দেবী বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গাপূজা

নিউজ ডেস্ক:    শেষ হলো বাঙালির সর্বজনীন দুর্গোৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সোমবার চোখের জলে বিদায় দিয়েছে জগজ্জনী মা দেবী দুর্গাকে। বিসর্জন দিয়েছে প্রতিমা। সেইসঙ্গে আসছে বছর আবারও এই মর্ত্যলোকে ফিরে আসবেন মা- এই আকুল প্রার্থনাও জানিয়েছে তারা। তবে এবার বিজয়া শোভাযাত্রা ছাড়াই সর্বত্র প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে।

অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ-কল্যাণ ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি-সম্প্রীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর সব ধরনের উৎসব পরিহার করা হয়। ছিল না সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের অন্যান্য আয়োজন। উৎসবসংশ্নিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়। তাই এবারের দুর্গোৎসবকে কেবল দুর্গাপূজা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আর পূজার সব অনুষঙ্গের আয়োজনও ছিল কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এবার ঢাকা মহানগরীর ২৩১টিসহ সারাদেশে ৩০ হাজার ২৩১টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার দোলায় (পালকি) চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) এসেছিলেন। যার ফল হচ্ছে মড়ক। দেবী স্বর্গলোকে গমন করেছেন গজে (হাতি) চড়ে। যার ফল হিসেবে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণা হয়ে উঠবে।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সোমবার ছিল সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করে বিশেষ সংখ্যা ও নিবন্ধ।

দেবী বিসর্জনের দিনটিতে বিষাদের পাশাপাশি আনন্দমুখর হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে উৎসবে যোগ দিয়েছেন অন্যান্য ধর্মের মানুষও। তবে বিজয়া শোভাযাত্রা না থাকায় উৎসবে ছেদ পড়ে অনেকটাই। রাজধানী ঢাকাসহ বেশিরভাগ স্থানেই সকাল ১০টার আগে দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হয়। এর পর মণ্ডপ-মন্দিরগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আর দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজধানীর অনেক মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে বিসর্জন দেওয়া হয়। টঙ্গীর তুরাগ নদেও কিছু প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

প্রতিমা বিসর্জনের আগে দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা চলে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় দশমীবিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন। চলে ভক্তদের রঙের হোলি খেলা। পরম ভক্তি নিয়ে নিজ নিজ মনের বাসনা জানিয়ে দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ান নারীরা। এর পর বিসর্জনের জন্য সধবা নারীরা দেবীকে সাজান ফুল, সিঁদুর ও নানা অলংকারে। পুরোহিতরা দেবীর জন্য সাজান সিদ্ধ চালের নৈবেদ্য, কচু-ঘেচু, শাপলা দিয়ে। এর পর শেষ মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয় দেবীকে।

বিজয়া দশমীকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশের মণ্ডপ-মন্দিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ-আনসার সদস্যের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় র‌্যাব ও গোয়েন্দা সদস্যদের।