ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দুই দলই চাইছে অনিশ্চয়তা

নিউজ ডেস্ক:    নির্বাচনের আর পাঁচ দিন। শেষ সময়ে প্রার্থীদের চোখ কেবল দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর দিকে। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দুই দলই চাইছে অনিশ্চয়তাপূর্ণ রাজ্যগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে। এগুলোর কোনো অঞ্চলে জরিপে ট্রাম্প এগিয়ে, তো কোনো রাজ্যে বাইডেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, এ নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও প্রতিযোগিতামূলক। তাই প্রার্থী দু’জনেই আছেন দৌড়ে। দোদুল্যমান গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এগিয়ে আছেন বাইডেন। তবে জরিপ কি সব সময় সত্য বলে?

সাংবাদিক ও লেখক শামীম আল আমিন বলেন, ‘নির্বাচনী জরিপ সব সময় সঠিক কথা বলে না। ১৯৮২ সালে ডেমোক্রেট প্রার্থী আফ্রিকান আমেরিকান টম ব্রেডলি জরিপে ব্যাপক এগিয়ে থেকেও পরাজিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে আমেরিকান নির্বাচনে এটি ব্রেডলি ইফেক্ট নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন জরিপে দারুণভাবে এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্প জিতে যান।’

শামীম আল আমিন আরও বলেন, ‘জরিপে অনেক ভোটার সত্য বলেন না। বিশেষ করে ট্রাম্পের ভোটাররা জরিপ এড়িয়ে চলেন। শ্বেতাঙ্গ ভোটারাও তাদের মতামত মিডিয়ায় প্রকাশ করতে অনীহা দেখান। অনেক ভোটার শেষ মূহূর্তে মতামত পাল্টান। এজন্য বলা যায়, জরিপ দিয়ে একটি ধারণা পাওয়া যায় মাত্র। কোনোভাবেই পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না জরিপে।’

তারপরেও জরিপ দেখে প্রার্থী ও ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবারের এনবিসি নিউজের জরিপে ফ্লোরিডায় পিছিয়ে ছিলেন। রিপাবলিকানদের অন্যতম ভরসার এই রাজ্যে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান।

ট্রাম্প ২০১৬ সালে ফ্লোরিডায় হিলারি ক্লিনটনকে অল্প ভোটে পরাজিত করেছিলেন। তবে এবার সানসাইন রাজ্যের জরিপে দেখা গেছে, বাইডেন সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে। জরিপে বাইডেন ও ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন যথাক্রমে কৃষ্ণাঙ্গ ৮৪% ও ৪১%, নারী ৫৭% ও ৪১%, স্বনির্ভরদের মধ্যে ৫৫% ও ৪১% এবং সিনিয়রদের মধ্যে ৫৩% ও ৪৬%।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওয়াশিংটন ডিসি কোনো রাজ্য নয়। নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোট আছে ৫৩৮টি। যে কোনো প্রার্থীকে জয়ী হতে হলে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হবে। ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্ক যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যার দিকে থেকে। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় আছে ২৯টি ভোট। কোনো রাজ্যে যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন সেই রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট হয়ে যাবে তার।

ট্রাম্পকে আবারও জয়ী হতে হলে ফ্লোরিডায় জয়লাভ করতে হবে। দেখা গেছে ফ্লোরিডায় না জিতে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। ভোটাযুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত পেনসিলভেনিয়া এবং ওহিওতেও বাইডেন এগিয়ে আছেন ভালো ব্যাবধানে। ২০টি ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে পেনসিলভেনিয়া ও ইলিনয়ন রাজ্য সমানভাবে পঞ্চম স্থানে আছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এবারের জরিপ সত্য হবে। একই সঙ্গে আমি মনে করি বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত। তিনি সর্বসাধারণের জন্য চিন্তা করেন এবং মানুষের জন্য যা অপরিহার্য সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেন। যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা নিয়ে কাজ করবেন। সর্বোপরি তিনি সব শ্রেণীর মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প যেভাবে মানুষকে অবজ্ঞা করে কথা বলেন এবং নিজের অহংবোধ প্রকাশ করেন তা একজন প্রেসিডেন্টের কাছে কাম্য নয়। এরপরও তিনি নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকবেন। কারণ এদেশের অপেক্ষাকৃত অল্পশিক্ষিত খ্রিস্টান, এমনকি বিভিন্ন মুসলিম দেশের আমেরিকান নাগরিকরাও তাকে ভোট দেবে। বয়স্ক নাগরিক, বণিক শ্রেণির লোকেরা তাকে অন্ধভাবে ভোট দিত পারে বলে মনে করা হয়।’