টেক্সাসে নাটকীয় উত্থান বাইডেনের

নিউজ ডেস্ক:  শতাব্দীর সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে। মহাশূন্য থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ভোটে অংশগ্রহণ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। তবে সবার চোখ এখন দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে। ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনায় ভোটযুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি জো বাইডেন এগিয়ে আছেন- তা জানতে উদগ্রীব মানুষ। নতুন নতুন জরিপে কী আভাস মিলছে, তা নিয়ে ভোটারদের কৌতূহল কমছেই না। এই তিন রাজ্যের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে টেক্সাস রাজ্য। সেখানে জনমত জরিপে নাটকীয়ভাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন এগিয়ে গেছেন। এটি রিপাবলিকান অধ্যুষিত রাজ্য হিসেবেই খ্যাত।

দোদুল্যমান রাজ্যগুলো নিয়ে ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড ট্র্যাকার’ জরিপ পরিচালনা করেছে সিবিএস নিউজ। প্রচারের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে এ জরিপে দেখা যায়, ফ্লোরিডায় বাইডেন তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে আছেন। উত্তর ক্যারোলিনায় বাইডেন চার পয়েন্টে এবং জর্জিয়ায় দু’জনই সমানে সমান। নির্বাচনের আর বাকি মাত্র আট দিন।

এ জরিপে বৈচিত্র্যময় বিষয়ে ভোটারদের প্রশ্ন করা হয়েছে। তার মধ্যে করোনা, অর্থনীতি, নেতৃত্বের ধরন, প্রার্থীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বেশিরভাগ ট্রাম্প সমর্থক মনে করেন যে বাইডেন জিতলে দেশটি সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার রূপ নেবে। আবার বাইডেনের সমর্থকরা আশঙ্কা করেন, ট্রাম্প আবার বিজয়ী হলে তিনি স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করবেন।

জরিপে দেখা যায়, বাইডেন করোনাভাইরাস প্রশ্নে দারুণভাবে এগিয়ে আছেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পে আস্থা রেখেছেন ৫০ শতাংশ মানুষ। সেখানে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৪৩ শতাংশ। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান ৪৮ শতাংশ ভোটার। বাইডেনকে চান ৫০ শতাংশ। জর্জিয়ায় সমান সমান। নর্থ ক্যারোলিনায় বাইডেন ৫১ এবং ট্রাম্প ৪৭।

 

২০১৬ সাল থেকে ভোটারদের মধ্যে কী বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে, তার বিশ্নেষণ করেছেন সিবিএস নিউজের সাংবাদিক কাবির খান্না। তিনি জানান, ২০১৬ সালের তুলনায় বাইডেনের পক্ষে শ্বেতাঙ্গ ভোটার বেড়েছে। সেই সময় ট্রাম্প এই তিনটি রাজ্যেই দ্বিগুণ শ্বেতাঙ্গ ভোট পেয়েছিলেন। এখন বাইডেন উত্তর ক্যারোলিনায় এগিয়ে আছেন। ফ্লোরিডায় চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। জর্জিয়ায় ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ ভোট নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বাইডেন বর্তমানে ফ্লোরিডা এবং উত্তর ক্যারোলিনায় কলেজ ডিগ্রিধারী শ্বেতাঙ্গ নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন। জর্জিয়ায় কলেজ ডিগ্রিবিহীন শ্বেতাঙ্গ ভোটার পুরুষ ও নারী উভয়েই ট্রাম্পকে পছন্দ করেন।

 

সিবিএস নিউজের সাংবাদিক এলেনা কক্স জানান, ফ্লোরিডায় কালো ভোটারদের মধ্যে বাইডেনের সমর্থন ৯২ শতাংশ। জর্জিয়া ও উত্তর ক্যারোলিনায় বাইডেনও পাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটনের মতোই কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন। এলেনা কক্স জানান, এই রাজ্যেগুলোর শহুরে অঞ্চলগুলো বাইডেনের পক্ষে। অপেক্ষাকৃত গ্রামীণ অঞ্চলগুলো ট্রাম্পের পক্ষে। শহরতলির কম বয়সী এবং অশ্বেতাঙ্গরা বেশিরভাগ ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিচ্ছেন এবং প্রবীণ শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা আগের মতোই ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রহমান শফিক বলেন, আগাম ভোট এবং ভোট রেজিস্ট্রেশনের সময় নানা প্রশ্ন বিশ্নেষণ করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়েও মানুষের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। এবার প্রচুর আগাম ভোট পড়লেও অর্ধেকের মতো মানুষ এখনও ভোট দিতে যাননি। তাই এই জরিপের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত মনে করার কিছু নেই। তিনি মনে করেন, এবার যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন, তিনি খুব অল্প ব্যবধান নিয়ে হোয়াইট হাউসে যাবেন।

টেক্সাসেও নাটকীয়ভাবে এগিয়ে বাইডেন :টেক্সাসে ১৯৭৬ সালের পর এখন পর্যন্ত জয় পাননি কোনো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। কিন্তু ভোটের মাত্র আট দিন আগে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, বাইডেন এখানে ট্রাম্পের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে গেছেন।

ডালাস মর্নিং নিউজ এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস ও টাইলার পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। চলতি মাসের ১৩-২০ তারিখের মধ্যে পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেন এক হাজার ১২ জন। জরিপে ভুলের হার ধরা হয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। বাইডেন জয়ী হলে টেক্সাসের ৩৮টি ইলেকটোরাল ভোট যাবে তার থলিতে। গত সেপ্টেম্বরেও এখানে দুই পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প।