কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি অভিযোগ, অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতার স্থান পায়নি

 

ময়মনসিংহ ব্যুরো : স্থানীয় গ্রুপিং রাজনীতির কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দুয়া উপজেলা শাখা, নেত্রকোণার নব গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগী অনেক নেতাদের রাখা হয়নি। কমিটি যারা পাঠিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্চারিতার অভিযোগ উঠেছে। একটি গ্রæপ নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি সাজিয়েছেন। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত ১৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের টীমের কাছে কমিটি থেকে বঞ্চিত নেতারা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। আগামী পৌর ও সংসদ নির্বাচনে এর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন।

নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু এমপি গত ২৫ অক্টোবর খ্রি.২০২০, স্বাক্ষরিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার নব গঠিত কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমোদন দিয়েছেন। এই কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। এই কমিটিতে অনেক ত্যাগী নেতাদেরকে রাখা হয়নি। জেলা কমিটির অনুমোদিত এই কমিটিতে মাত্র একজন নারীকে স্থান দেয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদির ভূইয়ার লন্ডন প্রবাসী কণ্যা ফারহানা নাসিম পপিকে কমিটির (ক্র.নং-২৪) মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুল হক ভূইয়ার বড় ভাই এনামুল হক ভূইয়াকে (ক্র.নং-৩৯) সদস্য পদ এবং সাধারণ সম্পাদকের আপন ভাগ্নে মোঃ জুনায়েদ আহম্মেদকে (ক্র.নং-২৬) যুব ও ক্রীড়া সম্পাদকের পদ দেয়া হয়েছে। এই কমিটি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়ে বেড়াচ্ছে।

কেন্দুয়ার স্থানীয় অনেক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে দলের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন এমন অনেককেই নব গঠিত ওই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ওইসব ত্যাগী নেতাদের মধ্যে যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তারা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নূরুল ইসলাম ভূইয়ার সহধর্মিনী বিশিষ্ট নারীনেত্রী সমাজকর্মী সালমা আক্তার, যিনি নেত্রকোণা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, চিরাং ইউপির দুইবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান বৃক্ষরোপনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত, ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতা পদক প্রাপ্ত এবং উপজেলা মহিলা পরিষদের সাবেক সভানেত্রী।

এছাড়াও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পাইকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবীর চৌধুরী, দুই বার নির্বাচিত উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাব, জেলা পরিষদের সদস্য, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীদের সাবেক যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম বাঙ্গালী প্রমূখ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুল হক ভূইয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর কাউন্সিল হয়েছে। সকল নেতাকে তো কমিটিতে জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে।