বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, সে অনুযায়ী সরকারের প্রস্তুতি চলছে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:    সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও দলীয় জনপ্রতিনিধিদের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সে হিসেবেই সব প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের নেতাকর্মীদেরও সজাগ থাকতে হবে। 

রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ নেতাদের অনির্ধারিত বিশেষ সভায় ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যার্তদের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেও নেতাকর্মীদের সরকার ও প্রশাসনের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। 

শেখ হাসিনা বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ঠ সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। তাই আমাদের আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে। ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী। ওই বন্যা ছিল দুই সপ্তাহব্যাপী। প্রাকৃতিক কারণে শ্রাবণ মাসের বন্যা দেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হয় এবং ভাদ্র মাসে তা দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে নেমে যায়। এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বরাবরের মত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী মর্যাদাপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটা সীমিত পরিসরে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করা হচ্ছে। জাতির পিতা সারাজীবন মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন। এদেশের মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন দিয়ে গেছেন। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও অব্যাহত রাখতে হবে। 

সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আযহায় সামর্থ্যবান সবাইকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। নেতাকর্মীদের কোরবানির পর নিজ নিজ এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে। 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম এমপি, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, এসএম কামাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রােকেয়া সুলতানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সভায় দেশের সার্বিক বন্যাপরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যাপরিস্থিতির অবনতি ও বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভার শুরুতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিকের বাবার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।