ভারতে পেঁয়াজের মোকামগুলোতে দর বেড়েছে

নিউজ ডেস্ক :   অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের মোকামগুলোতে দর বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। গত তিন দিনে পাইকারি আড়তে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা বাজারগুলোতে সব ধরনের পেঁয়াজ দেড়গুণ বাড়তি দামে এখন বিক্রি হচ্ছে। অচিরেই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঢাকার ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, ভারতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে সেখানে দাম বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির এই সময়ে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এতে আমাদের বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহ পরে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বিকেলে মিরপুর-১ নম্বর বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। সকালে এই বাজারে ৬০ টাকা কেজি ছিল। আর তিন দিন আগেও ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন বলে জানান দোকানি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন, যা আগে ছিল ৩০ টাকা। এ হিসাবে পেঁয়াজের দাম দেড়গুণের বেশি বেড়েছে।

রাজধানীর অন্যান্য বাজার মহাখালী, মোহাম্মদপুর টাউনহল, মিরপুর উত্তর পীরেরবাগসহ অন্যান্য বাজারে খুচরায় গতকাল দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন দিন আগে সব বাজারে খুচরায় মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ ৬০ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এই সময়ে দেশি পেঁয়াজ ৩০ শতাংশ ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। গত ২৫ আগস্ট ৭৫০ টন পেঁয়াজ কেনার দরপত্র আহ্বান করেছে টিসিবি।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, এতদিন পেঁয়াজের দর স্বাভাবিক থাকায় টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করেনি। এখন বাজার স্বাভাবিক রাখতে আগামী সপ্তাহের শেষে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে টিসিবি।

আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ দিকে। নতুন পেঁয়াজ আসবে আরও চার মাস পরে। এই সময়ে আমদানি করা পেঁয়াজের ঘাটতি হলে গত বছরের মতো আবারও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হতে পারে। করোনা মহামারির এই সময়ে বাজার স্বাভাবিক রাখতে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

মিরপুর-১ নম্বর বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কানাইলাল সাহা জানান, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করেছেন। এখন মোকামে দাম বেড়ে যাওয়ায় ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ কম আসায় দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। ভারতীয় পেঁয়াজ এই বাজারে পাইকারি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসের শেষ সপ্তাহে পাইকারি ২০ থেকে ২২ টাকা ছিল।

পেঁয়াজের পাইকারি দামের এই অস্বাভাবিক চিত্র রাজধানীর শ্যামবাজারেও ছিল। আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারিতে দ্বিগুণ। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. রাকিব বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ এখন ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি করছি। বন্যায় ভারতের নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে তিন দিন ধরে দেশের বাজারে পাইকারিতে দাম বাড়ছে। ভারতের নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে উঠলে দু’সপ্তাহ পরে দাম কমতে পারে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে শ্যামবাজারে পেঁয়াজের অনেক সরবরাহ ছিল। তখন আড়তে বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি। পেঁয়াজের ভালো দাম না পাওয়ায় নতুন করে আমদানি বাড়াননি ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। ফলে আমদানি করা পেঁয়াজের সঙ্গে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় গত ৩০ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, গত মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের বাজারে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এ হিসাবে আমাদের এখানে কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়ার কথা। কিন্তু কেজিতে এরই মধ্যেই বেড়েছে ২০ টাকা।