দুর্গোৎসবের প্রতিটি কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালনের আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক :  রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ দুর্গোৎসবের প্রতিটি কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে পালন করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস এক অদৃশ্য শত্রু। এর বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ খুবই জরুরি। আমি আশা করি দুর্গোৎসবের প্রতিটি কার্যক্রম আপনারা স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে পালন করবেন।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারি গোটা বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ অকালে ঝরে গেছে। বাংলাদেশেও নানা পেশার ও বয়সের মানুষ ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। পাশাপাশি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থানসহ জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্গাপূজার সাথে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। রয়েছে প্রকৃতির সাথে নিগূঢ় সম্পর্ক। সে সম্পর্ক শরতের শুভ্রতা আর নীলিমাকে ধারণ করে হৃদয়ে এনে দেয় পূণ্যের শ্বেতশুভ্র আবহ। শুধু তাই নয়, ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন আরো সুসংহত হোক-এ কামনা করি।’

তিনি বলেন, ‘মানবতাই ধর্মের শাশ্বত বাণী। ধর্ম মানুষকে ন্যায় ও কল্যাণের পথে আহ্বান করে, অন্যায় ও অসত্য থেকে দুরে রাখে; দেখায় মুক্তির পথ। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি আমাদেরকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। দুস্থ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য। সম্মিলিতভাবে এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে হবে আমাদের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায়। আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিতে ঋদ্ধ অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে উদ্বুদ্ধ করুক, বিশ্ব মানবতার জয় হোক-এ প্রত্যাশা করি।’

আবদুল হামিদ বলেন, বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আবহমানকাল ধরে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা উপাচার ও অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করে আসছে। দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক উৎসবও। দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী একত্রিত হন, মিলিত হন আনন্দ-উৎসবে। তাই এ উৎসব সার্বজনীন। এ সার্বজনীনতা প্রমাণ করে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।

বাণীতে তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে জেনে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং শারদীয় দুর্গোৎসব সফল হোক, কল্যাণময় হোক-এ কামনা করেন।