বৃষ্টি উপেক্ষা করে টিকিটের আশায় জড়ো প্রবাসীরা

নিউজ ডেস্ক:    কাজে ফেরার উৎকণ্ঠা নিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো আবারও কাওরান বাজারে সোনারগাঁও হোটেলের সামনে টিকিটের আশায় জড়ো হয়েছেন প্রবাসীরা। টিকিটের নিশ্চয়তা না পেলেও টোকেনের আশায় কেউ বসে কিংবা কেউ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তাদের দাবি, এয়ারলাইন্স যেন তাদের টিকিটের নিশ্চয়তা দেয় এবং টোকেন সরবরাহ করে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ভিড় করতে থাকেন প্রবাসীরা। এতে রাস্তায় জটলার সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে জটলা কমে যায়।

টিকিটের আশায় অপেক্ষমাণ প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই নোয়াখালী, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টিকিটের জন্য এসেছেন। কেউ কেউ গত শনিবার থেকে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু কাজে ফেরার কোনও নিশ্চয়তা কেউ পাচ্ছেন না। টিকিটের জন্য টোকেন হাতে পেলেও কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে বলে জানান তারা।

নরসিংদী থেকে আসা শফিকুল ইসলাম পাঁচ বছর ধরে কাজ করেন সৌদি আরবের জেদ্দায়। পাঁচ দিন ধরে ঘুরছেন টিকিটের জন্য, কিন্তু মিলছে খালি হতাশা। তিনি বলেন, ‘ভিসার ডেট পার হয়ে গেছে। কবে বাড়বে জানি না। টিকিটের জন্য ঘুরতেছি পাঁচ দিন ধরে। এয়ারলাইন্সের কাছ থেকেও কিছু জানতে পারতেসি না। আমরা একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। কাজে ফিরতে পারবো কিনা জানি না।’

নরসিংদী থেকে আসা আরেক প্রবাসী কর্মী আবুল হাসেম ১৬ বছর ধরে কাজ করছেন সৌদি আরবে। তিনি বলেন, ‘কাজে ফিরতে না পারলে কাজ থাকবে না। বাড়িতে খাওয়ামু কী? এমনিতে পাঁচ মাস কাজ নাই। তাই বেতন নাই। ছুটিতে আইসা আটকা পড়লাম।’

মানিকগঞ্জের শাহীন ইসলাম জানান, ‘টোকেন কবে দিবে কখন দিবে, তাও জানতে পারলে হইতো। ঢাকায় বারবার আসা যাওয়াতে অনেক খরচ। এমনিতেই কাজ নাই বেতন নাই।’

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করার পর বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিসার মেয়াদ, ফ্লাইট সংকট থাকায় কিছুটা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে প্রবাসীদের। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইটের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রী নেওয়া ‍শুরু করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও প্রবাসীদের সৌদিতে ফেরাতে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। তবে করোনা মহামারির মধ্যে সৌদিতে ফিরতে প্রবাসীদের মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কিছু শর্ত।