চলে গেলেন হায়দার আনোয়ার খান জুনো

নিউজ ডেস্ক:  কমিউনিস্ট নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা হায়দার আনোয়ার খান জুনো (৭৫) আর নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।

হায়দার আনোয়ার খান জুনো দীর্ঘদিন ধরে কিডনির রোগে ভুগছিলেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ২২ অক্টোবর তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি এক ছেলে, এক মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় ভাই হায়দার আকবর খান রনো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য।

শুক্রবার বাদ জোহর জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে তাকে। এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের কথাও রয়েছে।

১৯৪৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্ম হায়দার আনোয়ার খান জুনোর। তাদের পৈতৃক নিবাস নড়াইলের বরাশুলা গ্রামে। স্কুলজীবনেই কমিউনিস্ট রাজনীতির দীক্ষা নিয়েছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স করলেও রাজনীতিকেই পেশা হিসেবে নেন। ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ১১ দফার অন্যতম রচয়িতা জুনো ১৯৭০ সালে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে এর সভাপতির দায়িত্ব নেন। মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে নরসিংদীর শিবপুরের কমান্ডার হিসেবে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইউনাইডেট পিপলস পার্টির (ইউপিপি) সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক হন। ১৯৭৯ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন তিনি। পদার্থবিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ওপর একাধিক গ্রন্থ লিখেছেন জুনো।

হায়দার আনোয়ার খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর, সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়, সামাজিক সংগঠন ‘জনলোক’-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।