গোয়েন্দা ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের স্বত্ব বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক :   সেবা প্রকাশনীর ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আব্দুল হাকিমকে স্বত্ব দিয়ে কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে কপিরাইট অফিসের ঐ সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংস্কৃতিসচিব, রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস ও কপিরাইট বোর্ডকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এসংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।

গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আব্দুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেন।

তিন দফা শুনানি, দুই পক্ষের যুক্তি ও পালটা যুক্তি এবং তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের আলোকে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় কপিরাইট অফিস। এর ভিত্তিতে গত ১৪ জুন কপিরাইট অফিস এক সিদ্ধান্তে জানায়, ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের স্বত্বাধিকারী এর লেখক শেখ আবদুল হাকিম।

কপিরাইট অফিসের এমন সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও এ বি এম হামিদুল মিসবাহ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য শুনানি করেন। হামিদুল মিসবাহ বলেন, এ আদেশের ফলে এসব বইয়ের প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের কোনো বাধা থাকছে না।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের ছেলে কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৬ সালে সেবা প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ প্রকাশনী থেকে তিনি গোয়েন্দা সিরিজ ‘মাসুদ রানা’ ও ‘কুয়াশা’ বই প্রকাশ করেন, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।