পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের নকশা সংশোধনের সিদ্ধান্ত

সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পদ্মা সেতুর নকশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় রেল সংযোগ প্রকল্পের নকশা সংশোধন বা রি-ডিজাইন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ত্রুটি সংশোধনের জন্য রেলের গার্ডার সরিয়ে ফেলতে হবে। সড়কের সঙ্গে রেললাইনের হেডরুম উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ দশমিক সাত মিটার রেখে নতুন ডিজাইন আগামী সপ্তাহে জমা দেবে রেলওয়ে।

দিনভর পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় রেল ও সেতু সচিব এবং প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রকৌশলীরা বৈঠক করেন। সেখানে রেলওয়ে তাদের ত্রুটি সমাধানে রি-ডিজাইন করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সেতু সচিব বেলায়েত হোসেন এ প্রসঙ্গে জানান, আগামী সপ্তাহে রেলওয়ের রি-ডিজাইন জমা দেওয়ার কথা। রেল সংযোগ প্রকল্পের এই ভুলটি দ্রুত সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি ও রেল সচিব সেতুর ওপর উঠে রোডওয়ে ও রেলওয়ে ডেক বসানোর কাজ পরিদর্শন করেছি। সেতুর দুই কিলোমিটার পর্যন্ত ডেক বসানো শেষ হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ১০টি স্প্যান বসানো সম্ভব হবে। আগামী বছরের ডিসেম্বরে সেতুর সব কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’

সূত্রমতে, কিছুদিন আগে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের হেডরুম উচ্চতার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এজন্য রেলওয়ের কাজে আপত্তি জানায় সেতু কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ভায়াডাক্টের (উড়ালপথ) সঙ্গে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের কয়েকটি স্থানে রয়েছে সাংঘর্ষিক অবস্থা। এর মধ্যে ভায়াডাক্টের পি২৫-১ ও পি২৫-২ পিলারে সমস্যা বেশি। এ পিলার দুটি নির্মাণ করতে গিয়ে জাজিরায় নির্মিত সংযোগ সড়কের কিছু অংশ কেটে ফেলেছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদার চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি)। এছাড়া এই পিলার দুটির উচ্চতা ভূমি থেকে ছয় মিটারের কম, যা সংযোগ সড়কে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি করবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ম্যানুয়াল অনুযায়ী ভায়াডাক্টের উচ্চতা কমপক্ষে ছয় মিটার হতে হবে। কিন্তু পিলার দুটির উচ্চতা যথাক্রমে পাঁচ দশমিক ৫১৭ ও পাঁচ দশমিক ৭০ মিটার। এগুলোর উচ্চতা বাড়িয়ে ছয় মিটার করতে হবে। তবে তা মানতে রাজি হয়নি পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে যুক্তি দিচ্ছে, ২০১৬ সালে পদ্মা রেল সংযোগ অংশের ডিজাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। পরে তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। তাই চাইলেই এখন আর পিলারের উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব নয়। আর পি২৫-১ ও পি২৫-২ একটি পোর্টাল ফ্রেম পিলার। তাই এখন ডিজাইন পরিবর্তন অসম্ভব। বরং পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক কিছুটা নিচু করতে হবে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ।

নকশাগত জটিলতা নিরসনে রেলওয়েকে কয়েক দফা চিঠিও দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। তবে তা না মেনেই পিলার দুটির পাইলিং সম্পন্ন করেছে সিআরইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাজিরা প্রান্তে ওই অংশের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সমাধানে এরই মধ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তখনও সমাধান করা যায়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত সমাধানের তাগিদ আসে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে খোদ প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত হন। এরপর সমাধান খোঁজা শুরু হয়। তার অংশ হিসেবে গতকাল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রেল সচিব, সেতু সচিব, পদ্মা রেলসংযোগ ও মূলসেতু প্রকল্পের দুই পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পের ভুল সমাধান ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। এজন্য বর্তমান যে গার্ডার আছে তার পরিবর্তন করবে রেলওয়ে। সড়ক থেকে রেললাইনের উচ্চতার যে স্ট্যান্ডার্ড আছে, সেটি অনুসরণ করলেই এটা করা হবে।
এসজেই/ঢাকা