প্রণব মুখার্জি ভৌগলিক সীমানার বাইরেও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন

নিউজ ডেস্ক :   এক আলোচনা সভায় বক্তারা ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ ও মানবিকতার জন্য ভৌগলিক সীমানার বাইরেও তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা আরো বলেন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মানুষের প্রতি সেবা সকল সীমানার রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। প্রণব মুখার্জি গত সোমবার নয়াদিল্লীর একটি পরলোকগমন করেন।

ভারতের প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রণব মুখার্জির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে বাংলাদেশের একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন উপলক্ষে নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এ আলোচনার সভার আয়োজন করে। প্রণব মুখার্জি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ভারতের তদানীন্তন তরুণ রাজনীতিবিদ প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রচার অভিযান চালান।

ভারতের রাজ্য সভায় প্রণব মুখার্জির প্রথম প্রস্তাব উত্থাপনের ফলেই সেদেশের সরকার ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন প্রবাসী সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।

প্রণব মুখার্জির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান বলেন, তিনি সামাজিক অবস্থান অথবা জাতীয়তা দেখে কখনও মানুষের সেবা করেননি। তিনি মানবতার সেবা করেছেন। তাই তিনি ভৌগলিক সীমানার বাইরের দেশগুলোতেও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মৃত্যুর পরও তাকে স্মরণ করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইমরান বলেন, প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন প্রকৃত বন্ধুকে হারিয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা-নয়াদিল্লী সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রণব মুখার্জির পিএস অভিজিত রায়, ভারতে প্রখ্যাত তিন সাংবাদিক গৌতম লাহিরি, জয়ন্ত ঘোষাল এবং স্মিতা শর্মাও আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ডেপুটি হাইকমিশনার এটিএম রকিবুল হক সভা পরিচালনা করেন।