেন্সিয়া নির্বাচনের পর জর্জিয়া, নেভাডা ও পেনসিলভানিয়ার মতো রাজ্যগুলোতে রাস্তায় নেমে পড়ে হাজার হাজার ট্রাম্প সমর্থক। পরাজয় না মেনে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মার্কিন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন ট্রাম্প। উগ্র সমর্থকদের প্ররোচনা দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ট্রাম্পকেই দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

এখনও নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে অনড় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শনিবার ট্রাম্পের সমর্থনে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ রাজধানী ওয়াশিংটন-সহ বিভিন্ন প্রদেশে মিছিল বের করে। হোয়াইট হাউসের দিকে মিছিল এগোনোর সময় ট্রাম্পবিরোধীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। এরপরেই শুরু হয় হাতাহাতি। একে অপরকে লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ করা হয় বলেও অভিযোগ আছে।

এদিকে শুক্রবার আমেরিকায় নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। নির্বাচনের ফল পাওয়ার প্রায় ১০ দিন পর বেজিংয়ের অভিনন্দন বার্তা স্পষ্ট ইঙ্গিত, হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের জন্য ফিরছেন না এটা তা মেনে নিয়েছেন চীন। সব মিলিয়ে ট্রাম্প শিবিরের ফের ক্ষমতা দখলের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। অভিযোগ আছে, শেষ আশা হিসেবে সহিংস বিক্ষোভকে বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প।