‘বেফাক প্রধান হিসেবে সরকার কাউকে বসালে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্ররা তা রুখে দাঁড়াবে’

 

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :  সরকারের আস্থাভাজন নয় বরং আলেমদের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এর প্রধান নির্বাচিক করার জন্য কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা জোর দাবী জানিয়েছেন। বেফাক প্রধান কে হবেন তা যদি সরকার নির্ধারণ করে দেয়, তা কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা মেনে নেবেন না, প্রয়োজনে প্রতিহত করবেন বলে জানিয়েছেন বক্তারা ।

গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়মনসিংহের তালতলায় জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম মাদ্রসায় আল্লামা আব্দুর রাহমান হাফেজ্জীর সভাতিত্বে ‘তাহাফ্ফুজে ফিকরে দারুল উলুম দেওবন্দ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইত্তেফাকুল ওলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জসহ ৬ জেলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার কওমী মাদ্রাসার প্রধানসহ প্রতিনিধিত্বশীল চার সহ¯্রাধিক ওলামা এই সমাবেশে অংশগ্রহন করেন।

এতে বক্তব্য রাখেন আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, আল্লামা আব্দুল হক, মাওলানা নূর হোসেন কাসেমী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামাগণ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মুফতি আমির ইবনে আহমদ ও মাওলনাা শরীফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে শাহ আল্লামা আহমদ শফী (রহ. ) এর রুহের মাগফেত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক বলেন আমরা সরকারকে জানাতে চাই আমাদেরকে কখনো প্রতিপক্ষ ভাববেন না। আমরা সরকারের কল্যাণকামী। সরকারের সাথে কওমী মাদ্রাসা-শিক্ষকদের সম্পর্ক হলো আমরা সরকারকে দিব কিন্তু সরকারের কাছ সুবিধাদি নিব না। সরকার তার ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচলনা করবে। আইন প্রণয়নে কোথাও কোরান সুন্নাহর বিরোধী কোনো আইন যাতে না হয় তার জন্য আমরা সরকারকে উপদেশ দেব। কোরান সুন্নাহর বিরোধী আইন না করা মুক্তিযুদ্ধের কমিডমেন্ট।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন বেফাকের প্রধান কে হবেন তা ওলামাগণ ঠিক করবেন। সরকার যদি তার পছন্দমত কাউকে বেফাকের প্রধান হিসেবে বসানোর চেষ্টা করেন তাহলে দারুল উলুম দেওবন্দের সন্তানরা তা মেনে নিবে না এবং তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

মাওলানা মামুনুল হক আরো বলেন সরকার আমাদের স্বীকৃতির দোহাই দিয়ে আমাদেরকে সরকারি অনুকূল্যের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করা হলে সেটাও গোটা বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্ররা রুখে দাঁড়াবে।