ধর্ষণের বিরুদ্ধে টিএসসিতে সমাবেশ করলো পুলিশ

নিউজ ডেস্ক:    সারাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও নানা সংগঠন। এরই অংশ হিসেবে এবার ধর্ষণবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করে এই অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে পুলিশ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে ‘নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ’ ব্যানারে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে ধর্ষণ ফ্রন্টলাইনে চলে আসছে। ধর্ষণের বিষয়ে সারাদেশের প্রান্তিক স্তরের মানুষ যাতে সচেতন হতে পারে সে জন্য এধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। যাতে করে কোনও পরিবারের কোনও বাবা-মায়ের ছেলে ধর্ষণের আসামি না হয়। আর কোনও পুরুষ যদি ধর্ষকের উপাধি পেয়ে যায়, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড হবে, এটা যাতে তারা বুঝতে পারে। এখন ধর্ষণ বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে আসামিরাও ধরা পড়ছে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হলো, এর ফলে কিছুটা হলেও এর ভয়াবহতা কমবে।’

আব্দুর রহিম বলেন, ‘নারীর প্রতি যে নির্যাতন চলছে,তা সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ চালালে রোধ করা সম্ভব হবে। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিচার দাবিতে অনশনে রয়েছেন। এটা আসলে খুবই ন্যাক্কারজনক। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমাদের মা-বোনদের সঙ্গে এ ধরনের নিন্দনীয় কাজ হয়েছিল। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ ধরনের কাজ থেকে সমাজকে বাঁচানো সম্ভব হবে বলে মনে করছি।’

ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা সিকদার বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুগে যুগে নারীর প্রতি নির্যাতনের প্রতিবাদ করে আসছে। আমাদের ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।’

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘ধর্ষণের সঙ্গে যারা জড়িত তারা যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের গ্রেফতার করে দেশকে ধর্ষণমুক্ত করতে হবে। আর মূল্যবোধের অবক্ষয়ের জন্যই এ ধরনের কাজগুলো সংঘটিত হচ্ছে। মূল্যবোধ তৈরির জায়গা হচ্ছে পরিবার। ধর্ষণের মতো নিন্দনীয় বিষয় প্রতিরোধ করার জন্য পরিবার এবং সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্ষকরা নিকৃষ্ট। সামাজিকভাবে এদের বয়কট করলে সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ কমবে।’

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ ৷