বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে শূন্যপদ পূরণের তাগিদ

 

নিউজ ডেস্ক :  করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ পূরণে তাগিদ অনুভব করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। কারণ পদ শূন্য থাকায় ভার্চুয়াল বৈঠকে স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করা যাচ্ছে না। আলোচনায় অনেক ইস্যু উঠে এলেও উপস্থিতি কম থাকায় তা কার্যকরের উত্তম পন্থা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দলটির স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে তিনটি বর্তমানে শূন্য। ফলে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজন বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন না, যে কারণে ৬৩ শতাংশ উপস্থিতি নিয়ে বৈঠক করতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় কিংবা অসুস্থতার কারণে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন না ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সদস্য। এসব মিলিয়ে নিয়মিত ৫০ শতাংশের মতো সদস্য নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হচ্ছে হাইকমান্ডকে। এই কারণে শূন্য তিনটি পদ পূরণে তাগিদ অনুভব করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে দুই নেতাকে আনা হয়েছে। আরো কয়েকটি পদ খালি রয়েছে। সেখানে কারা আসছেন, তা নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। চেয়ারপারসনের এখতিয়ার এটি। তিনি যখন মনে করবেন, তখনই পদ পূরণ করা হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বৈঠকে যত বেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন, তত বেশি মতামত ও পরামর্শ আসবে। স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণে প্রকাশ্যে আলোচনা নেই। কারণ এটি চেয়ারপারসনের এখতিয়ার। তবে মনে হচ্ছে, শূন্যপদ পূরণে করণীয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে।’

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা রাখা হয় ১৯ জন। কাউন্সিলের পর স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে ১৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন খালেদা জিয়া (চেয়ারপারসন), তারেক রহমান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।

এর মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ জনে। গত বছর জুন মাসে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমানকে নতুন মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে। সেই হিসাবে এখনো শূন্য রয়েছে তিনটি পদ।

প্রথমে কারাবন্দি ও পরে অসুস্থতার কারণে বৈঠকে থাকতে পারেন না খালেদা জিয়া। পদত্যাগ করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বৈঠকে থাকেন না। যদিও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াও অসুস্থ থাকায় গত দুই বছর কোনো বৈঠকে উপস্থিত হননি। গত মাসে দুটি ও চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও তিনি এখন গুরুতর অসুস্থ। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁকে ধানমণ্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে মামলা জটিলতায় ভারতে রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। সব মিলিয়ে ১২ সদস্য বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। ফলে ৫০ শতাংশের মতো নেতাকে নিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো নিতে হচ্ছে।

সূত্রগুলো বলছে, এ বাস্তবতায় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করার মতো সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে আছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, মো. শাজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও বরকতউল্লা বুলু।

এঁদের মধ্যে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল নোমান এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও ব্যাপকভাবে শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭(খ)(৬) উপধারায় ‘চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয়ভিত্তিক উপকমিটিসমূহের শূন্যপদ পূরণ করতে পারবেন।’