আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ভোটে বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক:   নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আসন্ন পাঁচ উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা মনে করেন, এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হলেও লাভ এবং হারলেও লাভ।

সূত্রমতে, বিশেষ করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার প্রমাণাদি দেশি-বিদেশিদের দেখাতে চায় দলটি। আবার সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেছে- এটা প্রমাণ করা সহজ হবে। তা ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবেও দল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন সিনিয়র নেতারা। এসব হিসাব-নিকাশ কষেই বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েও এখন সরে এসেছে বিএনপি।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী দিনের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই আমরা কৌশল পরিবর্তন করেছি। এখন আমরা সব নির্বাচনেই অংশ নিচ্ছি এবং নেব। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস এবং গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ার একদলীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণ আরও স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দল চাঙ্গা হবে বলেও তারা মনে করেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের বাইরে থাকলে রাজনীতি ও সংগঠনের ক্ষতি হয়। এরই মধ্যে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে গেছে। পাঁচ বছর জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করার মতো কার্যকর কোনো বিরোধী দল ছিল না। ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ দিয়ে সরকার যা খুশি তা-ই করেছে। ওই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপির দেশি-বিদেশি শুভানুধ্যায়ীরাও ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত বলে সমালোচনা করেছেন। যে দাবিতে তারা ওই নির্বাচন বর্জন করেছিলেন, সেই দাবি পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও দেশি-বিদেশিদের চাপের মুখে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েও তারা প্রমাণ করেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এতে বিএনপির দাবি আরও জোরালো হয়েছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে আরও যৌক্তিক প্রমাণ করতে এ উপনির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি।

অবশ্য উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও কিছুটা মতপার্থক্য ছিল। বেশির ভাগ নেতা এই নির্বাচন কমিশন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও ‘স্পষ্ট’ করতে এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে সবাই একমত হন।