অর্ণব গোস্বামী গ্রেফতার, বাক স্বাধীনতা হুমকির মুখে

সুমন দত্ত

টিভি মিডিয়ায় যারা সাংবাদিকতা করেন তাদের কাছে অর্ণব গোস্বামী একটি পরিচিত নাম ও মুখ। ভারত ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও অর্ণব গোস্বামীর অনেক ভক্ত সাংবাদিক রয়েছে। বাংলাদেশে এনডিটিভির মত মিডিয়াগুলি জনপ্রিয়তার কারণ অর্ণব গোস্বামী। সেই অর্ণব গোস্বামী আজ কারাগারে। মহারাষ্ট্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানো হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সাহায্যে কীভাবে নিরীহ অসহায় লোককে জেলে ঢোকানো যায় তার উজ্জ্বল উদাহরণ অর্ণব গোস্বামী। যিনি বহু সাংবাদিকদের আইকন।

অর্ণব গোস্বামী রিপাবলিক টিভির সম্পাদক। সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যজনক মৃত্যুতে তিনি নিয়মিত সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছিলেন। সুশান্তের মৃত্যুতে ঝড়ো গতিতে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে একে আত্মহত্যার ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছিল মহারাষ্ট্র পুলিশ। আর এতে পিছন থেকে ভূমিকা রেখেছিল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠ্যাকারে। যিনি সাংবাদিক কার্টুনিস্ট ও রাজনীতিবিদ প্রয়াত বাল থ্যাকারের সন্তান।

কেন তিনি সুশান্তের মৃত্যুতে পুলিশকে এই তাড়া দিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, যেদিন সুশান্ত সিং রাজপুতকে হত্যা করা হয়, তার আগের দিন ভিকটিমের বাড়িতে মাদক পার্টি চলছিল। আর সেই মাদক পার্টিতে ছিল উদ্ভব থ্যাকারের ছেলে আদিত্য থ্যাকারে।

পুলিশ যদি রয়ে সয়ে তদন্ত করে তবে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। এজন্য মহারাষ্ট্র সরকারের এই তাড়া ছিল। এ নিয়ে লাগাতার নিউজ করে যাচ্ছিলেন অর্ণব গোস্বামী। মূলত তার প্রচারের কারণেই ভারতের সুপ্রিমকোর্ট সিবিআইকে এই মামলার তদন্ত করার আদেশ দেয়। পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্ট এটাও বলে ভারতের যেসব সংস্থার সাহায্য লাগবে, প্রয়োজন মতো তার সহযোগিতা যেন সিবিআই নেয়।

মামলা সিবিআইয়ের কাছে চলে গেলে ভারতের নার্কোটিক্স ডিপার্টমেন্টের অভিযান শুরু হয়। এতে বলিউডের চুনোপুঁটি থেকে থেকে শুরু করে রাঘববোয়ালের নাম এসে যায়। এরপর জানা যায় যায় পুড়ো বলিউডই গাঁজাখোরদের, তথা মাদকসেবীদের আড্ডাখানা।

এ নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রচার করে অর্ণব গোস্বামীর টিভি চ্যানেল রিপাবলিক টিভি। যেখানে হালের নায়ক নায়িকাদের মাদক গ্রহণ করতে দেখা যায়। এরপরই সংসদে অমিতাভ বচ্চনের স্ত্রী জয়া বচ্চন এর প্রতিবাদ করে। তিনি মিডিয়ার বিরুদ্ধে সরব হোন। পাশাপাশি প্রতিবাদী এক নায়িকার বিরুদ্ধে সরাসরি বলিউডের মানহানি হয়েছে বলে তার ওপর দোষ আরোপ করেন। অথচ যে ঘটনা থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত, সেই সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া এই নারীর।

অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যুতেও একইভাবে নীরব থাকতে দেখা যায় জয়া বচ্চনকে। এদের নিয়ে সমালোচনা করায় পুরো বলিউড ক্ষেপে যায় সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু তদন্ত এখনো চলছে। অন্যদিকে মাদক অধিদপ্তরের তদন্ত এখনো চলমান। ইতিমধ্যে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান অভিনেতা অভিনেত্রীকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এরই মাঝে অর্ণব গোস্বামীকে সাইজ করার জন্য ২ বছর আগে মুম্বাই পুলিশের একটি আত্মহত্যা মামলাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে জীবিত করে অর্ণব বিরোধীরা। যে মামলা থেকে পুলিশের তদন্ত দল অর্ণব গোস্বামীকে অব্যাহতি দিয়েছিল।

অর্ণবের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তিনি নাকি তার টিভির ইনটিরিয়র ডিজাইনার অভয় নায়েক ও তার মাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে পাওনা টাকা পরিশোধ না করার কথা বলা হয়। আরও বলা হয় আত্মহত্যার আগে মৃত অভয় নায়েক একটি চিঠি লিখে যান। চিঠিতে তার ও তার মায়ের আত্মহত্যার জন্য অর্ণব গোস্বামী সহ আরও দুইজনের নাম পাওয়া গেছে।

ধরেই নিলাম অভিযোগকারী অভিযোগ সত্য। তাহলে কিসের ভিত্তিতে পুলিশ এর আগে অর্ণব গোস্বামীকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিল? পুলিশের সেই তদন্ত অফিসার এখনো বেচে আছে ও বহাল তবিয়তে চাকরি করছে। এ থেকেই বোঝা যায় পুরো ঘটনা ফেক।

অথচ মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ আদালত এটা বুঝতে চাচ্ছে না। তারা অর্ণব গোস্বামীকে নিম্ন আদালত থেকে জামিন নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

আসলে সবকিছুর মূলে রয়েছে ভারতের সংবিধান। যে সংবিধান প্রতিটি রাজ্য সরকারকে তার নিজ সীমায় প্রধানমন্ত্রী সমান ক্ষমতা দিয়ে থাকে। তারই অপব্যবহার করছে উদ্বভ থ্যাকারে, মুখ বেঁকা শারদ পাওয়ার, ইতালিয়ান মাফিয়া সোনিয়া সেনা ও বলিউডের মহা মানব দাউদ ইব্রাহীম ও পাকিস্তানের জামাতে ইসলামের নেতা মওলানা ফজলুল রহমান। যারা বলিউডে এসব মাদকসেবী নায়ক নায়িকাদের পিছনে অর্থ বিনিয়োগ করে থাকেন। মহারাষ্ট্র এখন ছোট খাট পাকিস্তান অকুপাইড কাশ্মীর।

যেভাবে রাষ্ট্রবাদী এক সাংবাদিককে জেলে ঢোকাল, এ থেকে বোঝা যায় মহারাষ্ট্রে কাদের শাসন চলছে। মহারাষ্ট্রে বাক স্বাধীনতা বলে কিছু নেই আর।

লেখক সাংবাদিক তারিখ: ১১-১১-২০২০