আপিল বিভাগের দুই নতুন বিচারক শপথ নিলেন

 

নিউজ ডেস্ক :  দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি তারিক উল হাকিম এবং বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।  এতদিন হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এ দুই বিচারককে বুধবার আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাদের শপথ পাঠ করান।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারকরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।

নতুন দুই বিচারককে নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারকের সংখ্যা এখন আটজন।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ২০০২ সালের ২৯ জুলাই অস্থায়ী বিচারক হিসাবে হাই কোর্টে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর স্থায়ী হন।

তার বাবা বিচারপতি মাকসুম উল হাকিমও এক সময় হাই কোর্টের বিচারক ছিলেন, পরে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।

আর তারিক উল হাকিমের নানা বিচারপতি আমিন আহমদ গত শতকের পঞ্চাশের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ছিলেন।

১৯৫৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা তারিক উল হাকিম লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে আইন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর করেন। দেশে ফেরার পর ১৯৮৭ সালে জেলা বারে এবং দুই বছর পর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন।

সংবিধান ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৬৭ বছর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক থাকার সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি তারিক উল হাকিমের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। সেদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৭ সেপ্টেম্বরই হবে তার শেষ কর্মদিবস।

আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে শপথ নেওয়া বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫৯ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা ওবায়দুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৬ সালের মার্চে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

তার দুই বছর পর হাই কোর্ট বিভাগে এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

২০০৯ সালের ৩০ জুন হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০১১ সালের ৬ জুন সেখানে স্থায়ী হন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

পরের বছর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিছুদিন দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর কার্যক্রম বন্ধ হলে হাই কোর্ট বিভাগে ফেরেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতি ২০১৭ সালে যে সার্চ কমিটি করেছিলেন, তার সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।