দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি দাবি

বক্তব্য রাখছেন প্রেসক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি ফরিদা ইয়াসমিন

সুমন দত্ত: ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে ছুটিতে বৈষম্য কেন? সবাইকে সমান ভাবে ছুটি ভোগ করতে দিতে হবে। রাষ্ট্র ইসলাম হলেও অন্য ধর্মের লোকরা সমান ছুটি ভোগ করার অধিকারী। এজন্য আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় ৩ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনের সভাপতি ড. সোনালী দাস এবং তার আমন্ত্রণে আসা বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ও হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহমত পোষণ করে এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

আগামী ২৩ অক্টোবর দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গা পূজা। ৫ দিন ধরে চলা এই পূজায় ছুটি মাত্র ১ দিনের। যা অপ্রাসঙ্গিক এবং বৈষম্যমূলক। তাই দুর্গাপূজা উপলক্ষে কমপক্ষে ৩ দিনের সরকারি ছুটির দাবি জানিয়েছে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের এই ন্যায্য দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরি মানিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত। বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়, সঙ্গীতানন্দ মহারাজ প্রমুখ।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, দুর্গা পূজা উপলক্ষে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি যথার্থ ও সময়োপযোগী। এ দাবি অনেক পুরানো। তিনি বলেন, সবাই এ দাবি অবশ্যই করে যাবেন। পরে যেন এ বিষয়ে নীরব না হয়ে যান।

ড. সোনালী দাস বলেন, আমরা ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে বাস করে রাষ্ট্রের কাছ থেকে কেন সেই আচরণ দেখতে পাই না। সরকার আমাদের জন্য যে ছুটি দেয় তা কোনো কাজে আসে না। তিন দিন ছুটি দিলে আমরা সবাইকে নিয়ে দুর্গা পূজার আনন্দ ভোগ করতে পারি। বৃহৎ ধর্ম গোষ্ঠীর লোকরা যদি একদিন উৎসবের জন্য ৬ দিন করে ছুটি পান, হিন্দুরা কেন ৫ দিন উৎসবের জন্য ১ দিন পাবে?

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরি মানিক বলেন, এদেশ বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ। এদেশে মুসলিমরা ৬ দিন ছুটি পেলে শুধু হিন্দুরা কেন খ্রিস্টান বৌদ্ধ সবার ৬ দিন করে ছুটি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, ছোট বেলা আমি দুর্গা পূজার অনুষ্ঠানে যেতাম। দুর্গা পূজা হিন্দুরা করলেও সবাই সেই অনুষ্ঠানে যায়। এটা সবার উৎসব। তিনি আরও বলেন, এদেশের মোল্লা হুজুররা দূরবীন দিয়ে ভারতের মুসলিম নির্যাতন দেখে। অন্যদিকে চীনের সরকার ঝিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের অত্যাচার নির্যাতন করছে তার বিষয়ে নীরব।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি অবশ্যই দিতে হবে। এটা হিন্দুদের পূজা হলেও এতে অংশ নেয় সব শ্রেণি পেশার মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে বনানীর দুর্গা পূজায় গিয়ে দেখি সেখানে আমার পরিচিত বহু বন্ধু বান্ধব। এটা একটা মিলনমেলা। এই উৎসবে সবাই যায়। সবার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তিনি দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম