ভেস সার্ভিসে নতুন দিগন্তের সুচনা জয় কলস

নিজস্ব প্রতিবেদক:  কেউ কেউ বলে থাকেন-বিশ্বকে নিজ চোখে দেখতে না পারা এক ধরনের অভিশাপ। তবে প্রযুক্তির এই এগিয়ে চলা সময়ে নতুন নতুন সব পদক্ষেপ জীবনকে আরও সহজ করে তুলছে। কিন্তু তারপরও সমাজের কিছু সুবিধাবঞ্চিত পিছিয়ে রয়েছেন। আর তাদের কথা ভেবেই সারা বিশ্বে কিছু পরিসেবা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। জয় কলস বাংলাদেশ তাদের মধ্যেই অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। এটি সামাজিক চ্যাটিং আইভিআর প্ল্যাটফর্মের সেবা প্রদান করে থাকে।

এদিকে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের মোবাইল শিল্পকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিকশিত করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ‘জয় কলস’ শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিপণন প্রস্তাবনা, ফিনটেক এবং মান সংযোজন পরিষেবাগুলো নিয়ে কাজ করে থাকে। আর সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবা যারা গ্রহণ করে থাকেন তাদের মধ্য থেকে একজন গ্রাহককে খুঁজে পেয়েছেন, যিনি অন্ধ।

শরিফুল ইসলাম। বয়স ৩০। চোখে দেখতে পান না। বসবাস করেন খুলনার খালিশপুরে। সম্প্রতি জয় কলসের একটি প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনে বিজয়ী হন। এরপরই প্রতিষ্ঠানটির নজরে আসেন তিনি।

শরিফুল বলেন, ‘জয় কলস যখন আমাকে ডেকেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তারা আমার কাছে একটি উপহার পাঠাতে চায়। তখন আমি খুব অবাক হয়েছি। আমি দেড় বছর ধরে জয় কলসের চ্যাটিং সেবা ব্যবহার করছি। আমার মতো দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য, এটি খুবই দারুণ একটি সেবা। তাদের আইভিআর পরিষেবা আমাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অনুভব করতে সহায়তা করে। আমি কারও সাহায্য ছাড়াই এই মাধ্যমে অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারি।’

জয় কলস বিশ্বাস করে প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হওয়া উচিত। সেটা যে যেই অবস্থানেই থাকুক না কেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবার বিষয়ে গ্রাহকদের সব সময় আশ্বস্ত করে আসেছে। আর নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে। গত ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের কয়েকটি দেশে সুনামের সঙ্গে এই সেবা প্রদান করে চলছে।

এদিকে জয় কলস বাংলাদেশে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে টেলিকম মার্কেটে বেশ সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নতুন নতুন বিপণণ কৌশল প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।

জয় কলস বাংলাদেশ লিমিটেড জয় কলস গ্রুপের একটি অংশ। রাশিয়ান এই প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। ইউরেশিয়া জুড়ে শতাধিক কর্মচারী অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলছে তাদের গ্রাহকদের জন্য।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাড়াও জয় কলস-রাশিয়া, উজবেকিস্তান, কম্বোডিয়া, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও কলম্বিয়াসহ বিশ্বের ১২ টি দেশে কাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল এবং টেলিটকের দেওয়া সমস্ত নীতি অনুসরণ করে এবং ভোক্তা অধিকার আইনের নীতি মেনে চলে জয় কলস দীর্ঘদিন ধরে টেলিকমগুলোতে তাদের সেবা প্রদান করে চলছে।

রবি’র ডিজিটাল ভাস অ্যান্ড নিউ বিজনেসে’র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) আহমেদ আরমান সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল পরিষেবা সরবরাহকারী হিসাবে রবি বন্ধু সন্ধানের মতো ডিজিটাল পরিসেবাগুলো ব্যবহার করতে আগ্রহী। কারণ এটি মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে তোলে। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যার বাস্তব সমাধান প্রদান করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, পরিষেবাটি কীভাবে কারো জীবনকে ইতিবাচক উপায়ে পরিবর্তন আনলে সেটি অবশ্যই দারুণ বিষয়। জয় কলস ও বন্ধু সন্ধানের অংশীদার হতে পরে আমরা সত্যিই গর্বিত ও সম্মানিত।’

এদিকে জয় কলস গ্রুপের আন্তর্জাতিক ব্যবসা শাখার পরিচালক মিখাইল ইভানভ বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দ্রুত বিকাশকারী দেশের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা টেলিযোগাযোগ শিল্পের ক্ষেত্রে আরও বেশি কাজ করে এই দেশের মানুষের পাশে থাকতে চাই।’

জয় কলসের বাংলাদেশ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আহমেদ আদিতো বলেন, ‘আমাদের দলের সকলকে অনেক ধন্যবাদ। তারা আজ বাংলাদেশের বাজারে লক্ষ্যমাত্রা ভিত্তিক বিপণন এবং মূল্য সংযোজন পরিসেবাতে সাফল্য দেখিয়েছে। সামনে আরও কিছু নতুন পরিসেবা যোগ করার কাজ চলছে। যা গ্রাহকদের জীবনের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।’

প্রসঙ্গত, জয় কলস বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিপণন ও প্রচারের নানান বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু গবেষণা করেছে।