আ. লীগে অনুপ্রবেশকারীদের আর জায়গা হবে না: তথ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতায় আছে। বাংলাদেশে বহু সুযোগ সন্ধানী থাকেন, তারা পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছেন। এদের কেউ কেউ সফলও হয়েছে। যেসব ‘সুযোগ সন্ধানী পরিচয় গোপন করে’ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে ঢুকেছেন তাদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের শনিবারের সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোবাবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম সভা হয়েছে। সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য এবং যেসব জায়গায় সম্মেলন হয়েছে সেই কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার জন্য এবং যেসব জেলা-উপজেলায় সম্মেলন হয়নি সেখানে সম্মেলন করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দলীয় সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রেসিডিয়াম মেম্বারদেরকেও বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কমিটি ‘সহসা’ করতে হবে। দেশে ইউপি, পৌরসভা নির্বাচন হবে, তার আগে ‘যতটুকু সম্ভব’ করতে হবে। নির্বাচনের সময় সেগুলো করা যাবে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই যতটুকু সম্ভব করতে হবে।

তিনি বলেন, করোনার মধ্যে আওয়ামী লীগের সাড়ে পাঁচশ নেতাকর্মী মারা গেছেন এবং হাজার হাজার আক্রান্ত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন, মন্ত্রিসভার সদস্য মারা গেছেন। অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে এটি হয়নি, কারণ আওয়ামী লীগ যেভাবে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, অন্য কোনো দল সেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অনলাইন নিউজ পোর্টালে সমালোচনা করা হয়, সেগুলোকে ‘নিবন্ধন না দেওয়ার’ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই, সরকারের সমালোচনা করলে নিবন্ধন পাবে না, এটা নয়। দায়িত্বে থাকলে সমালোচনা হবে, সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা অপরাধ নয়। অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি সংস্থা যাচাই-বাছাই করছে। তিনটি সংস্থা থেকে যখন অনাপত্তি দেওয়া হচ্ছে, শুধুমাত্র নিবন্ধনের জন্যই ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ আগে ‘গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে’ এখন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়’ বলে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুনর্বাসিত করেছেন, সেগুলো এখন দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাপ্টেন মাজেদ তার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার আগে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেছেন। আরও অনেক দলিল দস্তাবেজ প্রমাণ করছে জিয়াউর রহমান কীভাবে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিল।