গণতন্ত্র নয়, বিতর্কে চীনের জয়

নিউজ ডেস্ক:  রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে চীনের প্রসঙ্গ এসেছে নজিরবিহীনভাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এমনটা দেখা যায়নি। সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের বিতর্কে গণতন্ত্রের নয়, জয় হয়েছে চীনের।

ট্রাম্প এবং বাইডেন পরস্পরকে চীনের প্রতি ‘বেশি সহানুভূতিশীল’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় চীনের প্রভাবে প্রভাবিত ছিলেন বাইডেন। পাল্টা বক্তব্যে বাইডেন বলেছেন, এক সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কী দারুণভাবেই না করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলা’ করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

ট্রাম্প-বাইডেন যেভাবে বেইজিংকে নিয়ে বিতর্কে আলোচনা করেছেন, তার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো এজেন্ডারই সম্পর্ক নেই। তবে এমন বিতর্কে বেইজিং বেশ উৎফুল্ল হয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ধরন নিয়ে সমালোচনায় মুখর চীন। বিপরীতে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থার উপকারিতার বিষয়টি সামনে এনেছে বেইজিং। ফলে গণতান্ত্রিক সংস্কারের ইস্যু সামনে এলে বেইজিং পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলে, কেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পদ্ধতি চীনের সরকার পদ্ধতির চেয়ে ভালো?

মঙ্গলবারের বিতর্কে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফের যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। বহুল প্রচলিত ডাকযোগে ভোট পদ্ধতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। বিতর্কের একপর্যায়ে ভোট চুরি ঠেকাতে সমর্থকদের কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ৩ নভেম্বরের নির্বচানে নজিরবিহীন চুরির ঘটনা ঘটবে।

নির্বাচনী প্রচারেও একাধিকবার ভোট চুরির সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এনেছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নিজেই যখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন বিষয়টি নিয়ে অন্যদের সমালোচনা করা আরও সহজ হয়ে যায়। অন্যরা তখন ভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হয়তো খুব সহজেই জালিয়াতি করা সম্ভব।

বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে নিজস্ব মডেলের গণতন্ত্র রপ্তানি করে আসছে। কখনও নরমভাবে, কখনও স্থানীয় অসন্তোষ উস্কে দিয়ে এবং কখনও সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ কাজ করছে ওয়াশিংটন। ‘আমেরিকান গণতন্ত্র’ সরবরাহ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনও কখনও কর্তৃত্ববাদের আশ্রয় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেছে, অবাধ, মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচনের কারণে তাদের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।