ফ্রান্সে শিক্ষকের সমর্থনে, রক্তপাতের প্রতিবাদে বিশাল সমাবেশ

ফ্রান্সে ছুরি হামলার শিকার হয়ে এক শিক্ষকের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শিক্ষকদের সমর্থনে, রক্তপাতের প্রতিবাদে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষায় সমাবেশ করেছে হাজার হাজার মানুষ।
রোববার রাজধানী প্যারিস থেকে লিওঁ, মার্সেই এবং লিল নগরী পর্যন্ত বিশাল জনতা শান্তভাবে জমায়েত হয়েছে। তারা মাঝে মাঝে হাততালি দিয়েছে, কয়েক মিনিট নীরবতা পালন করেছে, জাতীয় সংগীতও গেয়েছে।

প্যারিসের একটি চত্বরের সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স ও শিক্ষামন্ত্রীসহ অন্যান্য রাজনীতিবিদরাও। সেখানে সমবেতদের কারও কারও হাতে ‘আমি শিক্ষক’ লেখা স্লোগান দেখা গেছে।

পরে এক টুইটে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমাদেরকে ভয় পাইয়ে দেওয়া যাবে না। আমরা ভীত নই। আমাদেরকে বিভক্তও করা যাবে না। আমরা হচ্ছি ফ্রান্স।”

গত শুক্রবার ৪৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষক সেমুয়েল প্যাটিকে প্রকাশ্য কিবালোকে গলা কেটে হত্যার পর ঘটনাস্থলের কাছেই পাহারায় থাকা পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়।

চলতি মাসের শুরুতে ইতিহাসের ওই শিক্ষক তার ক্লাসরুমে নবী মোহাম্মদ (সাঃ) ব্যাঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন। এরপর স্কুলের বাইরের রাস্তাতেই ছুরি হামলায় তিনি খুন হন।

হামলাকারী চেচেন বংশোদ্ভূত ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ বলে জানিয়েছে ফরাসী গণমাধ্যম। পুলিশ হামলাকারীকে গুলি করে হত্যার পর এ পর্যন্ত শিক্ষক খুনের ঘটনায় জড়িত আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, খুনের ঘটনাটিতে ‘ইসলামিক সন্ত্রাসী হামলা’র সব আলামতই আছে এবং ওই শিক্ষক ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ সম্পর্কে পড়িয়েছিলেন বলেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার মানুষ মাস্ক পরে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে অংশ নিয়েছে। অনেকের হাতেই ছিল ‘শিক্ষা হ্যাঁ, রক্তপাত না’ কিংবা শার্লি এবদু ম্যাগাজিন বোঝাতে ‘আমি শার্লি’ লেখা স্লোগান।

একজন বিক্ষোভকারীকে ‘রিপাবলিকের সব শত্রুর প্রতি জিরো টলারেন্স’ এবং ‘আমি একজন প্রফেসর, আমি তোমার কথা ভাবছি, সেমুয়েল’ লেখা স্লোগান বহন করতে দেখা গেছে।

লিল শহরেও ‘আমি সেমুয়েল’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার হাতে মানুষ সমাবেশে যোগ দিয়েছে। শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে সমাবেশে সামিল হয়েছেন মুসলিমরাও।

সেমুয়েলের স্মরণে মার্সেই শহরে পালিত হয়েছে এক মিনিট নীরবতা। আরও বেশ কয়েকটি শহরে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার হাতে বিক্ষোভ হয়েছে।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ফ্রান্স একতাবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রের শত্রুদেরকে পরাজিত করতে সফল হবে। ফ্রান্সের সব শিক্ষকদেরেই সমর্থন প্রয়োজন।

সাইফ শোভন, চিফ রিপোর্টার,ঢাকা নিউজ২৪.কম