জাতির কাছে সব ধরনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন শেখ হাসিনা’

নিউজ ডেস্ক:   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জাতির কাছে সব ধরনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ।

‘তারুণ্যের অনুপ্রেরণা শেখ হাসিনা’ শীর্ষক ওয়েবিনারটি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

মাহবুব উল-আলম হানিফ বলেন, শেখ হাসিনা এই উপমহাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র৷ এই বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা ভরসা শেখ হাসিনা। গ্রামে জন্মগ্রহণ করে সহজ-সরল জীবনযাপন করেন তিনি। বাবা মুজিবের কাছ থেকে তিনি রাজনীতি দেখেই এই বাঙালি জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ, মমত্ববোধ প্রকট আকারে ধারণ করেন। শেখ হাসিনা যেমন মায়া মমতা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন ঠিক তেমনভাবে রাজনৈতিকভাবে সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জাতির কাছে সব ধরনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০০৮ সালে যদি আমরা খেয়াল করি, মাত্র ৫৬ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল, সেই জায়গা থেকে শেখ হাসিনা তরুণদের সম্পৃক্ত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছেন এবং তিনি সফল। এখন দেশে ১০ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছে। দেশের ইউনিয়নগুলো ডিজিটাল হাবে পরিণত হয়েছে। ৫ হাজার ৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টারে ১১ হাজার তরুণের কর্মসংস্থান হয়েছে। একটা বড় সংখ্যা বলি, এখন সাড়ে ৬ লাখ আইটি ফ্রিলেন্সার রয়েছে। কারণ ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। এসব সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণেই।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে শিক্ষা দর্শন ছিল-শিক্ষা হতে হবে বাস্তবমুখী, বুনিয়াদি শিক্ষা। শিক্ষা হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও বৃত্তিমূলক। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে তৎকালীন অবৈধ দোসররা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছিল। এরপরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পরে শিক্ষা ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন হয়। আগে আমরা নারী শিক্ষায় পিছিয়ে ছিলাম এখন তা ছেলেদের চাইতেও এগিয়ে।

তিনি বলেন, যে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে ছিল তা আজ স্বয়ংক্রিয়। সারাদেশে ১ হাজার ৮০০টি মাদ্রাসা ভবনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আমরা স্বপ্ন দেখি এই দেশ এগিয়ে যাবে, ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে এই দেশ বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, শেখ হাসিনা ৬ বছর নির্বাসনে থাকার পরে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন গণতন্ত্র উদ্ধার করার জন্যই। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে এসে গণমানুষের সংকট নিয়ে চিন্তা করেছেন এবং তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন। শেখ হাসিনার এই পথ ছিল প্রতিকূল, ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি নেত্রী থেকে বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি নীলকন্ঠী, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া আমাদের ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সানজিদা খানম বলেন, নারীদের বিগত সরকারের সময় অমর্যাদাকর অবস্থায় রেখেছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তরুণদের সক্ষমতা অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্নভাবে। তারুণ্যের শক্তিই আমাদের দেশের সমৃদ্ধি। নারীর টেকসই উন্নয়নসহ নানা কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।