বেফাকের নতুন চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান ও মহাসচিব মাহফুজুল হক

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আল্লামা মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আল্লামা মাহমুদুল হাসান সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তাকে নিয়ে আগে তেমন বিতর্কও ছিল না।  এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা নূর হোসেন কাসেমি এবং মহাসচিব হয়েছেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

শনিবার ৩ অক্টোবর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মজলিশ ই আমেলা (নির্বাহী কমিটি) ও মজলিশ ই সূরা সদস্যরা এ নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচনে সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত  আল্লামা মাহমুদুল হাসান ৬৩ ভোট পেয়েছেন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সমর্থক আল্লামা নূর হোসেন কাসেমি ৫৫ ভোট পান।

আল্লামা মাহমুদুল হাসান গুলশান আজাদ মসজিদের প্রাক্তন খতিব ছিলেন। আর, আল্লামা নূর হোসেন কাসেমি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম সংগঠন জামায়াত-ই-উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক ও  হেফাজতে ইসলাম ঢাকা শাখার আহ্বায়ক।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (বেফাক) সভাপতি পদ শূন্য হয়।

বেফাকের সভাপতি কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সরকার গঠিত সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হবেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় দুই দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আহমদ শফী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করার একদিন পর মারা যান।

এরপর, সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুগত আলেমদের মধ্যে কাউকে বেফাক চেয়ারম্যান করার চেষ্টা চলে বলে বেশ কয়েকজন হেফাজত নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।

বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সাথে সাথে সাথে তিনি গঠনতন্ত্র অনুসারে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সরকার গঠিত সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। বেফাকের প্রধানই হাইয়াতুল উলয়ার চেয়ারম্যান হবেন। গঠনতন্ত্রে এমনটাই রয়েছে সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রসঙ্গত : বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাবোর্ড ও প্রতিষ্ঠান। বেফাকের অধীন ছয়টি স্তরের সারা দেশের ১৩ হাজার মাদ্রাসা আছে। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। কওমি শিক্ষার সনদের সরকারি স্বীকৃতি থাকায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই সুবাদে সরকারের সঙ্গে কওমি আলে​মদের যোগাযোগও বেড়েছে।