রেলের লাগেজ-ভ্যান সংগ্রহে চীনা কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত

নিউজ ডেস্ক :    রেলওয়ের ১২৫ টি লাগেজ-ভ্যান সংগ্রহের লক্ষ্যে চীনের জয়েন্ট-ভেঞ্চার কোস্পানী সিএনটিক-রেলটেকো-জিনসি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে আজ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার রেলভবনে রেলপথ মন্ত্রী মো: নূরুল ইসলাম সুজন এমপির উপস্থিতিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো: মিজানুর রহমান এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চীনের জয়েন্ট-ভেঞ্চার কোম্পানী সিএনটিক-রেলটেকো-জিনসি’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইয়াং বিং।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: সেলিম রেজা এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা-পরিচালক মো: শামসুজ্জামান ও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ি ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ-ভ্যান মিলিয়ে মোট ১২৫টি লাগেজ-ভ্যান চীনের সিএনটিক-রেলটেকো-জিনসি কোম্পানী বাংলাদেশ রেলওয়েকে সরবরাহ করবে।

এ অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তিনি যাত্রী সেবার মান উন্নয়নসহ রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই অংশ হিসাবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছেন।’
নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, সরকার রেলওয়ে-সেক্টরের উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। বিশেষভাবে যাত্রী পরিবহন সেবার মান-উন্নয়ন এবং মালামাল ও বিশেষায়িত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর এসব লাগেজ ভ্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী থেকে আম পরিবহন করেছে। শাকসবজি ও নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন অব্যাহত ছিল এবং আছে। এছাড়াও রেলওয়ে কোরবানীর ঈদে পশু পরিবহন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কৃষকের পণ্য সরাসরি ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর উদ্যোগ হিসাবে লাগেজ-ভ্যান ক্রয় করা হচ্ছে। এতে করে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রেলওয়ের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। অনেক আগের করা কমিটি তাদের বক্তব্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। এটির ভুল ব্যাখ্যা মিডিয়ায় এসেছে।’

সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চীনা কোম্পানী সিএনটিক-রেলটেকো-জিনসি’ যেসব লাগেজ ভ্যান সরবরাহ করবে সেগুলো স্টেইনলেস স্টিলবডি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, উচ্চগতি সম্পন্ন বগি এবং অটোমেটিক এয়ার ব্রেক সিস্টেম সম্বলিত হওয়ায় সাধারণ ও বিশেষায়িত পণ্য, যেমন বিভিন্ন রকমের খাদ্য দ্রব্য ও অন্যান্য পঁচনশীল দ্রব্য প্রভৃতি কম খরচে ও কম সময়ের মধ্যে নিরাপদে গন্তব্য স্থলে পৌঁছাতে সক্ষম।

এতে বলা হয়, রেলওয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় আজ ১২৫টি ল্যাগেজ ভ্যান সংগ্রহের জন্য ৪,২৭,৪১,৫৬৯ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে, যা ৩ শ’ ৫৮ কোটি, ৩৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ (সিডি-ভ্যাট ব্যতীত)। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে ২০ মাসের মধ্যে সরবরাহ শুরু হবে এবং ২৭ মাসের মধ্যে সরবরাহ শেষ করতে হবে।