বাইডেনের পক্ষে প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যসহ সকল সামাজিক মাধ্যমেও প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে! দেশব্যাপী বাড়ির উঠোন আর সড়কের আইল্যান্ডে বিভিন্ন স্লোগান শোভা পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, আইওয়া, মিশিগান, মেনিসোটা, নেভাদা, নিউ হাম্পশেয়ার, ওহায়ো, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিস, পেনসেলভিনিয়া আর টেক্সাসের মত দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান পরিচালিত জরিপে কলেজিয়েট ভোটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজ রাজ্য ফ্লোরিডাতেই জো বাইডেন ৩.২ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এছাড়াও তিনি ২০টি কলেজিয়েট ভোটের পেনসিলভিনিয়ায় ৫.৯, ১৬টি কলেজিয়েট ভোটের মিশিগানে ৭.৯, ১৫টি কলেজিয়েট ভোটের নর্থ ক্যারোলিনায় ৩১, ১১টি কলেজিয়েট ভোটের অ্যারিজোনায় ২.৬ এবং ১০টি কলেজিয়েট ভোটের উইসকনসিনে ৬.১ পয়েন্ট ব্যাবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

আরেক প্রভাবশালী পত্রিকা পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাইডেন ১৬ কলেজিয়েট ভোটের জর্জিয়ায় ১, ১০ কলেজিয়েট ভোটের মেনিসোটায় ৮, ৬ কলেজিয়েট ভোটের নেভাদায় ৬.৫ এবং ৪ কলেজিয়েট ভোটের নিউ হ্যাম্পশেয়ারে ১১ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তবে পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৩৮ কলেজিয়েট ভোটের টেক্সাসে ০.৬ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৬টি কলেজিয়েট ভোটের আইওয়া এবং ১৮টি কলেজিয়েট ভোটের ওহায়োতে ১.৯ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। আর এসব দোদুল্যমান রাজ্যের ভোটাররাই নির্বাচনের প্রধান নিয়ামক বলে ধরে নেওয়া হয়।

সিএনএন পরিচালিত জাতীয় জরিপে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে ৯ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থী-কর্মীদের পাশাপাশি ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সাবেক দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট ও হিলারী ক্লিনটন নির্বাচনী তহবিলে অর্থদানের পাশাপাশি ভার্চুয়াল ইভেন্টেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।

 

এবারের নির্বাচনে ইউএসএ টুডে, দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস, লস এঞ্জেলেস টাইমস, দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্যা বোস্টন গ্লোব, দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মত প্রভাবশালী পত্রিকাগুলোও সরাসরি জো বাইডেনকেই সমর্থন করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের ১০ পৃষ্টার বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। পত্রিকাটির সম্পাদনা পরিষদ মিথ্যা, ক্রোধ, দুর্নীতি, অযোগ্যতা, বিশৃঙ্খলা আর অবক্ষয় শব্দ ব্যবহার করে জাতীয় সংকট অবসানের আহবান জানিয়েছে।

‘হোয়াইট হাউজের জন্য অযোগ্য ব্যক্তি’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখায় সম্পাদনা পরিষদ বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জাতীর জন্য গুরুতর সমস্যা। বিধায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধান করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

সম্পাদনা পরিষদ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মজুরী, ট্যাক্স, কূটনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। এছাড়া ওই বিশেষ সংখ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্র উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম সম্পর্কে তারই সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা সচিব, আইনজীবী, চিফ অব স্টাফ আর আত্মীয়ের মত ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের নেতিবাচক মন্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎ পর্যন্ত দেশের সর্বাধিক প্রচার সংখ্যার জাতীয় দৈনিক ইউএসএ টুডে কোন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোন দলের পক্ষ নেয়নি। পত্রিকাটির সম্পাদকীয় পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রথমবারের মত মানসিক ধাতে (মেজাজে), জ্ঞানে, সুস্থিরতায়, পরিপক্কতায় এবং ন্যায়পরায়ণতায় বারবার ঘাটতির প্রমাণ দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই পদের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য করেছে। পরিষদ মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এসব গুণাবলী প্রত্যাশা করে; যার ঘাটতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রয়েছে। সে কারণে পত্রিকাটি তার অগনিত পাঠককে ট্রাম্পকে ভোট না দেয়ার আহবান জানিয়েছে।

এবারের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিও বেশ উৎসাহী বলে নেতারা মনে করেছেন। তারা নিয়মিত কমিউনিটির ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করছেন। অনেকেই আগাম বা মেইল ভোট প্রদান করেছেন এবং অনেক ভোটার আগামী ৩ নভেম্বর ভোটদানের জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ কোটি ভোটার আগাম ও মেইলে ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ নিউ জার্সির রাজ্যের প্লেইন্সব্যুরো টাউনশিপের নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান ড. নুরুন্নবী বলেন, জো বাইডেন নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। আর বর্ণবাদে বিশ্বাসী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুণঃনির্বাচিত হলে প্রবাসীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে হবে।

ড. নুরুন্নবী মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের ইমেজের যে ক্ষতিসাধন করেছেন তা উদ্ধারে বহু বছর সময় লেগে যাবে।