আমি আমার বস হবো : যুবসমাজের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে কীভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা যায়, সেই চিন্তা মাথায় রেখে যুবকদের দেশ গঠনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর বাসস, ইউএনবির।

যুবসমাজের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ডিগ্রি নিয়েই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কীভাবে কিছু করা যায়; নিজে কাজ করব, আরও ১০ জনকে চাকরি দেব, নিজে উদ্যোক্তা হবো, নিজেই বস হবো; এই কথাটা মাথায় রাখতে হবে যে আমি আমার বস হবো, আমি কাজ দেব। আমার মধ্যে সেই শক্তিটা আছে, সেই শক্তিটা আমি কাজে লাগাব। আমাদের যুবকদের এই চিন্তাটা মাথায় যেন থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি। আমাদের তো সময় শেষ। কিন্তু যুবকরাই তো আসলে দেশে প্রাণ সঞ্চার করবে। কাজেই সেইভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাক, আমি সেটাই চাই।’

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। সেভাবেই তিনি পরিকল্পনা নিয়েছিলেন এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং হানাদার বাহিনীর দোসর, তাদের চাটুকার, যারা তোষামোদি করে তারাই কিন্তু জাতির পিতাকে হত্যা করে অগ্রযাত্রাটা ব্যাহত করে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর যুবসমাজই যে সবার আগে প্রতিবাদে এগিয়ে এসেছিল, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সে কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের সব সময় একটা লক্ষ্য- জাতির পিতার যে আদর্শ, সেই আদর্শ সামনে নিয়ে আমাদের যুবসমাজকে আমরা গড়ে তুলব এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের আমরা গড়ে তুলব। এই বাংলাদেশ যেন একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বিশ্বে এগিয়ে যেতে পারে, আর সেই সঙ্গে আমাদের দেশটা যেন আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মমর্যাদাশীল হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আসার পর দেশের অর্থনীতি যেমন গতিশীলতা পেয়েছে, তেমনি আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

যুবসমাজের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বয়সটা হলো কাজের, চিন্তার, মেধা বিকাশের সময়। আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে, তরুণদের কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, এক সময় দেশে একটি টেলিভিশন ও একটা রেডিও স্টেশন ছিল। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে তার সরকার বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এক সময় দেশে মাত্র একটি মোবাইল ফোন কোম্পানি সীমিত আকারে পরিচালিত হতো। মানুষের হাতের নাগালে মোবাইল ফোন ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর কম্পিউটার শিক্ষা থেকে শুরু করে সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান যাতে বিকশিত হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা যুবক, আগামী দিনে তারা দেশের কর্ণধার হবে। আজকে যে শিশুটি জন্ম নিল, তার ভবিষ্যৎ যেন উন্নত হয়, সে কথা চিন্তা করেই সরকার সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদক- এ ধরনের কাজের সঙ্গে যেন কেউ সম্পৃক্ত না হয়। জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান, সেটা কিন্তু কঠোর থাকবে।’

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠানস্থলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আখতারুজ জামান খান কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। অনুষ্ঠানে ২১ জন স্বনির্ভর যুবক এবং ৫টি সফল যুব সংগঠনকে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার দেওয়া হয়।