সীমান্ত বিরোধ সমাধানে ভারত-চীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৈঠক

নিউজ ডেস্ক :    ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যেই সীমান্তে বিরোধ সমাধানে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংঘের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

শুক্রবার রাশিয়ার মস্কোর মেট্রোপোল হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে চলা বৈঠকে সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

বৈঠকে রাজনাথ সিং বলেছেন, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে গেলে সবচেয়ে আগে দরকার বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা। আগ্রাসন দেখিয়ে জোর করে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতিকে ভিত্তি করে দুই দেশ শান্তির শপথ নেবে।

গত জুন মাসে লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় ও চীনা সেনার মধ্যে সংঘর্ষের পরে এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হলো।

সাংহাই কর্পোরেশন (এসসিও) সম্মেলন উপলক্ষে তিনদিনের সফরে রাশিয়া গিয়েছেন রাজনাথ সিং। সম্মেলনে গিয়েছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার রাতে ওয়েই ফেংঘের সঙ্গে রাজনাথের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ ব্যাপারে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয় মস্কো। কারণ, কূটনীতিকদের মতে, এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ুক তা রাশিয়ার কাছে কোনও ভাবেই কাম্য নয়।

বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ১৯৬২ সালের পর চীন সীমান্তে এমন সমস্যা তৈরি হয়নি। বর্তমান অবস্থা ‘নজিরবিহীন’।

তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সীমান্ত সমস্যা প্রভাব ফেলতে বাধ্য। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিত সহযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রিংলা বলেন, গত কয়েক দশক ধরেই দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সব সময় শান্তির পথে সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়েছে। কখনও চায়নি সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হোক। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারত-চীন সেনা ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে।

গত শনিবার ভারতীয় সেনা প্যাংগং লেকের দক্ষিণে একাধিক পাহাড়ের চূড়া দখল করে নেওয়ার পরে চুশুল সেক্টরে উল্লেখজনক ভাবে সেনা বাড়াতে শুরু করে চীন। লেকের দক্ষিণে মলডোর কাছে অতিরিক্ত ট্যাঙ্কবাহিনী মোতায়েন করেছে তারা। পাল্টা জবাবে রেচিন লায় স্পর্শকাতর উঁচু স্থানগুলি দখল করে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে ভারতও।

তবে এই বৈঠকের পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

বৈঠকে প্রতিরক্ষাসচিব অজয় কুমার এবং রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ডি বি ভেঙ্কটেশ বর্মাও উপস্থিত ছিলেন।