সাশ্রয় ২৮৬ কোটি টাকা, বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

নিউজ ডেস্ক:  সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে একটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তাদের চলমান প্রকল্পের আওতায় আরও ১০টি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। কারণ তারা তাদের প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত ২৮৬ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে।

দ্য ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজেস ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় জাপানের অর্থায়নে ৮১টি সেতু নির্মিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে এই প্রকল্পের আওতায় আরও ১০টি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সওজের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

তারা জানিয়েছেন, এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য প্রকল্পের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাইকার কাছে প্রস্তাব পাঠাবে সওজ।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন এমন ১০টি সেতু শনাক্ত করেছে বলেও যোগ করেন তারা।

গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়া সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রকল্পের অর্থ সাশ্রয়ের এই উদাহরণ অবশ্যই অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’

ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ২৮৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। অন্যান্যদের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম এবং সওজের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন এই বৈঠকে অংশ নেন।

ওবায়দুল কাদের পূর্বের আরও দুটি সওজ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, সেখানে মোট ব্যয় কমেছে। তিনি বলেন, একটি প্রকল্পে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি নতুন সেতু নির্মিত হয়েছে এবং তিনটি পুরাতন সেতু মেরামত করা হয়েছে।

তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ২২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যেভাবে টাকা বাঁচল

২০১৫ সালের অক্টোবরে দ্য ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজেস ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলাতে ৬১টি সেতু নির্মাণ ছিল এর লক্ষ্য।

জাইকার অর্থায়নে দুই হাজার ৯১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০১৫ সালের অক্টোবরে শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুনে পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।

তবে গত বছর এই প্রকল্পে আরও ২১টি সেতু যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা। ফলে, কাজ শেষ করার সময়সীমা ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রকল্প ব্যয় একই রয়ে গেছে। কারণ, নরসিংদীর একটি বড় সেতু নির্মাণ বাতিল করা হয়েছে এবং সেই বাজেটটি ২১টি ছোট সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ মার্চ খুলনা, বরিশাল এবং গোপালগঞ্জে এ প্রকল্পের ২৫টি সেতুর উদ্বোধন করেন। যা তিন, চার এবং পাঁচ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ছিল। এক এবং দুই নম্বর প্যাকেজের কাজ এখন চলছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

জুলাই মাসে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ষষ্ঠ প্যাকেজের আওতায় ২১টি সেতু নির্মাণের জন্য দুটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

প্রকল্প পরিচালক আবদুস সবুর জানান, মুদ্রা বিনিময় হারে পরিবর্তন (জাপানি ইয়েন বনাম টাকা) টাকা বাঁচার সবচেয়ে বড় কারণ। তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আমরা চুক্তি ব্যয় এবং অনিশ্চয়তার জন্য বরাদ্দ ব্যয় থেকে অর্থ সাশ্রয় করেছি।’

১০টি সেতু

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর জানান, বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে আরও ১০টি সেতু নির্মাণের বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর অফিসে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জাইকা আমাদের প্রস্তাবে মৌখিক সম্মতি দিয়েছে। এখন, সওজ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাবে এবং জাইকা সেটি অনুমোদন দিলে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

এই ১০টি সেতুর ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্যান্য সেতুর কাজ শেষ করতে বলেন।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক-২ মো. রুকুনুজ্জামান জানান, সর্বশেষ চুক্তিগুলোর কেনাকাটার ব্যয় বিশ্লেষণ করে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে প্রায় ৮৫০ মিটার সেতু তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘এজন্য আমরা মোট ৮৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের ১০টি সেতু নির্বাচন করেছি।’

তিনি বলেন, পুনর্নির্মাণের জন্য বাছাই করা সেতুগুলোর বেশিরভাগই বেইলি সেতু এবং সরু সেতু। কাজ সহজ করার জন্য এই সেতুগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে প্যাকেজ-৬ বাস্তবায়নাধীন এলাকায়। এতে করে অনুমোদন পেলে বর্তমান সময়সীমার মধ্যেই তারা অতিরিক্ত এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশাবাদী।