ময়মনসিংহে শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : বিনম্র শ্রদ্ধায় শোক ও ভালোবাসায় ১৫ আগষ্ট বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকে এ দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়।

শনিবার সকালে স্থানীয় সার্কিট হাউজ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম খালিদ এমপি, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মনিরা সুলতানা মনি ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটু।

পরে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিরঞ্জন দেবনাথ, রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, পুলিশ সুপার মোঃ আহমার উজ্জামান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এহতেশামুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ।


সকালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গনে শোকের মাস আগস্টব্যাপী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু।

শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বেদিতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী পলাতক আসামীদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার আহবান জানান। এরআগে সকালে কালিবাড়িস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এবং শীববাড়িস্থ মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয়, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ জোন অফিসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণছাড়াও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আলোচনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম আজাদ রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সওজ শ্রমিক কর্মচারী ইউণিয়ন ময়মনসিংহ জেলা সংসদ সভাপতি মোঃ আব্দুল খালেক প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন এবং নির্মলেন্দু গুণের ‘আজ আমি কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ কবিতা আবৃত্তি করেন সওজ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ফুলপুর) মোঃ আজিজুল হক।

 জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন অফিসে মুজিব চত্বর স্থাপন করা হয়েছে। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর  ৪৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে সেই মুজিব চত্বরে  দুর্লভ নানা প্রজাতির ১০০টি গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।  এরপর বিভাগীয় বন অফিসে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ.কে.এম রুহুল আমিন, সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফ, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান,  দৈনিক আজকের খবর পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মারফুয়া আক্তার মুনা ও হিসাব রক্ষক আক্তার হোসেন প্রমূখ।

অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির পাশাপাশি পাটগুদাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।