কাশ্মীরে পত্রিকা অফিস সিলগালা

নিউজ ডেস্ক :    কাশ্মীরের একটি ইংরেজি পত্রিকার অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার স্থানীয় প্রশাসনের সম্পদ বিভাগ রাজধানী শ্রীনগরের প্রেস এনক্ল্যাভে অবস্থিত সেখানকার অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র কাশ্মীর টাইমসের অফিস সিলগালা করে দেয়। পত্রিকাটির সম্পাদকের অভিযোগ, সত্য কথা বলার কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে এই নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

কাশ্মীর টাইমসের মালিক ও নির্বাহী সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন বলেন, অফিস সিলগালা করার ব্যাপারে নিয়মতান্ত্রিক কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। আগে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তারা এসে সংবাদ কর্মীদের বের করে দিয়ে অফিস বন্ধ করে দেয়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবর, পত্রিকাটিকে ১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে ওই জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ভাসিন অভিযোগ করেছেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে জম্মুতে তার সরকারি বাসভবন থেকেও তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার অফিস বন্ধ করে দেয়াটা একটা কূট রাজনীতির অংশ। ভারতীয় প্রশাসন তাকে ‘দমন’ করার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভাসিন জানান, গত বছর তিনি যোগাযোগ অবরোধের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন। যেদিন আদালতে যান, তার পরের দিন থেকেই কাশ্মীর টাইমসের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

গত বছর আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে কাশ্মীরের স্বায়ত্ত শাসন ও সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়। ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটিকে দুটি ফেডারেল অংশে বিভক্ত করে কেন্দ্রীয় শাসনের অধিভুক্ত করা হয়। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ভারত সরকার কাশ্মীরে মাসব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। এছাড়া কাশ্মীরের প্রধান প্রধান আঞ্চলিক নেতাদেরও গৃহবন্দি করা হয়।

ভাসিন বলেন, আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইন্টারনেট ও মোবাইল ও ল্যান্ড ফোন বন্ধ করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম। এ নিয়ে লেখালেখি করেছিলাম এবং আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। সে রোষ থেকেই আমাদের ওপর প্রশাসনের এমন দমনমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

তবে ভাসিনের অভিযোগের বিরুদ্ধাচরণ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটা দমনমূলক ব্যবস্থা নয়। এটা একটা নিয়মতান্ত্রিক কাজ। আমরা ভাসিনের পিতা বেদ ভাসিনকে দেয়া সরকারি ভবনটি সরকারি দখলে নিয়েছি। পত্রিকা অফিস বন্ধ করিনি।

কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিনের বাবা ও পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বেদ ভাসিন ২০১৫ সালে মারা যান।