ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শোভাযাত্রা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক:    সাম্য মৈত্রী ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পৃথিবীতে ১২ই রবিউল আউয়াল মাসে মহানবীর (সা.) শুভাগমন ঘটেছে। শুক্রবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের ইমাম পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজের প্রেসিডেন্ট আওলাদে রাসূল (সা.) শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন্ আহমদ আল্-হাসানী নেতৃত্বে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এবং ফ্রান্সে মহানবীর (সা.) অবমাননার প্রতিবাদে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গন হতে জশনে জুলুস বের হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, পৃথিবী থেকে অন্ধকার অনাচার ব্যভিচারসহ মানবতা বিরোধী অপরাধ দূর করতে আলোর মশাল নিয়ে শুভাগমন করেন বিশ্ব মানবতার মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে নারী জাতির কোন মর্যাদা ও অধিকারই ছিলনা। মহানবী (সা.) নারী জাতিকে মর্যাদা ও শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনিই পৃথিবীতে সাম্য মৈত্রী সুবিচার এবং সমতাভিত্তিক মানবিক সমাজ গড়ে তোলেন। তাই মহানবী’র (সা.) এই দুনিয়ায় শুভাগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ পাকের বিশেষ নেয়ামত ও অনুগ্রহ। এজন্যই নিয়ামতের শুকরিয়ার্থে আমরা জশনে জুলুস উদযাপন করি।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ধার্মিক ধর্মের নামে হঠকারী ও উগ্রতায় বিশ্বাস করে না। কোন ধর্মীয় নেতা বা ধর্ম যাজকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও কটূক্তি ধর্মের প্রকৃত অনুসারীরা কখনোই করতে পারে না। মুসলমানরা যদি অন্য ধর্মের ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে তাহলে ঐ ধর্মের লোকের নিকট ভালো লাগবে না। অন্য ধর্ম বিশ্বাসের উপর আঘাতের নাম বাক স্বাধীনতা হতে পারে না। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কিছু দেশ মহানবী (সা.) এর বিরুদ্ধে অবমাননাকর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবর্তে সংঘাত উস্কে দিচ্ছে। আমি এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এজন্য মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কোন ধর্মের অনুসারীরাই তাদের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের অবমাননা মেনে নিতে পারে না। তাই মুসলিম হিসেবে মহানবী’র (সা.) অবমাননা আমরা কিভাবে মেনে নিব? তিনি অন্য ধর্ম বিশ্বাসের উপর আঘাত না করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশে দেশে শান্তিকামী মানুষের জাগরণ ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলোচক হযরত মাওলানা বাকী বিল্লাহ্ আল-আযহারী, হযরত মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, আঞ্জুমান সাধারণ সম্পাদক খলিফা মো. আলমগীর খাঁন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাবেক এসপি আবুল কালাম আজাদ, হযরত মাওলানা বাকের আনসারী, মাওলান ইসমাইল সিরাজী।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব মানবতার কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি এবং দেশবাসীর ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী।