ডিটিএইচ জনপ্রিয় হচ্ছে না যে কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক: এদেশে ক্যাবল টিভি দর্শকদের মাঝে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ক্যাবল টিভির গ্রাহক কয়েক কোটি। অথচ সেই অনুসারে বাড়েনি এই খাতে সেবার মান।

বর্তমান বিশ্বে ক্যাবল সংযোগ চলে গেছে আধুনিক সিস্টেমে। ছোট একটি ডিস অ্যান্টেনা বাড়ির ছাদে বসিয়ে সেট-টপ বক্সের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলগুলো উপভোগ করা যায়। আধুনিক এই সেবার নাম ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম)।

প্রতিবেশী ভারতে ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) জনপ্রিয়। বাংলাদেশে এটি এখনো জনপ্রিয়তা পায়নি। না পাওয়ার পিছনে কারণ একটাই। ডিটিএইচের ব্যবসাটা একজনকে করতে দেয়া।

সরকার মোবাইল ফোনের মতো কয়েকটি কোম্পানিকে ডিটিএইচ সেবার লাইসেন্স দিলে এই খাতে প্রতিযোগিতা হতো। তখন সেবার মান উন্নত হতো। কম দামে এই সেবা গ্রহণ করতে পারত দেশের অগণিত গ্রাহক। আর এমনটা হচ্ছে না দেখেই, গ্রাহক পর্যায়ে ডিটিএইচের জনপ্রিয়তা নেই।

বাংলাদেশে একমাত্র বেক্মিমকো কোম্পানি আকাশ নামে ডিটিএইচ সেবা দিচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশে ডিটিএইচ সেবার মূল্য অনেক বেশি। আর এ কারণে দেশের বেশিরভাগ লোক এই সেবা নিতে আগ্রহী নয়। একাধিক কোম্পানি ডিটিএইচ এর লাইসেন্স পেলে এই সেবার মূল্য কমতো।

বাংলাদেশে প্রতিটি ঘরে চলছে ক্যাবলের মাধ্যমে স্যাটেলাইট টিভির প্রচার। মাসিক বিল বেশি ও চ্যানেল কম হওয়ার কারণে লোকজন ডিটিএইচের দিকে ঝুঁকছে না। ঢাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে।

বেক্সিমকোর ডিটিএইচ সেবা গ্রহণকারী এক বাসিন্দা জানালেন, আগে রিয়েল ভিউ নামে বেক্মিমকো ডিটিএইচ সেবা দিতো। সেই সেবার সঙ্গে নতুন সেবার তুলনা করলে আগেরটা ভালোই ছিল। তখন বহু ফ্রি চ্যানেল অন্য প্রিপেইড চ্যানেলগুলোর সঙ্গে দেখা যেত। আকাশ সংযোগে কোনো ফ্রি চ্যানেল নাই। আগে ৩০০ টাকা ছিল মাসিক ভাড়া।

এখন এক টাকা কম ৪০০ টাকা। আগে সার্ভিস, মাসের পর মাস বন্ধ রাখলে কোনো পুন সংযোগ ফি দেয়া লাগতো না। এখন ২০০ টাকা পুন সংযোগ ফি দেয়া লাগে।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো যখন উত্তরোত্তর সেবার মান বাড়াচ্ছে। গ্রাহকদের নতুন নতুন সেবা দিচ্ছে। আর আমাদের দেশে বেক্মিমকো কোম্পানি তাদের সেবা সুবিধা কমিয়ে দিয়েছে। তার উপর সার্ভিসের মূল্য বাড়িয়েছে। ডিটিএইচ সেবার লাইসেন্স কয়েকটি কোম্পানিকে দিলে সেবার মান ভালো হতো। তখন প্রতিযোগিতায় পড়ে মাসিক চার্জ কমানো হতো, চ্যানেলের সংখ্যাও বাড়তো। প্যাকেজের মূল্যও কমত। যেটা প্রতিবেশী ভারতে হচ্ছে। সেখানে একাধিক কোম্পানি ডিটিএইচ সেবা দেয়। যে কারণে প্রতিটি বাড়ির ছাদে একাধিক কোম্পানির ডিশ অ্যান্টেনা দেখা যায়।

বেক্মিমকো এককভাবে ডিটিএইচ এর লাইসেন্স পাওয়ার কারণে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো প্যাকেজ সাজিয়ে ও তার মূল্য ঠিক করে দিচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলো যখন প্রতিটি চ্যানেলের আলাদা মূল্য নির্ধারণ করছে, বেক্মিমকো সেখানে কয়েকটি বিশেষ ধরনের চ্যানেলকে একই প্যাকেজে রেখে মূল্য ঘোষণা করছে। যা সাধারণ গ্রাহকের সম্পূর্ণ স্বার্থ বিরোধী।

যেমন তারা খেলার সব গুলো চ্যানেলকে একই প্যাকেজে রেখে তার দাম ঘোষণা করেছে। তেমনি কার্টুনের চ্যানেলগুলোকে এক সঙ্গে রেখে প্যাকেজ ঘোষণা। ইংরেজি সিনেমা দেখার চ্যানেলগুলো নিয়ে একটি প্যাকেজ। আর লাইট নামে যে প্যাকেজ তারা ঘোষণা দিয়েছে তাতে নেই কোনো খেলার চ্যানেল,জনপ্রিয় ইংরেজি সিনেমার চ্যানেল কিংবা কোনো কার্টুনের চ্যানেল।

সরকারের অনুমতি নিয়ে বেক্মিমকো কোম্পানি ডিটিএইচ সেবা নিয়ে আসে। আর তাতে নতুনত্ব কিছু নাই। বরং ক্যাবলের চ্যানেল গুলোই ডিটিএইচ সংযোগে দেখানো হয়। পার্থক্য শুধু চ্যানেলের ছবি গুলো পরিষ্কার। কিন্তু এই সংযোগ পেতে একজন গ্রাহক কে প্রায় ৫০০০ টাকা খরচ করে সংযোগ কিনতে হয়। আর প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ টাকা দিতে হয়।

অন্যদিকে ক্যাবল সংযোগে টিভি প্রতি আদায় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর সংযোগ কিনতে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিলেই হলো। আকাশ সংযোগ পেতে গ্রাহকদের কিস্তির সুবিধা আছে। তারপরও শহরের অধিকাংশ লোক এই সেবা নিচ্ছে না। আবার যারা এই সেবা নিচ্ছেন তারাও পরবর্তীতে এই সেবা বন্ধ রেখে দিচ্ছে।