বাহরাইনের বাদশাহর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাহরাইন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন উপসাগরীয় দেশটির বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফা। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুই নেতার বৈঠকের পর বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কোনও অর্থ বহন করবে না। এর আগে মঙ্গলবার সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদাকও পম্পেওকে জানিয়ে দেন, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার সরকারের নেই। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

১৯৭৯ সালে মিসর ও ১৯৯৪ সালে জর্ডানের পর তৃতীয় আরব রাষ্ট্র হিসেবে গত ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপরই ইসরায়েল ও মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেন, অচিরেই আরও কয়েকটি আরব রাষ্ট্র একই পথ অনুসরণ করবে বলে আশা করছেন তারা। আর এতে রাজি করাতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পাঁচ দিনের সফরে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরের শুরুতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মঙ্গলবার সুদান পৌঁছান তিনি।

সুদান থেকে ফিরে বুধবার মানামায় বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ওই বৈঠকে বাহরাইনের বাদশাহ তাদের মিত্র এবং আঞ্চলিক শক্তি সৌদি আরবের অবস্থানের প্রতিধ্বনি করেন। আমিরাত-ইসরায়েল চুক্তিকে স্বাগত জানালেও রিয়াদ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর কোনও কাজে আসবে না।

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, তার দেশ এখনও আরব শান্তি উদ্যোগের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল। উল্লেখ্য, ২০০২ সালে আরব লীগের মাধ্যমে ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর দখল করা পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের সব এলাকা থেকে ইসরায়েলি দখল অপসারণ এবং সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে ইসরায়েল কোনও উদ্যোগই নেয়নি।

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ‘বাদশাহ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিরসনে পদক্ষেপ জোরালো করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন… যাতে করে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়।’ পরে এক টুইট বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করেন, বাহরাইনের রাজকীয় শাসকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ‘কেবলমাত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব এবং ইরানের ক্ষতিকারক প্রভাব মোকাবিলা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। মানামা সফর শেষে পাঁচ দিনের সফরের শেষ গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা রয়েছে পম্পেও’র।

উল্লেখ্য, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না করলেও ১৯৯০’র দশক থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ বজায় রেখেছে বাহরাইন। প্রথম আরব দেশ হিসেবে আমিরাত-ইসরায়েল চুক্তিকে স্বাগত জানায় তারা। ফলে অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করতে থাকেন আমিরাতকে অনুসরণ করবে মানামা। এদিকে, অন্য অনেক উপসাগরীয় দেশের মতো বাহরাইন ও ইসরায়েলের সাধারণ শত্রু ইরান। মানামার অভিযোগ, বাহরাইনের শিয়া জনগোষ্ঠীকে শাসক সুন্নি আল খলিফা রাজবংশের বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছে ইরান।